হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার অব্যবস্থাপনায় দিন দিন চরম আকার ধারণ করছে। অবহেলার কারণে রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে। এমনই এক ঘটনার জন্ম দেয় হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে। গত ১৯ অক্টোবর (রবিবার) এক নারী রোগীর ভর্তি ফাইল গায়েব হয়ে যায়, ফলে তিনি দীর্ঘ সময় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত থাকেন।
জানা যায়, হবিগঞ্জ শহরের জালালাবাদ এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন তার স্ত্রী মাহিশাকে পেটে ব্যথা নিয়ে গত ১৭ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলাকালে হঠাৎ তার ভর্তি ফাইলটি হারিয়ে যায়। রোগীর স্বামী ও স্বজনরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা খোঁজাখুঁজি করেও ফাইলটি খুঁজে পাননি।
পরে বিষয়টি হাসপাতালের তত্বাবধায়ককে জানানো হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স আলমগীরকে একটি ডুপ্লিকেট ফাইল তৈরি করার পরামর্শ দেন। কিন্তু ৫ ঘণ্টা পর, এক স্থানীয় সাংবাদিকের সহযোগিতায় আলমগীর হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের ডাক্তার রুমের পাশের ডাস্টবিন থেকে তার স্ত্রীর ভর্তি ফাইলটি উদ্ধার করেন।
এ সময় হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ও আরএমও অনুপস্থিত থাকায় বিষয়টি তাদের জানানো সম্ভব হয়নি। অবশেষে চিকিৎসা না পেয়ে আলমগীর তার স্ত্রীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে নেন।
এ ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটছে, অথচ কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এ বিষয়ে তত্বাবধায়ককের সাথে একাধিকবার মোবাইল নাম্বারের ফোন দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।