Connect with us

দূর্নীতি

স্ক্রিনশটে নয়ন মনির ক্যাসিনো কারবার

| নিরব প্রশাসন

Published

on

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌরসভার ওসমানী রোড ও আশপাশের মার্কেটগুলোতে কম্পিউটার ব্যবসার আড়ালে অনলাইন ক্যাসিনো কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগের পক্ষে এবার মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ। প্রতিবেদকের কাছে থাকা একাধিক স্ক্রিনশট ও অনলাইন চ্যাটের তথ্যে নবীগঞ্জের কম্পিউটার ব্যবসায়ী নয়নমণি সরকারের ক্যাসিনো সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিস্তারিত হিসাব উঠে এসেছে।


প্রাপ্ত স্ক্রিনশট অনুযায়ী, একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে “weekly commission” শিরোনামে ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহের হিসাব দেখানো হয়েছে। সেখানে মোট সংগ্রহ (Total Collection) দেখানো হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ওই অর্থের উপর কমিশন হিসাব করে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার টাকার বেশি পাওনার উল্লেখ রয়েছে।


চ্যাট বার্তায় দেখা যায়, বিদেশি নাম ব্যবহারকারী একাধিক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিয়মিত কমিশন, কাটছাঁট ও পরিশোধ সংক্রান্ত আলোচনা চলছে। কোথাও B2B অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স, কোথাও গ্যারান্টি মানি (ডিপোজিট) কাটার কথাও উল্লেখ রয়েছে। এসব কথোপকথন অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো পরিচালনার কাঠামোকেই স্পষ্ট করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—চ্যাটে একাধিক মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে অর্থ ভাগ করে পাঠানোর নির্দেশনা দেখা গেছে। বিকাশ ও নগদের ব্যক্তিগত নম্বর ব্যবহার করে অর্থ বণ্টনের তালিকাও স্ক্রিনশটে রয়েছে, যা মানি লন্ডারিং ও অবৈধ অনলাইন জুয়ার শক্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নবীগঞ্জ বাজারের এস এ প্লাজা মার্কেটের ভেতরে ‘নয়নমণি কম্পিউটার অ্যান্ড ট্রাভেলস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া এবং তিনতলা ভবন নির্মাণ নিয়ে এলাকাজুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ছিল। এবার স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে আসায় সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।


নয়নমণি সরকারের নাম এখন নবীগঞ্জ শহরে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে আলোচিত। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের দাবি, শুধু একজন নয়—নবীগঞ্জ শহরে আরও একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন ব্যবসার আড়ালে অনলাইন জুয়া পরিচালনা করছে। তবে নয়নমণি সরকারের নামই বারবার সামনে আসছে প্রমাণসহ।


এ বিষয়ে অভিযুক্ত নয়নমণি সরকার দাবি করেন,
“আমার বিরুদ্ধে যেসব কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিছু লোক আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।”

অন্যদিকে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোনায়েম মিয়া বলেন, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে নবীগঞ্জে অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসা আরও বিস্তার লাভ করবে এবং ভবিষ্যতে তৈরি হবে আরও অনেক ‘ক্যাসিনো সম্রাট’। তারা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

Exit mobile version