Connect with us

জাতীয়

চুনারুঘাটে থামছে না বালুখেকোদের তাণ্ডব, নোটিশ দিয়েই ‘দায়সারা’ পরিবেশ অধিদপ্তর

Published

on

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গাদাছড়া ও গিলানি ছড়ায় অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলনকারীদের তাণ্ডব কোনোভাবেই থামছে না। পরিবেশ অধিদপ্তর একাধিকবার নোটিশ দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহন না করায় বালুখেকোরা আগের চেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাইকপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রমজান মিয়ার নেতৃত্বে গিলানী ছড়ার হলহলিয়া ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় চলে বালু উত্তোলন। এসব বালু ট্রাক ও ট্রাক্টর যোগে পাচার করেন তার ভাই শাহজাহান মিয়া, ফরহাদ মিয়া, আবু সাঈম তালুকদার ও আব্দুর রউফ খান সহ একটি চক্র। এছাড়াও পানছড়ি এলাকার গাধাছড়া থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ মিয়ার ছেলে ফয়েজ মিয়া, ইউপি সদস্যের ভাই মাসুক মিয়া ও মাহফুজ মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে সিলিকা বালু।
একই এলাকার আসাদুজ্জামান, সুমন মিয়া ও শামীম মিয়া সহ কয়েকজনের নেতৃত্বে পাচার করা হয় জেলার বিভিন্ন স্থানে।  

এদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তর প্রাথমিক তদন্তে বালু লুটের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় গত বছরের ৪ নভেম্বর দুইটি নোটিশে ৪০ জন বালুখেকোকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়। সাতকার্য দিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও নোটিশ জারির ৩ মাস অতিবাহিত হলেও অজ্ঞাত কারণে এখন পর্যন্ত মামলা কিংবা পরবর্তী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি তারা। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তদের সাথে গোপন সমঝোতা হওয়ায় এখন পর্যন্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

এলাকাবাসী জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে গাদাছড়া ও গিলানি ছড়ার আশপাশের সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়াও চা বাগান ও ফসলি জমির ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ছড়া থেকে লাগাতার বালু উত্তোলনের ফলে জমির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে ছড়া ও নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে চুনারুঘাট উপজেলার ভূ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা অবিলম্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ড্রেজার ও এক্সকাভেটর জব্দ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের হবিগঞ্জের উপপরিচালক ড. মো: ইউসুফ আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

Exit mobile version