Connect with us

দূর্নীতি

নিলামের আড়ালে হাজার হাজার বাঁশ উধাও

| মহালদার–বন কর্মকর্তার যোগসাজশে

Published

on

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার পুটিজুড়ি বন বিট থেকে নিলামে ক্রয়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বাঁশ কাটার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহালদার ও বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।


বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বদরুল আলম নামে এক ব্যক্তি সাড়ে ৮ লাখ টাকায় পুটিজুড়ি বন বিটের আওতাধীন ৩ হাজার বাঁশ নিলামে ক্রয় করেন। নিলামের শর্ত অনুযায়ী, প্রথম কিস্তির টাকা জমা দেওয়ার পর মোট বাঁশের এক-তৃতীয়াংশ কাটার কথা থাকলেও বাস্তবে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বাঁশ কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


অভিযোগে বলা হয়, বন বিভাগের পুটিজুড়ি বিট কর্মকর্তা ও শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকর্তার সহযোগিতায় ইতোমধ্যে ৫ থেকে ৬ হাজার বাঁশ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে ২০ থেকে ৩০ হাজার বাঁশ কাটার পায়তারা চলছে বলেও একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন।


সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা জানান, তারা ইতোমধ্যে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার বাঁশ কেটে ফেলেছেন।


অন্যদিকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০টি বাঁশের ডি-ফরম ইস্যু করা হয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে—যদি নির্ধারিত অনুমতির মধ্যেই কাজ হয়ে থাকে, তাহলে অতিরিক্ত বাঁশ কীভাবে বন এলাকা থেকে বের হয়ে যাচ্ছে?


এ বিষয়ে পুটিজুড়ি বিট কর্মকর্তা আশরাফুল আলম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অতিরিক্ত বাঁশ বের করার সুযোগ নেই বলে দাবি করেন। তবে তিনি ক্যামেরার সামনে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।


অভিযোগের বিষয়ে মহালদার বদরুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অবগত নন বলে জানান। পাশাপাশি যারা বাঁশ কাটছেন তাদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে বন উজাড়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Exit mobile version