Connect with us

রাজনীতি

আপপ্রচারের জালে হবিগঞ্জের দুই নেতা

Published

on

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অপপ্রচারের ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হবিগঞ্জে বিএনপি নেতা এবং সমর্থকদের বিরুদ্ধে এক ধরনের নতুন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যেখানে তাদেরকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ভুয়া তথ্য, ফটোশপ করা ছবি এবং মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। দলের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে কোন্দল।

কীভাবে ছড়ানো হচ্ছে অপপ্রচার?

একটি সূত্র মিররকে নিশ্চিত করেছে সম্প্রতি বিএনপি নেতা সালেহ আহমেদ নাম একজন বাদি হয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে করা অভিযোগে সাবেক এমপি ও এসপি সহ ৫১ জনকে আসামী করা হয় যেখানে বিএনপি সমর্থক আপন দুই ভাইকে আসামি করা হয়েছে। তারা দুই ভাই আওয়ামী লীগের কর্মী প্রমান করতে ফটোশপ দিয়ে এডিট করা একটি কমিটির প্যাড নাম এবং সাবেক এমপি আবু জাহিরের সাথে এলাকার মানুষদের সাথে একটি গ্রুপ ছবিতে দেখা যায় ভুক্তভোগী আহাম্মদ আলীকে। শুধু ওই দুই ভাইকে আওয়ামী বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চড়াচ্ছে না চক্রটি এই অপপ্রচার থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউস।

সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত ঘটনা

সম্প্রতি বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি জলাল এবং সাধারণ সম্পাদক সেতুর সাথে ইফতারে মোঃ আলী হোসেন ( আহাম্মদ আলী) নামে একজন বিএনপি সমর্থকে ছবি গত (১৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখা যায়। এই ছবিকে কেন্দ্র করে গত (১৯ মার্চ) কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া সাক্ষরিত একটি চিঠিতে বলা হয়েছে ” গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর হবিগঞ্জের আওয়ামী সন্ত্রাসী আবু জাহিরের অন্যতম সহযোগী, অগাস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে হামলার মামলায় আসামী আহাম্মদ আলীকে সাথে নিয়ে গত ১৪ মার্চ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছেন এবং তার সাথে ইফতার করার সময় তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এমতাবস্থায়, সংগঠন বিরোধী এহেন কর্মকান্ডের জন্য আপনাদের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা, তা আগামী ৩ (তিন) দিনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এর সম্মুখে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হলো।”

দলীয় বিভক্তি তৈরি

বিএনপি সমর্থকদের দাবি বিস্তারিত না  জেনে এবং অনুসন্ধান না করে কেন্দ্রীয় নেতাদের এমন নোটিশ মোটেও কাম্য নয়, এমপির সাথে আহাম্মদ আলী যে ছবিটি দেখা গিয়েছে এটি সত্য তবে আওয়ামী নেতা হিসেবে নয় জনপ্রনিধির কাছে এলাকার মানুষদের সাথে নিজেদের এলাকার উন্নয়নের জন্য নাগরিক অধিকার আদায়ে গিয়েছিলেন এ সময় ছবি উঠানো হয়েছিল তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে নয় এমনটা দাবি মি: আলীর।

কেন এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি নেতাদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে:

• বিএনপির জনপ্রিয়তা কমানোর চেষ্টা: জনগণের মধ্যে ভুল বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া যে বিএনপির নেতারা আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন, ফলে দলের প্রতি আস্থা কমতে পারে।এমনকি বিএনপির অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা, যাতে নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্থাহীনতা বাড়ে।

নেতারা জানান হবিগঞ্জে বিএনপি নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদানের ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঘটনা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রেরই অংশ। এটি শুধু বিএনপি নয়, সামগ্রিকভাবে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকি। তাই তথ্য যাচাই করে গুজব প্রতিরোধ করা এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

স্বত্ব © ২০২৬ বাংলা মিরর | সম্পাদক : মোঃ খায়রুল ইসলাম সাব্বির