Connect with us

দূর্নীতি

ঘুষ না দেওয়ায় শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে আপত্তি

দুই কর্মকর্তার দুই লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি

Published

on

ছবি | রেঞ্জার তোফায়েল চৌধুরী এবং ফরেস্টার দিবাংকর

চাহিদামতো দুই লক্ষ টাকা ঘুষ না দেওয়ায় নাহার এগ্রো এন্ড গ্র‍্যান্ড পেরেন্ট লিমিটেডের জন্য কৃষি জমিকে কৃষি শিল্প কাজে ব্যবহারের অনুমতি দিতে আপত্তি জানিয়েছেন সিলেট বন বিভাগের শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শিল্প প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ম্যানেজার (লিগ্যাল ও এস্টেট) মোঃ ওয়াহিদুর রহমান। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ নাহার এগ্রো গ্র্যান্ড পেরেন্ট লিঃ নামে প্রতিষ্ঠানটিতে কৃষি শিল্প স্থাপনের জন্য জমি ক্রয়ের পূর্বানুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়। 

জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ

সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিস হতে উপজেলা কৃষি অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস, উপজেলা মৎস্য অফিস এবং শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জ অফিস মতামতের জন্য প্রেরণ করা হয়। সে অনুযায়ী উপজেলা কৃষি অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস, উপজেলা মৎস্য অফিস তাদের সহযোগী মনোভাব প্রকাশ করে সরেজমিনে পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী অফিস বরাবর অনাপত্তি পত্র মতামত সহ প্রেরণ করেন।

তোফায়েল স্বাক্ষরিত আপত্তি পত্র

কিন্ত শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জ অফিস এই ব্যাপারে কোনো সহযোগীতা না করে উপজেলা নির্বাহী অফিস হতে প্রেরিত চিঠি ফেলে রাখেন। পরবর্তীতে তিনি শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জ অফিসে যোগাযোগ করলে রেঞ্জ কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী তাকে শায়েস্তাগঞ্জ চেক স্টেশন কর্মকর্তা দিবাংকর রায়ের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

তিনি গত ২৫ জুলাই চেক স্টেশনে গিয়ে দিবংকর রায় এর সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি তার সামনে মোবাইলের মাধমে রেঞ্জ কর্মকর্তা তোফায়েল আহমদ চৌধুরীর সাথে কথা বলেন এবং তাকে জানায় সে যেন ২ লাখ টাকা ঘুষ প্রদান করতে হয়। অন্যথায় তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেগেটিভ রিপোর্ট প্রদান করা হবে। তিনি ঘুষ প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করে উপজেলা নিবাহী অফিসারকে বিষয়টি মৌখিক ভাবে অবগত করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফোনের মাধ্যমে রেঞ্জ কর্মকর্তা কে তাড়াতাড়ি রিপোর্ট প্রদান জন্য অনুরোধ করেন। সেই প্রেক্ষিতে স্টেশন কর্মকর্তা দিংবকর রায় গত ৩০ জুলাই সরজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে আবারও সে তাকে জানায় যদি তাদের দাবিকৃত টাকা প্রদান না করেন তবে নেগেটিভ রিপোর্ট প্রদান করা হবে।

পরবর্তীতে ৩১ জুলাই রেঞ্জ কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী কৃষি জমি অকৃষি কাজে ব্যবহারের অনুমতি না দিতে সুপারিশ জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসে রিপোর্ট জমা দেন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী ওয়াহিদুর রহমান বলেন, আগামী ২৪ তারিখ বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা সহ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, পরবর্তীতে অফিসিয়ালি বিস্তারিত জানানো হবে।

ঘুষ দাবির বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী বলেন, অফিসে চা খাওয়ার দাওয়াত রইল। আপনি বা আপনার প্রতিনিধি আমার অফিসে আসলে আমি এ ব্যাপারে বলব ইনশাআল্লাহ। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।

একই বিষয়ে ফরেস্টার দিবাংকর রায়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

Exit mobile version