Connect with us

মিরর বিশেষ

চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় ছাত্রকে ছুরিকাঘাত

Published

on

হবিগঞ্জ শহরে চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধি ছাত্র আন্দোলনকারী সোহাগ গাজিকে (২৫) ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। শুক্রবার (০৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে অপর ছাত্র আন্দোলনকারী সাকিবের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠেছে। আহত অবস্থায় সোহাগকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত সোহাগ গাজী বলেন, শহরতলীর উমেদনগর এলাকার বাসিন্দা সাকিব দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যবিরোধি ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। এর মধ্যে সাকিবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি এবং সিএনজি স্টেন্ড দখলের অভিযোগ ওঠে। যে কারণে সেসহ অন্যরা তাকে বাধা দিয়ে বিভিন্ন প্রগ্রাম করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সাকিব। 

সোহাগ গাজীর দেয়া ফেসবুক পোস্ট

আসসালামু আলাইকুম।

সবাই একটা বিষয় নিয়ে অনেক মন্তব্য করতেছেন। এবং ভূল বুঝতেছেন। আমি সোহাগ গাজী অনেক দিন যাবত সেচ্ছাসেবী হয়ে সামাজিক কার্যক্রম এর সাথে জড়িত। আজ পর্যন্ত আমার নামে সামাজিক কার্যক্রমে কোন দিন অহ কেও বলতে পারবে না যে আমার নামে কোন অভিযোগ অথবা দূর্নীতির সাথে জড়িত আমি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবে না।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিষয় নিয়ে কথা বলি। আমরা যখন শুরু থেকে আন্দোলনে অংশগ্রহন করি প্রত্যেক টা প্রোগ্রাম মারামারি সামনের সারি থেকেই অংশগ্রহণ করেছি এবং আমরা সফল অহ হয়েছি। না হয় আমরা যারা নেতৃত্বাধীন ছিলাম হয়তো আমাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যেতো।

এখন মূল কথা হলো সাকিব একা ত আর আন্দোলন সফল করেনি। হাজার হাজার মানুষ ছিলো। এর মাঝে নেতৃত্বাধীন কিছু মানুষ ছিলো যারা আন্দোলন কে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

গত কিছুদিন এর ঘটনা হলো যারা আন্দোলনে নেতৃত্বাধীন ছিলো এবং বিজয়ের পর থেকে সাকিব সবার থেকে আলাদা হয়ে যায়। আলাদা কাজ করে তাতে আমাদের কোন সমস্যা অহ নাই আমরা এর কোন কাজেই বাধা দেইনি।

বন্যায় যখন আমরা সবাই আলাদা আলাদা কাজ করি তখন সাকিব বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর ব্যানার এর নামে ফান্ড কালেকশন করে তাতেও আমরা কোন বাধা দেইনি। পরবর্তীতে দেখা যায় সাকিব কত টাকা কালেকশন হইছে তার কোন আপডেট দেয়নি। এই বিষয় নিয়েও অনেক মানুষ আমাদের সাথে উল্টাপাল্টা কথা বলছে। সাকিব কালেকশন করা টাকা টিএসসিতে দিয়ে আসে টিএসসিতে টাকা দেওয়ার পরেও আরো দুইদিন ফান্ড কালেকশন করে সাকিবের একটা গ্রুপ। যার পাবলিক পোস্ট করেছেন অনেকেই।

পরবর্তীতে আমরা আবারো শুনি একটা স্টেন্ড দখল এর ঘটনা নিয়ে সাকিব বিতর্কিত হয়েছে তাও আমরা কোন কথা বলিনি।

তারপর আবার সাকিবের গ্রুপের একজন খাদ্য গুদাম রোড এর পিন্টু নামের একজনের থেকে টাকা এবং চাল, ডাল, তেল নেওয়ার খবর পাই।

আমরা কেন্দ্রে ঘোষণা করা কোন প্রোগ্রাম ডাকলে সাকিব আমাদের পোস্ট করার অনেক পরে আমাদের ব্যানার এবং আমাদের ক্যাপশন কপি করে সেইম লোকেশন সেইম ডেইট শুধু আমাদের থেকে ১ ঘন্টা আগে প্রোগ্রাম এর টাইম দিয়ে পোস্ট করে।

সব কিছু মিলিয়ে আমরা সাকিবের থেকে আলাদা কাজ করি। এবং আমাদের কার্যক্রম ছিলো সদর হাসপাতাল নিয়ে, এস.পি স্যারের সাথে দেখাও করি আমরা। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক স্যারের সাথেও আমরা দেখা করি।

গতকালকের ঘটনা হলো আমাদের নবী কে অবমাননা করার জন্য যে আন্দোলন করা হয়েছিলো সেই আন্দোলন এক পর্যায়ে থানার সামনে আসে আমরা থানার গেইটে দারাই যেনো মানুষ থানার ভিতরে না ঢুকতে পারে। এক পর্যায়ে থানার গেইট খুলে মানুষ ভিতরে প্রবেশ করে পরবর্তীতে আমরা থানার সামনে থেকে সরে আসি সবাই। পরে সাকিব সহ সাকিবের গ্রুপ থানার ভিতরে অবস্থান করে। তারপর সাকিব বের হয়ে আসে এবং আমাদের সহযোদ্ধা ভাই রাসেল কে সাকিব সহ ২-৩ জন কথা বলার জন্য সদর হাসপাতালের সামনে নিয়ে যায় রাসেল ভাইয়ের সাথে আমরা সবাই যাই। পরে রাসেল ভাইর সাথে সাকিব খারাপ ব্যবহার শুরু করে তখন সাকিবের অই এক ছোট ভাই সামি সাকিবকে বোঝানোর চেষ্টা করে সাকিবে সামিকেও গালাগালি শুরু করে তাও খুব খারাপ ভাষায় তারপর আমি যখন বলি ছোট ভাইকে কেনো গালাগালি করতেছে তারপর সাকিব আমার সাথেও খারাপ ব্যবহার শুরু করে।
তারপর শাহ্ রাজিব আহমেদ রিংগন ভাই আমাদেরকে বলেন তুমরা এখন এখান থেকে চলে যাও আমরা বিষয়টি পরে দেখবো তারপর আমরা যখন চলে যাবো ঠিক তখনই সবার সামনে প্রকাশ্যে সাকিব সহ সাকিবের সাথের সবাই দেশীয় অস্ত্র টেডা, রামদা ফিকল নিয়ে আমাদের জানে মেরে ফেলার জন্য আক্রমণ করে। তখন সেখানে উপস্থিত রিংগন ভাই সহ মাহবুব ভাই এবং আরো অনেক মানুষ তাদের আটকানোর চেষ্টা করেন। পরে আমরা যখন ফেরত চলে যাই সাকিবের পুরো টিম আবার নিউ মুসলিম কোয়ার্টার হয়ে আমাদের কে মারার জন্য ধাওয়া করে আমরা তখন ছত্রভঙ্গ হয়ে সার্কিট হাউজের ভিতরে গিয়ে আশ্রয় নেই। আমরা প্রায় ২ ঘন্টার উপরে সার্কিট হাউজের ভিতরে নিরুপায় হয়ে আটকে ছিলাম।

এইদিকে সাকিব সবাইকে নিয়ে আমার বাসার দিকে আসে আমার পরিবারকে আক্রমণ করার জন্য এবং প্রকাশ্যে লাইভে এসে আমাকে জানে মারার হুমকি দেয়। তখনও আমরা সার্কিট হাউজের ভিতরে এক পর্যায়ে যখন আমি উত্তেজিত হয়ে আমার বাসায় যাওয়ার চেষ্টা করি সবাই আমাকে আটকায় এবং সেনাবাহিনীর দুইটি টিম বের হয়। সেনাবাহিনী খোজাখুজি করার পর না পেয়ে আবার চলে আসেন। তখন রাত আনুমানিক ১ টার উপরে। তারপর আমরা সবাই সিদ্ধান্ত নেই বাসায় ফেরত চলে যাবো সবাই সবার বাসার দিকে রউনা হয়।
সেইম আমিও আমার বাসার দিকে রউনা হই, আমাকে আমার একজন বড় ভাই রুবেল এবং আমার এক বন্ধু সিনেমা হল এর সামনে নামিয়ে দেয়। আমি হেঁটে হেঁটে বাসার দিকে আগাই বাসার কাছে আসতেই হেলমেট পরা সাকিব সহ আরো ৩-৪ জন আমাকে মারার জন্য চুরি এবং চাপাতি নিয়ে আসে এবং আমাকে এলোপাথাড়ি কুপানো শুরু করে। পরে আমার এলাকার পাহারাদার এবং এক বড় ভাই চিৎকার শুনে দৌড়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়।

তারপর আমি বিদ্যুৎ অফিসের সামনে গিয়ে বিদ্যুৎ অফিসের গাড়ি দিয়ে সাথে আরো ২-৩ জনকে নিয়ে সদর হাসপাতালে যাই। সাথে সাথে আমাদের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি গ্রুপে ভয়েজ দিয়ে জানিয়ে দেই তখন প্রায় রাত ১:৫০ এর মত হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার আমার চিকিৎসা শুরু করেন এবং আমি চিকিৎসারত আছি এখনো।
পরবর্তীতে আমি বাদি হয়ে থানায় মামলা করি। এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর দায়িত্বরত সবাই একটি জিডি করেন উনাদের নিরাপত্তার জন্য।

সবশেষে বলতে চাই খুব দ্রুত এর ব্যবস্থা না নিলে আবারো বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সাকিব ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হবিগঞ্জ শহরের সিনেমাহল রোড এলাকায় তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে সাকিব ক্ষিপ্ত হয়ে গাজীকে ছুরিকাঘাত করে। এতে সে গুরুতর আহত হলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এর আগে সোহাগ গাজীর বন্ধু ছাত্র আন্দোলনকারী মাহাদী হাসান তার ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের লাইভে এসে সাকিব তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন। একপর্যায়ে তারা সার্কিট হাউসে আশ্রয় নেন এবং সবাইকে ছুটে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

সাকিবের দেয়া ফেসবুক পোস্ট

সিলেট ভয়েস এর তথ্য অনুযায়ী, এ ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক ও সিলেটের প্রধান সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল-গালিব বলেন, ‘ঘটনার খবর শুনেছি, কিন্তু বিস্তারিত আমার জানা নেই। আসলে ওইখানে-তো আমাদের কোন দায়িত্বশীল কমিটি নাই যে কারণে আমরা প্রকৃত বিষয়টি পাচ্ছি না। আগামী বৃহস্পতিবার আমরা জেলা সফরে যাবো। ওইখানে যাওয়ার পরে সরাসরি সবকিছু তুলে ধরবো আমরা।’

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থনার (ওসি) নুরে আলম জানান, বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version