Connect with us

জাতীয়

জেলায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো ৩৩টি বজ্রনিরোধক দন্ড সচল না-কি অচল ?

Published

on

জেলার হাওর গুলোতে প্রায়ই ঘটছে বজ্রপাতের ঘটনা। বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও নবীগঞ্জসহ কয়েকটি উপজেলায় বজ্রপাত এখন মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছে। ফলে ধান কাটতে গিয়ে ভয়ে মাঠে নামতে চান না অনেক কৃষক। বৈশাখের শুরুতেই জেলায় বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, বজ্রপাত থেকে সুরক্ষায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জেলার বিভিন্ন স্থানে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো হয়েছে ৩৩টি লাইটিং অ্যারেস্টার। তবে এসব বজ্রনিরোধ দন্ড সচল না অচল জানেননা সংশ্লিষ্ট কর্তৃৃপক্ষ। গত কয়েক বছরে এসব যন্ত্র কোনো বজ্রপাত ঠেকাতে পেরেছে কিনা বিষয়টি সকলের অজানা। এ নিয়ে সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে সমালোচনা।  
জানা যায়, গত পাঁচ বছরে জেলায় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৭৯ জন। এদের মধ্যে ৫৫ জনই কৃষক।

এছাড়া আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ ও বানিয়াচংয়ে বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩ জন। 
গত ১৬ এপ্রিল (বুধবার) বিকেলে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা ইউনিয়নের হাওড়ের দক্ষিণের ঝিলেরবন্দ এলাকায় যান একদল ধান কাটার শ্রমিক। এসময় হঠাৎ করে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে দুই শ্রমিক বজ্রাঘাত হন। এতে ঘটনাস্থলেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার মোহনবাগ গ্রামের মনিরুল ইসলাম (২২) ও পার্বতীপুর গ্রামের আব্দুল্লাহিল কাফি (৪৫) নিহত হন। একই দিন নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের বনকাদিপুর গ্রামের হাওরে গুরু চরাতে গিয়ে বজ্রাঘাতে শাহ আলম (২১) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়।  নিহত শাহ আলম ওই গ্রামের মৃত আব্দুল আকিল মিয়ার ছেলে। 

এদিকে, গত ২৮ এপ্রিলল বানিয়াচংয়ের আড়িয়ামুগুর গ্রামের কৃষক দুর্বাসা দাস ভাই-বোন নিয়ে হাওরে ধান কাটতে যান।  আকস্মিক বজ্রপাতে সেখানেই প্রাণ হারান তিনি। গুরুতর আহত হন ছোট ভাই ভূষণ দাস ও বোন সুধন্য দাস। একই উপজেলার বাগহাতা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে বায়েজিদ মিয়া (১৩) নামে এক শিশু বজ্রঘাতে আহত হন। 

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র সূত্র জানায়, বজ্রপাত থেকে সুরক্ষায় ২০২১-২২ অর্থবছরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো হয় ৩৩টি বজ্রনিরোধক দÐ। এর মধ্যে বানিয়াচংয়ের ৪টি লাইটনিং অ্যারেস্টার বসানোর তথ্য পাওয়া গেছে। এসব যন্ত্র চারপাশের ১০৮ মিটার এলাকায় বজ্রপাত নিরোধ ও তথ্য সংরক্ষণ করার কথা রয়েছে। তবে গত তিন বছরে কোনো বজ্রপাতই নিরোধ করতে পারেনি সরকারের এসব যন্ত্র। 

প্রশ্ন উঠেছে, বাস্তবে এসব যন্ত্র সচল নাকি অচল, কিংবা আদৌ কার্যকর কি না? তা জানেন না কেউ। এছাড়া যেসব জায়গায় এই লাইটনিং অ্যারেস্টার বসানো হয়েছে, তা নিয়ে শুরু থেকেই নানা বিতর্ক ছিল বলে জানান অনেকেই। 

জেলা ত্রান ও পূুনর্বাসন কর্মকর্তা আজাদের রহমান বলেন, বিষয়টি টেকনিক্যাল, এগুলো সচল আছে কি-না সেটা বুঝার মত মেকানিজম আমাদের কাছে নেই। পরিধি কতটুকু জানিনা, তবে ১ থেকে ১৫০ ফুটের মধ্যে বজ্রপাত হয়েছে। 
জেলা প্রশাসক ড. ফরিদুর রহমান জানান, বজ্র্রনিরোধক দন্ডসহ অ্যারেস্টার নির্মানে ৪ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। স্থায়ীভাবে এর সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

Exit mobile version