দেশে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া ডিজিটাল পোস্টাল ব্যালট কার্যক্রমে হবিগঞ্জ জেলায় রেজিষ্ট্রেশন হওয়া ১০ হাজার নয়শত আটানব্বই ভোটারের ব্যালট গ্রহণ, বিতরণ ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়ার বিশাল কর্মযজ্ঞ হবিগঞ্জ পোস্টাল ডিপার্টমেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়,এ বছর দেশের সরকারি চাকরিজীবি, সরকারের কারা হেফাজতে থাকা ভোটার ও প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি মিলে ১০৯৯৮ জন হবিগঞ্জ জেলার চারটি সংসদীয় আসনের সম্মানিত ভোটারগণ পোস্টাল ভোট বিডি এপসের মাধ্যমে অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করেন।
এই অনলাইন রেজিস্ট্রশন কার্যক্রম সরকার ঘোষিত ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ পর্যন্ত চলে । উক্ত পোস্টাল ব্যালট খাম জানুয়ারি মাসের ৩০ তারিখ থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন বিকাল, সন্ধ্যা, কখনো গভীর রাতে রাস্ট্রীয় ডাক পরিবহনের মাধ্যমে ঢাকার তেজগাঁও এমপিসি( মেইল প্রসেসিং সেন্টার) থেকে হবিগঞ্জ প্রধান ডাকঘরে এসেছে। এসব ব্যালট পেপার সম্বলিত খাম সর্টিং করে রাতে ও সকালে রানারের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়া হয়েছে হবিগঞ্জ পোস্টাল ডিভিশনের ১২ টি উপজেলায়।
উপজেলার পোস্টমাস্টারগণ সর্টিং করে গ্রামে,গঞ্জে, শহরে অবস্থিত ভোটারের অবস্থান টেলিফোন বা মোবাইল ফোনে সনাক্ত করে বিলি করেছেন পোস্টম্যান ও পোস্টাল অপারেটরের মাধ্যমে।সময় স্বল্পতার দরুন কখনো কখনো শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও পোস্টমাস্টার নিজেই সাইকেলে বা গাড়িতে করে সংশ্লিষ্ট ভোটারের কাছে ব্যালট খাম পৌঁছে দিয়েছেন। আবার উক্ত ব্যালট সম্বলিত খাম পাওয়ার পর অনলাইন ভোট প্রদানের সকল প্রক্রিয়া শেষ করে নিকটস্থ পোস্ট অফিসে জমা দেয়ার পর স্পেশাল ব্যাগ বাঁধাই করে বর্নিত পোস্টাল ব্যালট হবিগঞ্জ প্রধান ডাকঘরে পৌছাতে হয়েছে।
অত:পর হবিগঞ্জ প্রধান ডাকঘর বা জেলা ডাকঘর উক্ত ব্যালটের ব্যাগ খোলে ব্যালট খামের উপরে লিপিবদ্ধ ভোটারের নিজ জেলা অনুযায়ী আলাদা ব্যাগ তৈরি করে ঐ জেলার প্রধান ডাকঘর বরাবরে পৌঁছানোর লক্ষে ডাক বিভাগের মেইল গাড়ির মাধ্যমে ঢাকা তেজগাঁ মেইল প্রসেসিং সেন্টারের উদ্দেশ্যে প্রেরন করা হয়। আবার উক্ত মেইল গাড়ী হতে দেশের বিভিন্ন জেলায় এবং বিদেশে অবস্থানরত হবিগঞ্জবাসীর পোস্টাল ব্যালট গ্রহনপূর্বক হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এভাবে ৩০ জানুয়ারি থেকে ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত রাত দিন একটানা ১৩ দিন এ কাজটি করেছে হবিগঞ্জসহ দেশের সকল পোস্ট অফিস। জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলার এ পুরো কার্যক্রম তদারকি, মনিটরিং, বিলিবন্টন ও সংগ্রহে নেতৃত্ব দিয়েছেন হবিগঞ্জ ডাক প্রশাসনের কর্ণধার সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেল জনাব মো: আব্দুল কাদের। তাকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগীতা এবং এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন হবিগঞ্জ প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার জনাব মো:মিজানুর রহমান, পোস্ট অফিস পরিদর্শক জনাব আবু ছালেহ মোহাম্মদ আল রাজি ও সূর্য লাল দাস। তারা ডিভিশনের গাড়িকে ‘ভ্রাম্যমাণ পোস্ট অফিস’ বানিয়ে সরকারি দপ্তরে সকাল বিকাল পোস্টাল ব্যালট খাম বিলি এবং ভোট প্রদনের পর ব্যালট সম্বলিত হলুদ খাম সংগ্রহ করেছেন যা ভোটারের জন্য সহজতর হয়েছে, সময় বেঁচেছে।
নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সরকারী কর্মচারী এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষে গণতন্ত্রের উত্তরণে ডাক বিভাগের এই সেবাবান্ধব কার্যক্রমকে জাতীয় পর্যায়ে ইতিবাচক ও হৃত গৌরব ফিরে পাওয়ার আলোক রেখা হিসেবে অভিহিত করছেন অনেকেই।
এ ব্যাপারে সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেল ( এপিএমজি) জনাব মোঃ আব্দুল কাদেরের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,”আমরা প্রবাসি ওসিভি বা আউট কান্টি ৫৩৩১ টি ভোট ও দেশের বা আইসিপিবি( ইনকান্টি পোস্টাল ভোট) ৫৬৬৭ টি ভোট নয়টি উপজেলার সকল পোস্টমাস্টার,অপারেটর,পোস্টম্যান, রানারদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় খুবই অল্প সময়ের মধ্যে বিলি ও সংগ্রহের সফল কার্যক্রম করতে পেরেছি।
ফলে পূর্বাঞ্চল সার্কেলে আমাদের সাফল্য শতভাগ হয়েছে।আমাদের সার্কেলে হবিগঞ্জ জেলার পারফর্মেন্স শতভাগ।এ কৃতিত্ব হবিগঞ্জ ডাকবিভাগের সকল কর্মচারীর।রাস্টীয় জনগুরুত্বপূর্ণ এ কার্যক্রমে আমরা বিশেষ ব্যবস্থায় অংশ করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দ অনুভব করছি”। আমি মনে করি, পরবর্তীতে যেকোন জনবান্ধব জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে ডাক বিভাগ বদ্ধপরিকর।