হবিগঞ্জ শহরের মোহন সিনেমা হলে আলোচিত কলেজ ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় প্রেমিক কাওসার মিয়া (২৫) এর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
উভয়ই প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় সামাজিকভাবে তাদের বিয়ে হবে বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে তার জামিন দেন আদালত। ভিকটিম ও তার পরিবার আদালতে উপস্থিত ছিলো।
গত শনিবার সকালে জনৈক ওই কলেজ ছাত্রীকে সিনেমা দেখানোর কথা বলে মোহন সিনেমা হলে নিয়ে আসে বানিয়াচং উপজেলার হিয়ালা গ্রামের হান্নান মিয়ার পুত্র প্রেমিক কাওসার। দু’তলায় তারা দুজনেই ছবি দেখে। ছবি চলার ফাঁকে কাওসার তাকে ধর্ষণ করে।
পরে জানাজানি হলে হাসপাতালে নিয়ে যায় কাওসার। কিন্তু এখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট ওসমানি মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে কাওসার পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে দেয়।
খবর পেয়ে সদর থানার এসআই ওয়াহেদ গাজি কাওসারকে থানায় নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায় তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক। বিদেশ থেকে আসার পর তাকে বিয়ে করার কথা রয়েছে। দুজনের সম্মতিতেই সিনেমা হলের ভেতর শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে।
কিন্তু সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে হাসপাতালে নিয়ে আসি। যদি বিয়ে দেয়া হয় আমার আপত্তি নেই। তবে ভিকটিমের পরিবার থেকে কোনো মামলা করতে রাজি না হলে কাওসারকে নিয়ে পুলিশ পড়ে বিপাকে। এদিকে মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হলে সমালোচনার ঝড় উঠে।
একটি প্রভাবশালী মহল কাওসারকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে দৌড়ঝাপ শুরু করে। পুলিশ গত রবিবার বিকালে কাওসারকে ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করে।
গতকাল সোমবার দুপুরে কাওসারের পক্ষে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফরোওয়াডিং পর্যালোচনা করে দেখেন ধর্ষণের ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে ভিকটিমকে আদালতে হাজির করতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিলে তিনি ভিকটিমকে আদালতে হাজির করেন।