Connect with us

জাতীয়

নোটিশ দিয়ে করাতকলে বন কর্মকর্তার চাঁদাবাজি।

Published

on

সিলেট বন বিভাগের শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে এবার নোটিশ দিয়ে করাতকল উচ্ছেদ ও মামলার ভয়-ভীতি দেখিয়ে ঘুষ ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গণহারে বৈধ-অবৈধ সকল স’মিলের মালিককে ৩ দিনের মধ্যেই উচ্ছেদ করার নির্দেশনা দিয়ে নোটিশ পাঠিয়ে এই চাঁদাবাজি করেছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জের ফরেস্ট গার্ড মাহমুদুল হাসান ও রুবেল মিয়ার মাধ্যমে নবীগঞ্জ উপজেলার সকল করাতকল মালিককে লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে ৩ দিনের মধ্যে অবৈধ করাত কল বন্ধ করতে অন্যতায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
করাতকল মালিকদের অভিযোগ, মাহমুদুল এবং রুবেল মিয়ার মাধ্যমে নোটিশ প্রদানের পাশাপাশি তাদের মুঠোফোনে রেঞ্জ কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরীর সাথে কথা বলিয়ে দেন। মুঠোফোনে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন। একই সাথে দুই দিনের মধ্যে দেখা করার আল্টিমেটাম দেন। এ সময় অনেকেই বাধ্য হয়ে মাহমুদুল ও রুবেলের কাছে চাঁদা দেন। বাকিরা রেঞ্জ অফিসে এসে তোফায়েল আহমেদ চৌধুরীর সাথে দেখা করলে মোটা অংকের উৎকোচ আদায় করেন।
আরেকজন বলেন, নোটিশ দেওয়ার পর মাহমুদুল তার হোয়াটসঅ্যাপে রেঞ্জ কর্মকর্তার সাথে কথা বলিয়ে দেয়। তখন তিনি ২০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে বলেন। আমাদের স’মিল সংরক্ষিত বনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে হওয়ায় আমাদের বৈধ হওয়ার সুযোগ নেই। তাই ভয়ে তাদেরকে ৪ হাজার টাকা চাঁদা। বাকিটা পরে দিব বলে তাদেরকে আশ্বস্ত করি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক করাতকল মালিক জানান, আমরা অবৈধ হওয়ায় মাসিক হারে একটা টাকা রেঞ্জ কর্মকর্তাকে দেই, কিন্তু ইদানীং তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী আসার পর মোটা অংকের ঘুষ দাবি করতেছেন।
আরো একাধিক করাতকল মালিক বলেন, আমরা নোটিশ পাওয়ার পর রেঞ্জে গেলে আমাদের কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমাদের করাত কল উচ্ছেদের পাশাপাশি আমাদেরকে মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ রেঞ্জের অধীনে ৭ টি উপজেলায় ১৮৭ টি করাতকল রয়েছেন। যার মাঝে ৯৯ টি বৈধ এবং ৮৮ টি অবৈধ।
অবৈধ করাতকল থেকে প্রতিমাসে নিজস্ব লোকবল দিয়ে মাসোহারা আদায়, বৈধ করাতকলের লাইসেন্স নবায়ন ও ইস্যুর ক্ষেত্রে মোটা অংকের ঘুষ আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তোফায়েল আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
নোটিশ দিয়ে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরীকে ক্ষুদেবার্তা পাঠালেও তিনি কোন জবাব দেননি।

Exit mobile version