সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন শুরুর পর গেলো দুইদিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক থানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় বিক্ষোভকারীদের হাতে থানা জ্বালিয়ে দেয়া থেকে শুরু করে, ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার দেশের ৪৫০টিরও বেশি থানা ‘আক্রান্ত’ হয়েছে।
সোমবার শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং দেশ ছাড়ার পর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজিত মানুষজন থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন।
কোন কোন থানায় হামলা ঠেকাতে গুলি এবং টিয়ারগ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ।
এসময় বেশ কিছু থানা থেকে সরে যায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
‘অধিকাংশ’ থানায় পুলিশ নেই
ঢাকার যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আদাবরসহ বিভিন্ন থানায় রাতভর হামলা এবং লটুপাটের ঘটনা ঘটে।
সোমবার দিনব্যাপী থানায় থানায় এসব হামলা হলেও রাতে বিভিন্ন থানা থেকে সরে যান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে মোহাম্মদপুর থানার সামনে গিয়ে বিবিসির সংবাদদাতারা দেখতে পান, পুরো থানা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
থানা ভবনের কয়েকটি রুম থেকে তখনো ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে। থানা প্রাঙ্গণে এখানে ওখানে পুড়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি গাড়ি, আর আসবাবপত্র ছড়িয়ে আছে।
থানার ভেতর থেকে ফ্যান, চেয়ার-টেবিল, ফ্রিজ, তোষক-বালিশসহ নানা ধরণের জিনিসপুত্র লুট হয়ে গেছে রাতেই।
ওই থানায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা সোমবারই নিরাপত্তা সংকটে থানা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন।
মোহাম্মদপুর থানার একজন এসআই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে জানান, থানার ভেতরে থাকা ‘সব অস্ত্র এবং গোলাবারুদ লুট হয়ে গেছে’।
তবে, হাজতখানায় যেসব আসামি ছিলো সোমবার সকালের মধ্যেই তাদের আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল, ফলে কোন আসামির ক্ষতি হয় নি।
মোহাম্মদপুর থানার দুই কিলোমিটারের মধ্যেই অবস্থিত আদাবর থানা। সোমবার সেখানেও হামলা এবং ব্যাপক লুটপাট হয়েছে।
ভবনের সামনে রাখা পুরনো গাড়ি, পিকআপ ভ্যান, মোটরসাইকেল লুঠ হয়ে হয়েছে। বিকল কয়েকটি পড়ে থাকা গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
থানার ভেতরের জিনিসপত্র সোমবার রাতেই লুট হয়ে যায়।
এই থানাতেও মঙ্গলবার কোন পুলিশ সদস্য দেখা যায়নি।
সোমবার বাড্ডা এবং ভাটারা থানাতেও হামলা হয়। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয় থানা ভবন।
থানার বাইরে রাখা সরকারি গাড়ি এবং থানার ভেতরে সবকিছুই পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে । এই দুটি থানা থেকেও সরে গেছেন পুলিশ সদস্যরা।
এছাড়া খিলগাঁও, কদমতলী, উত্তরা পূর্ব, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, লালবাগসহ বিভিন্ন থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা সোমবার সরে যান।
এসব থানায় একের পর এক হামলার মুখে নিরাপত্তার কারণে থানা ভবন ত্যাগ করার নির্দেশনা দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন ডিএমপির একটি থানায় কর্মরত একজন কর্মকর্তা।