চুনারুঘাট উপজেলার পানছড়ি গাধাছড়া থেকে এখনো পাচার হচ্ছে মূল্যবান সিলিকা বালু। রাতের আধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাচার করে কোটি টাকার বাণিজ্য করছে একটি চক্র। এতে করে পরিবেশ ও সড়কের ক্ষয়-ক্ষতির পাশাপাশি মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। পাচার চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কালীনগর এলাকার আব্দুল হাইয়ের ছেলে বিল্লাল মিয়া। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বালু মহাল ও পরিবেশ আইনে একাধিক মামলা হলেও কোন ভাবেই থামছে না তার তান্ডব। একসময়ের আওয়ামীলীগ নেতা বিল্লাল বর্তমানে খোলস পাল্টে বিএনপি নেতাদের ছত্রছায়ায় চালিয়ে যাচ্ছে লুটপাট। গত ১ বছরে অন্তত পাঁচ কোটি টাকার মূল্যবান সিলিকা বালু লুট করে নিয়েছে বিল্লালের নেতৃত্বাধীন এই চক্রটি। এছাড়াও প্রশাসনের সোর্স পরিচয়ে বালু বোঝাই গাড়ি আটকে করে যাচ্ছেন চাঁদাবাজি।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শানখলা ইউনিয়নের পানছড়ি এলাকার গাদাছড়া থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি চক্র। বালু লুটে বিল্লালের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন একই এলাকার মাহফুজ মিয়া, মাসুক মিয়া, ফয়েজ মিয়া, সুমন মিয়া, শামীম মিয়া ও আমজত উল্লাহ সহ কয়েকজন। চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করলে হামলা মামলার শিকার হতে হচ্ছে স্থানীয়দেরকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালিনগর এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চলাচলের রাস্তা। প্রতিবাদ করলে মারধরের হুমকি দেয় তারা। বিল্লালের নেতৃত্বাধীন চক্রটিকে চাঁদা না দিলে বালু পরিবাহী গাড়ি আটকিয়ে প্রশাসনের ভয় দেখানোর পাশাপাশি চালকদেরকে করা হয় মারধোর। প্রশাসনকে ম্যানেজের নামে বালুবাহী ট্রাক্টর থেকে আদায় করেন মোটা অংকের মাসোহারা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গাদাছড়ার ৮ নং বস্তি এলাকায় মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে রাখা হয়েছে আগেই । উত্তোলিত এসব বালু রাতের আঁধারে ট্রাক্টর যোগে হবিগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন অবৈধ ডিপুতে পাচার করা হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে ট্রাক যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে উচ্চমূল্যে বিক্রি করেন বিল্লাল ও তারা সহযোগীরা।
শানখলা এলাকার একব্যক্তি জানান, প্রতি রাতে ৩০-৪০ ট্রাক্টর বালু পাচার হয়। এতে করে শায়েস্তাগঞ্জ-দেউন্দি সড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
বালু পাচারের বিষয়ে বিল্লাল মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বালু কিনে বিক্রি করেন বলে দাবী করেন।