Connect with us

সাহিত্য

গোড়াপত্তন, প্রস্তুতি ও তৃণমূল পর্যায়ের গুরুত্ব

| মীর ফয়সল আহমেদ

Published

on

ছবি | মীর ফয়সল আহমেদ

বইমেলা বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের মেলা। ফেব্রুয়ারি মাসের পয়লা দিন থেকে  সাধারণত বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। তবে জেলা ও বিভাগীয় পযার্য়ে নভেম্বর কিম্বা ডিসেম্বর থেকেই শুরু হয়ে যায়। একুশে বইমেলা-২০২৬ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার । ভাষার মাসে বইমেলা আরো প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। তবে সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে বাংলা একাডেমি নিশ্চয়ই একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছেবে। 

এই বইমেলার সূচনা হয়েছিল ১৯৭২ সালে অসীম সাহা নামক একজন ব্যক্তির মাধ্যমে। যিনি বর্ধমান হাউজের সামনে চটের বস্তায় সাজিয়ে ৩২ টি বই নিয়ে শুরু করছিলেন বইমেলা, এটাই ছিলো মূলত বইমেলার গোড়াপত্তন। এখন বৃহৎ  আকারে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। বই মেলায় প্রকাশিত হয়, পুরাতন লেখক লেখিকা থেকে শুরু করে নবীন লেখকের বই। বইমেলার আগে ও পরে দারুণ ব্যস্ত থাকে প্রকাশকরা। প্রচ্ছদ আঁকা, প্রেসে নেওয়া ও বাইন্ডিং করা ইত্যাদি কাজ নিয়ে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলার স্টলগুলো জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে সাজানো হয়। তাকে তাকে সাজানো থাকে নবীন-প্রবীণ লেখকের বই। 

১৯৮৪ সালে সরকারি ভাবে একুশে বই মেলা আয়োজন করা হচ্ছে। প্রথমে বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে হলেও বৃহৎ আকারে আয়োজন করার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হচ্ছে। বইমেলা মূলত বাংলা ভাষাভাষীর মানুষজনের এক মেলবন্ধন। যেখানে শিশু পাঠক থেকে শুরু করে বু্ড়ো পাঠকদেরও আনাগোনা চলে। প্রতি বছর মেলায় কোটি কোটি টাকার  বই বিক্রি হয়। 

কিন্তু একুশে বই মেলা কেন্দ্রীয় বই মেলা হলেও মফস্বল শহরে বই মেলা তেমন আয়োজন করা হয় না। হলেও তা নিয়মিত হয় না। অজপাড়াগাঁ থেকে মানুষ কেন্দ্রীয় একুশে বই মেলায় যাওয়ার সুযোগ হয়ে উঠে না। মানুষের হাতের নাগালে বই পাওয়া যায় না বলেই প্রত্যন্ত এলাকায় পাঠক তৈরি করা যাচ্ছে না। মানুষ কে বই প্রেমী তোলার জন্য লাইব্রেরি মূখ্য ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বইমেলার গুরুত্ব অপরিসীম। 

তবে সেখানে সীমাবদ্ধতা রয়েছে হাতের পাশে তেমন পাবলিক লাইব্রেরি পাওয়া যায় না। ঢাকা মুখী হয়ে বই কেনা যাবে তেমন মানুষজনও কম, যারা তাদের পছন্দের লেখকের বই কিনে আনবে। তারা বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে বই কিনে নেয়। তবে বই মেলায় গিয়ে ঘুরে ঘুরে বই কেনার আনন্দ অসীম। ফাগুনের মলাটে তাদের স্বপ্ন, প্রেম, ভালোবাসার ও বিরহ খুঁজে পাবে। বই হলো পাঠকের নেশা, যে নেশায় বুদবুদ হয় প্রাণ।

বাংলা একাডেমি উপজেলা থেকে  জেলা পর্যায়ে মেলা আয়োজন করার দিকে নজর দেওয়া উচিত। সেটা ডিসেম্বর মাসে সবচে ভালো হয়। শীতকাল ছুটিতে।  বিভাগীয় পর্যায়ে প্রায় শহরেগুলোতে বই মেলার আয়োজন করা হলেও, জেলাগুলো তে সাধারণত বই মেলা আয়োজন করা হয় না। একুশে বইমেলা চলাকালীন সময়ে জেলা পর্যায়ে বই মেলা আয়োজন করা সম্ভব নয়। কারণ তখন একুশে বইমেলার অধিকাংশ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান স্টল নিয়ে থাকবে। কিন্তু যদি ডিসেম্বরের ৩য় সপ্তাহে জেলা পর্যায়ে বই মেলা আয়োজন করা হয়, তাহলে সাব আরবান কিংবা প্রত্যন্ত এলাকার কাছাকাছি মানুষের পাওয়া যেতে পারে। যদি বাংলা একাডেমি, এই উদ্যোগ টা নেয়, তাহলে জেলা পর্যায়েও বই মেলার আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন থাকবে। পাঠকেরা বই মেলায় তাদের পছন্দের কবি-লেখকের বই কিনতে পারবে। নতুন পাঠক তৈরি করা যাবে। 

Exit mobile version