Connect with us

জাতীয়

বাড়ি নয়, যেন পাগলাগারদ

Published

on

কেউ গান গাইছেন, কেউ হাসছেন, আবার কেউবা মানুষ দেখলেই তেড়ে আসছেন মারতে। বাড়ি তো নয়, যেন একটি পাগলাগারদ। হবিগঞ্জের বানিয়াচং সদরের ইনাতখানি গ্রামে শিকলবন্দি এই তিন ভাই-বোনের পাগলামি কর্মকাণ্ড দেখতে প্রতিদিন লোকজন ভিড় করে।

ইনাতখানি গ্রামের বাসিন্দা মনজুর আলী বড়বাজারে ফার্নিচারের ব্যবসা করতেন। তিনি ১৫ বছর ধরে পায়ে ইনফেকশনের কারণে অচল হয়ে ঘরবন্দি রয়েছেন। তার ৫ সন্তানের মধ্যে তিনজনই এখন পাগল। বাকি দুই সন্তানও পাগল হয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তায় রয়েছেন মনজুর আলী ও তার স্ত্রী রিনা বেগম।

প্রথমে তার ৪র্থ ছেলে ৩০ বছর বয়সী কামাল মিয়া হঠাৎ পাগলামি শুরু করেন। গত ৫ বছর ধরে তিনি পুরোপুরি পাগল। এরপর পাগলামি শুরু করেন ৩৬ বছর বয়সী দ্বিতীয় ছেলে সুয়েল মিয়া। তিনি এইচএসসি পাশ করার পর থেকে পুরোপুরি পাগল হয়ে শিকলবন্দি রয়েছেন। সর্বশেষ পাগলামি শুরু করেন ২৩ বছর বয়সী এইচএসসি পাশ করা মেয়ে শিউলি আক্তার। তিনজনই এখন নিজ বাড়িতে শিকলবন্দি অবস্থায় দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন। বাকি দুই ছেলেও কখন পাগল হয়ে যায় এ চিন্তায় ভীত রয়েছেন মনজুর আলী।

এদিকে তিন পাগল সন্তানকে সামলাতে গিয়ে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মনজুর আলী। তাই অনাহারে অর্ধাহারে চলছে এই পরিবার। অর্থাভাবে সন্তানদের চিকিৎসাও করাতে পারছেন না তিনি। সন্তানদের কথা বলতে গেলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মা। মানবিক কারণে সরকার ও সচেতন মহলের কাছে সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন অসহায় এই দম্পতি। 

পাগল সন্তানদের বাবা মনজুর আলী জানান, আমার তিন সন্তান শিকলবন্দি পাগল। আরও দুটি সন্তান নিয়ে চিন্তায় আছি, তারাও পাগল হয়ে যায় কিনা। আমি নিজেও অসুস্থ। এ অবস্থায় সরকারি সহযোগিতা না পেলে আমাদেরকে না খেয়ে মরতে হবে। 

বানিয়াচং উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী জানান, উপজেলা থেকে সরকারি যেসব সুবিধা দেয়ার আছে, আমরা তাদেরকে দেয়ার চেষ্টা করব। তবে সচেতন সকল মহলেরই এগিয়ে আসা উচিত।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version