Connect with us

মিরর বিশেষ

লাখাইয়ে নদী দখলচেষ্টায় প্রভাবশালী

Published

on

লাখাই উপজেলার ফরিদপুর মৌজায় ইজারা দেয়া নদীর চর ভেকু দিয়ে খনন করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করছে একটি প্রভাবশালী ভূমিখেকো চক্র। এ ব্যাপারে জমির ইজারাদার আদালতে মামলা দায়ের করলেও প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নিরবতা পালন করছে। এই বেআইনী খননের ফলে নদীর চরে ফসল ফলন অনিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায় লাখাই উপজেলার সীমান্ত দিয়ে বরাক নদী প্রবাহিত। এই নদী দিয়ে শত শত নৌকা চলাচল করে। নদীর পানি দিয়ে শত শত একর জমিতে ফসল ফলানো হয়। সেখানে দেশীয় প্রজাতির মাছও পাওয়া যায়। নদীর চরে অনেকেই সব্জি আবাদ করেন। ফরিদপুর মৌজার ১নং খতিয়ানের ১৩১০ ও ১৩১১ দাগের বরাক নদীর ২একর ৩৩শতক চর রকম ভূমি ইজারা নিয়ে ফসল ফলিয়ে ভোগদখল করে আসছেন কিশোরগঞ্জের অস্টগ্রাম উপজেলার পশ্চিম বাজুকা গ্রামের মৃত আমিনুল ইসলাম এর স্ত্রী সেলিনা আক্তার। সেখানে তার ব্যাক্তিগত ভূমিও রয়েছে। নদীর এই চরের জমি দখলের জন্য বাহিনী সৃষ্টি করে বানিয়াচং উপজেলার পূর্ব বাজুকা গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে হাবিব মিয়া, কিশোরগঞ্জের অস্টগ্রাম উপজেলার পশ্চিম বাজুকা গ্রামের মৃত নুর মিয়ার ছেলে আহিদ মিয়া ও মৃত ধনু মিয়ার ছেলে নশা মিয়া বিভিন্ন সময় মহড়া দেয়। এ ব্যাপারে সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। দরখাস্ত মামলা নং ১১৬৬/২৫(লাখাই)। এই মামলা দায়েরের পর ভূমিখেকো চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। মামলা থাকার পরও গতকাল বিকেলে তারা ভেকু দিয়ে নদীর চর কেটে গতিপথ পরিবর্তনের কাজ শুরু করে। এ ব্যাপারে সেলিনা খাতুন জেলা প্রশাসক,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও লাখাই থানার ওসি বরাবর আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাননি।


এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামিম হাসনাইন মাহমুদ বলেন, নদীর জমি যখন ইজারা দেয়া হয় তখন তা দেখার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। তারপরও আমরা খবর নিয়ে দেখছি কারা এর সাথে জড়িত।


এ ব্যাপারে অভিযোগ এর প্রতিলিপি লাখাই উপজেলা ইউএনও অফিসে সরাসরি কথা বলে অভিযোগকারী জমা দিলে ইউএনও প্রতিকার এর আশ্বাস দিলেও কার্যত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায় নাই।


অভিযোগ এর প্রতিলিপি লাখাই থানা ইনচার্জ এর কাছেও জমা প্রদান করা হয়।থানা থেকে কর্তব্যরত মুন্সি জানায়,সরাসরি তারা প্রতিলিপি অফিসিয়ালি গ্রহন করতে পারবে না,যতক্ষণ পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আদেশ না আসবে ততক্ষণ তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না।এরপর অফিসার ইনচার্জ এর সাথে অভিযোগকারী কথা বললে অভিযোগকারী প্রথমে জানানো হয়,এইটা ইউএনও অফিসের কাজ,অতএব ইউএনও কর্তৃক অফিসিয়ালি আদেশ আসলে তারা পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।পরে আবারও যোগাযোগ করলে অফিসার ইনচার্জ বরাবর পুনরায় অভিযোগ দাখিলের পরামর্শ দেন।


অভিযোগকারী পুনরায় অফিসার ইনচার্জ বরাবর অভিযোগপত্র জমা দিলে বুল্লা ইউনিয়ন এর দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই জানান, প্রথমত,ঘটনাস্থল অনেক দুরে এবং যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভালো না,তাই যেতে পারবেন না,দ্বিতীয়ত এইটা ভুমি অফিসের কাজ,এই কাজ তাদের উপর ঠেলে দেওয়া অনুচিত, তৃতীয়ত বিষয়টি পাশাপাশি ২ বিভাগের ২ জেলার ২ উপজেলার সম্মিলিত বিষয়, এক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়া যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ এবং কঠিন।

Exit mobile version