সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার দিনক্ষণ গণনা শুরু। এই উৎসবের প্রধান উপজীব্য প্রতিমা। আর এই উৎসবকে ঘিরে সারা দেশের ন্যায় হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। ফলে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। দেবী দূর্গা, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মীকে আকৃতি দিতে ঘাম ঝরাচ্ছেন তারা। রাত দিন চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। শিল্পী আর সহযোগিরা মিলে বানাচ্ছেন দূর্গার প্রতিমা। মাটি আর খড় পানি দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে এসব প্রতিমা। এরপর এতে দেওয়া হবে রং। এক সেট প্রতিমার জন্য দেবী দুর্গা ও তার চার সন্তান সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মীকে বানানো হয়ে থাকে। পাশাপাশি থাকে অসূর, সিংহ, হাঁস, প্যাঁচা ও সাপ। রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার মোড়াকরি, স্বজনগ্রাম পালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায় প্রতিমা তৈরিতেব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।
মোড়াকরির নিত্যানন্দ পাল বলেন, পূজার জন্য সাধারণত তিন মাস আগে থেকে কাজ শুরু করতে হয়। আমাদের প্রতিমার কাজ চলছে।বর্তমানে মাটি, রং, বাঁশের দাম বেড়ে গেছে। আগে এক সেট দূর্গা প্রতিমা তৈরি করতে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন তা বেড়ে ৬০/৭০ হাজার টাকার বেশি হয়ে গেছে।
স্বজন গ্রামের সজল পাল বলেন, অর্ডার তুলনা মূলক কম, আশাকরি সামনে বাড়বে।
লাখাই উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রানেশ গোস্বামী জানান, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৬২টি মন্ডপ ও মন্দিরে শারদীয় দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজারিরা যেন নির্বিঘ্নে পূজা করতে পারে সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশও কাজ করছে।
কথা হলে লাখাই উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব বলেন, এবছর পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য ১০২ জন আনসার ও ভিডিপি নিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪ জন পুরুষ আনসার ও ৩৮ জন নারী। তিনি আরো বলেন সরকারের নির্দেশনা পেলে আরো আনসার সদস্যের সংখ্যা বাড়তে পারে।
লাখাই উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদ এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশীষ দাশগুপ্ত বলেন আগামী ২ অক্টোবর মহালয়াতে চন্ডী পাঠের মাধ্যমে মর্ত্যলোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে দেবী দুর্গাকে। এরপর ৯ অক্টোবর বুধবার থেকে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসব শুরু হবে।