শঅয়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার কার্যসহকারী নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নিতীর জন্য তদন্ত কমিটি গঠন কওে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করার কারণে ৯/১/২৬ইং তারিখের ৫ম অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উম্মে সাদিক রুমাইয়া স্বাক্ষরিত পত্রে ৩ (তিন) কর্মদিবষের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবওে নির্দেশক্রমে পুনঃ অনুরোধ করা হয়। উক্ত অভিযোগ পত্রে ২০ বছর ধরে একই কর্মস্থলে থাকা শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় গড়ে উঠা সিন্ডিকেট নেতা কার্য-সহকারী নুরুল ইসলাম চাকুরীতে অনুপস্থিত থাকার ৫ বছর পর পূর্ণবহাল হয়ে অনিয়ম ও দূর্নিতী কারণে ৪ জন পৌর নাগরিকের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তাকে অন্যত্র বদলীর আবেদন করা হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা জুলাই ২৪ এর গণ অভ্যুত্থানের পর পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র অপসারিত হওয়ার পর থেকে কার্যসহকারী নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়। নাগরিকত্ব সনদ, ওয়ারিশান সনদ, ইমারত অনুমোদন সহ যে কোন বৈধ নাগরিক সেবায় নুরুল ইসলামের গ্রীন সিগনাল লাগে। আবার তার গ্রীন সিগনাল থাকলে নিয়ম বহিভূত অবৈধ কাজও বৈধ হয়ে যায়। নুরুল ইসলামের স্বজন প্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে চাকুরী লাভ করেন। পরবর্তীতে মোঃ ছালেক মিয়া মেয়র নির্বাচিত হলে ২০১৬ইং থেকে ২০২০ইং পর্যন্ত নুরুল ইসলাম অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ লাভের কারণে ও বিভিন্ন দুর্নিতির জন্য বিচারের মুখামুখি হওয়ার ভয়ে তিনি চাকুরী ছেড়ে মুদির দোকানের ব্যবসা করেন। পরবর্তীতে ২০২১ইং সালে নুরুল ইসলামের মামাতো ভাই এমএফ আহমেদ অলি মেয়র নির্বাচিত হলে স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের কোন নির্দেশনা ছাড়াই কার্য সহকারী মোঃ নুরুল ইসলাম পুনরায় অনিয়মের মাধ্যমে চাকুরীতে যোগদান করেন। যাহা পৌরসভা চাকুরী বিধিমালা ১৯৯২ এর পরিপ্রন্থি। তিনি ৫ বছর পর আইন লংঘন করে চাকুরীতে যোগদান করেই ক্ষান্থ হননি বরং পরবর্তীতে বকেয়া বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা উত্তোলন করে যাহা বিধি বহির্ভূত ও সরকারী অর্থ আত্বসাতের শামিল। ফলশ্রুতিতে পৌর নাগরিকদের মধ্যে নুরুল ইসলামে বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরী হলেও তার হাত অনেক লম্বা হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার সাহস পান না। এমনকি ইতোপূর্বে দায়িত্ব পালনকারী প্রকৌশলী, পৌর নির্বাহি এমন কি বর্তমান কর্মরত প্রকৌশলী, পৌর নির্বাহীদের সাথে অসৌজন্যমুলক আচরন করা নিত্য নৈমত্তিক বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। বর্তমান পৌর প্রশাসনের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সকল অনিয়ম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো এবং চরিত্র হননের মতো হীন কার্যে লিপ্ত রয়েছেন। নুরুল ইসলাম সিন্ডিকেটে অতিষ্ট হয়ে সাধারণ পৌরবাসীর পক্ষে গত ২/৬/২৫ইং তারিখে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ বড়চরের জনাব মাওলানা জুবায়ের আল হাসান বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সিলেটে ১ম লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১নং ওয়াডের্র পশ্চিম বড়চরের জনাব নজরুল ইসলাম ১৬/৭/২৫ইং তারিখে নুরুল ইসলাম সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সিলেটে ২য় অভিযোগ দায়ের করেন। যার প্রেক্ষিতে ১২/৮/২৫ইং তারিখে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পরবর্তীতে ৭ নং ওয়ার্ডের কুটিরগাও এর নার্গিছ আক্তার সিমরান নামক একজন মহিলাও নুরুল ইসলাম, গংদের বিরুদ্ধে ৩য় অভিযোগ দিলে ৮/৯/২৫ইং তারিখে জেলা প্রশাসক, হবিগঞ্জ কার্যালয়ে ৩য় অভিযোগ দায়ের করেন। যার প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার, হবিগঞ্জ কার্যালয় থেকে ২৫/১১/২৫ইং তারিখে পৌর প্রশাসককে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। পরবর্তীতে ৬নং ওয়ার্ডের শামীম আহমেদ নুরুল ইসলামের অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভাগীয কমিশনারের কার্যালয়ে ৪র্থ অভিযোগ দায়ের করেন। ফলশ্রুতিতে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৯/১২/২৫ইং তারিখে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। এ ব্যাপের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব নাহিদ হোসেন বিধি মোতাবেক ৬ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত তদন্ত করার কথা বললেও এখন পর্যন্ত কোন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় নাই বলে জানা যায়। এ বিষয়ে দেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকা মানবজমিন, শীর্ষ নিউজ, বিপিএন, মিরর সহ স্থানীয় খোয়াই, প্রভাকর, বিজয়ের প্রতিধ্বনি, হবিগঞ্জের মুখ সহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার সিন্ডিকেট নেতা নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাকুরীচ্যুতি দুরে থাক নিয়মিত বদলীর মতো ব্যবস্তাও গ্রহন করা হয়নি। যদিও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের নির্দেশে কর্মচারী জহিরুল ইসলামকে মাধবপুর পৌরসভায় বদলী করা হয়েছে। কিন্ত সিন্ডিকেট প্রধান নুরুল ইসলাম বহাল তবিয়তে আছেন। অভিযোগকারী শামীম আহমেদ জানান ওয়ারিশান সনদের জন্য নুরুল ইসলামের গ্রীন সিগনাল না থাকায় পৌরসভায় ওয়ারিশানের আবেদনই জমা দিতে পারেন নাই। জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়েন সচিবের কার্যালয় থেকে নির্দেশ ক্রমে পত্র প্রেরণ করার পরও তাকে ওয়ারিশান সনদ প্রদান করা হয় নাই। যদিও নুরুল ইসলামের মামাতো ভাই মেয়র বরখাস্থ হওয়ার পর ২০২৫ইং সনে প্রশাসক তাকে ওয়ারিশান সনদ দিয়েছেন। এছাড়া নুরুল ইসলাম সিন্ডিকেটের একজনের আতœীয় পৌরসভা আইন ২য় তফসিলের ৩৫ ধারা ও বিল্ডিং কোড লংঘন করলেও নুরুল ইসলামের গ্রীন সিগনাল থাকায় সহকারী প্রকোৗশলী রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ২টি নোটিশ এবং পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, হবিগঞ্জ ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, সিলেট থেকে পৌরসভা আইন ও বিল্ডিং কোড অমান্যকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশে পৌর প্রশাসক/ উপজেলা নির্বাহী অফিসার পল্লব হোম দাস স্বাক্ষরিত ২টি সহ মোট ৪টি নোটিশে অবৈধ বিল্ডিংয়ের নকশার অনুমোদন বাতিল করার পরও কার্য সহকারী নুরুল ইসলামের গ্রীন সিগনালে অবৈধ বিল্ডিংয়ের নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। বিগত ২৪/১১/২৫ইং তারিখে দুর্নিতী দমন কমিশনের চেয়ারম্যান মহোদয়ের উপস্থিতে হবিগঞ্জ জেলায় গণ শুনানীতে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করিলেও হবিগঞ্জ দুর্নীতি দমন আঞ্চলিক অফিসের ৩য় শ্রেণির কর্মচারীদের সাথে নুরুল ইসলামের যোগসাজস থাকায় উক্ত অভিযোগটি গণ শুনানীতে উপস্থাপিত হয় নাই। শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় তথ্য ফরমে নুরুল ইসলামের ২০১৬ ইং থেকে ২০২০ইং পর্যন্ত সালের নিয়মিত বেতন উত্তোলনের বিবরণী চেয়ে আবেদন করিলেও নুরুল ইসলামের প্রভাবের কারণে তথ্য অধিবকার আইনেও নুরুল ইসলামের বেতন ভাতাদীর তথ্য দেয়া হয় নাই। এ বিষয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় অনেক গুলি সংবাদ প্রকাশিত হলেও নুরুল ইসলামকে শাস্তি দেয়া দুরে থাক ২০বছরের কর্মস্থল থেকে নুন্যতম বদলী করা হয় নাই। এবার দেথা যাক বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, সিলেট থেকে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব নাহিদ হোসেন ৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার মাধ্যমে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমুলক ব্যবস্তা গ্রহন করা হয় কি না। ভোক্ত ভোগী এলাকবাসী আশা প্রকাশ করছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে হলেও কার্যকর ব্যবস্তা নেয়া হবে। অন্যতায় রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসলে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে না বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন ভোক্তভোগী এলাকাবাসী।