বাংলার আকাশে কালো মেঘ
জমিনে ঝরছে রক্ত বৃষ্টি
রাইফেল তাক করিয়ে যে পুলিশ গুলি ছুঁড়ছে
সেও সন্তানের বাবা, এক পাষান্ড পিতা।
পিচঢালা কালো পথে দাঁড়িয়ে
আমি বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলতে এসেছি—
আমি রংপুরের আবু সাঈদ;
আমার বুকের জমিন—
গণতন্ত্র আর মানচিত্রের চেয়েও সুদীর্ঘ।
রক্তে রঞ্জিত কালো টিশার্টে
আমার অধিকারের কথা লিখা আছে
যে বুলেটে আমার মায়ের বুকে হাহাকার জমেছে,
বোনের চোখে অশ্রু—
সেই বুলেট আমার বাবার ঘামের দামে কেনা!
শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে যে মানুষগুলো লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলো
তাদেরও একেকজন মা আছে, আছেন বাবাও।
আমারই বাংলায় যখন দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে—
লাশের মিছিল করতে করতে
আমার থুতি চেপে ধরে
মুখে তারকাঁটা বসানোর চেষ্টা করে—
এই বুঝি আমার স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিবে!
হাতকড়া পরিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে
এই আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন!
রিমান্ডের নামে চোখ বেঁধে
যে শরীরটা থেঁতলে দিয়েছেন—
একজন মা দুধে ভাতে আমাকে বড় করেছেন।
আমি জন্মেছি কাজী নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতায়
যেখানে নেই আপোষের কোনো চিহ্ন।
দুমড়েমুচড়ে যে অধিকারের কথা বলে
সেই আমি আমার মা’কে বিদ্রোহের কথা বলে এসেছি।
লেখক; সম্পাদক, প্রকাশক ও গণমাধ্যমকর্মী