Connect with us

দূর্নীতি

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের খাবার ঠিকাদারের পেটে!

Published

on

নবীগঞ্জে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠিকাদারের ইচ্ছায় রোগীদের খাদ্য সরবরাহে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

নিম্নমানের খাবার সরবরাহ, প্রয়োজনের তুলনায় কম মাছ, মাংস ও তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা যায়। ভর্তিকৃত রোগীদের জন্য যে পরিমাণ খাবার সরবরাহ করার কথা, তা না করে ঠিকাদারের ইচ্ছেমত খাবার দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, মাথাপিছু রোগীর জন্য প্রতিদিন পাউরুটি ২৪৪ গ্রাম, চাল ৪০০ গ্রাম, তেল ৪০ গ্রাম, মাংস (খাসি) ২৫৪ গ্রাম, মুরগী (দেশী) ২৮২ গ্রাম, মাছ (রুই, কাতল, মৃগেল) ২৮২ গ্রাম, মাছ (গ্রাসকার্প, সিলভার কার্প, আমেরিকান রুই) ৩৩৮ গ্রাম, পাংগাস ৪২৩ গ্রাম, সবজি ৩৫০ গ্রাম, পিয়াজ ৫০ গ্রাম, রসুন ২০ গ্রাম, জিরা পাঁচ গ্রাম, আদা পাঁচ গ্রাম, তেজপাতা পাঁচ গ্রাম, এলাচ ১০ গ্রাম, দারুচিনি ১০ গ্রাম ও লবঙ্গ পাঁচ গ্রাম সরবরাহ করার নিয়ম রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোগীদের সপ্তাহে তিনদিন মাংস ও চারদিন মাছ সরবরাহ করার কথা থাকলেও ১০ দিনে একদিন মাংস সরবরাহ করা হয়।

তাও আবার ব্রয়লার মুরগীর মাংস। বাকী দিন রুই, কাতল ও মৃগেল মাছের বদলে দেয়া হয় পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া মাছ। মাছের মাথা ও লেজ বাদ দিয়ে রোগীদের দেয়ার নিয়ম থাকলেও তাও মানা হচ্ছে না। সকালের নাশতায় দেয়া পাউরুটির পরিমাণ কম। চিকন চালের বদলে রোগীদের খাওয়ানো হয় মোটা ও নিন্মমানের চাল।

রোগীরা সাধারণত ওই নিন্মমানের খাবার খেতে চান না। আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ও নার্সিং সুপার ভাইজারের উপস্থিতিতে সরবরাহকৃত মালামাল রান্নার জন্য প্রস্তুতির কথা বলা হলেও তা করা হয় না। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার তাঁর ইচ্ছামাফিক পণ্য সরবরাহ করে থাকেন।

এদিকে রোগীদের খাসির মাংসের বদলে ব্রয়লার ও রুই মাছের বদলে পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া মাছ দেয়া হলেও সরকারী নিয়মে খাসি ও রুই মাছের বিল উত্তোলন করছেন ঠিকাদার। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবারের তালিকায় রুই মাছের তালিকা থাকলেও রোগীদের পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া মাছ ও ডিম দেওয়া হয়েছে।

এক সপ্তাহ আগে ভর্তি হওয়া রোগী উপজেলা মান্দার কান্দি গ্রামের লায়লা হক (৫৫) জানান, সাত দিনের একদিনেও আমাদের কোন মাংস দেয়নি, প্রতিদিনই দুই বেলা করে মোটা চালের ভাতের সাথে পাঙ্গাস আর তেলাপিয়া মাছ আর ডিম দেয়। একই জিনিস এতোবার খাওয়া যায় না।

সদর ইউনিয়নের পৃর্ব তিমির পুর গ্রামের সাবিনা ইয়াসমিন (২৫) একই ইউনিয়নের গুজাখাইড় গ্রামের নাহিদা বেগম (২২) জানান ৪-৫ দিন যাবৎ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি তুলনায় মূলক ভাবে খাবারের অবস্থা খুবই খারাপ পাঙ্গাস মাছ, ডিম, ব্রয়লার মুরগীর মাংস এগুলো সব সময় দেওয়া হয়।

হাসপাতালের বাবুর্চি রুনা আক্তার জানান, এখানে রোগীদের খাবারের কোন তালিকা নেই। ঠিকাদাররা যখন যা দেন তাই আমরা রান্না করে সরবরাহ করি। খাবারের তত্বাবধানে থাকা হাসপাতালের বাবুর্চি রুনা আক্তার বলেন, বিধি মোতাবেক রোগীদের খাবার দেয়ার জন্য ঠিকাদারকে বারবার বলার পরেও তিনি কোন তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমত খাবার সরবরাহ করে যাচ্ছেন।

অফিসার(আরএমও) ডা. চম্পক কিশোর সাহা বলেন, ডাঃ আব্দুল সামাদ স্যার যে বক্তব্য দিয়েছেন এটাই আমার বক্তব্য।

হাসপাতালে খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদার আব্দুল আজিজ তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় দিতেই ফোন কেটে দেন বারবার চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেন নি।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আব্দুল সামাদ জানান, হাসপাতালে রোগীদের খাদ্য তালিকা মোতাবেকই খাবার সরবরাহ করছেন বলে দাবি করেনখাদ্য সরবরাহে কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বত্ব © ২০২৬ বাংলা মিরর | সম্পাদক : মোঃ খায়রুল ইসলাম সাব্বির