হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গংগানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার মিছবা উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী সাদিয়া আক্তার ও সোহেনা আক্তার এর সাথে ক্লাস চলাকালে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থী এমনকি অভিভাবক মহলেও নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার গংগানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে। গতকাল রবিবার সরেজমিনে গংগানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী সাদিয়া আক্তার, সোহেনা আক্তার, সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী মুনতাহা জাহান প্রীতি ও সারমিন আক্তারের সাথে কথা হলে তারা জানান, তারা বোরকা পড়ে স্কুলে আসেন।
ওইদিন প্রধান শিক্ষক খন্দকার মিছবা উদ্দিন ক্লাসে গিয়ে তাদেরকে বোরকার নীচে স্কুলের সাদা পোষাক পড়েছে কিনা তা দেখার জন্য উল্লেখিত ছাত্রীদের বোরকা উপরে তোলার জন্য বলেন। এসময় ছাত্রীরা বোরকা উপরে তুলতে না চাইলে প্রধান শিক্ষকের কড়া নির্দেশে তারা তাদের ব্যবহৃত বোরবা উপরে তুলে গায়ের জামা দেখাতে বাধ্য হয়।
এ বিষয়টিতে ছাত্রীরা অনেক লজ্জাবোধ করে। পরে এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এসব ছাত্রীরা এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে স্কুল ছেড়ে অন্য স্কুলে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয়। শেষে ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের নিকট এসব ছাত্রীরা বিচার প্রার্থী হন।
পরে শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম অন্যান্য শিক্ষকদের কে বিষয়টি অবগত করেন। এক পর্যায়ে স্কুলের শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষককে ছাত্রীর সাথে করা এমন আচরণ দুঃখজনক উল্লেখ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করেন।
প্রধান শিক্ষক খন্দকার মিছবা উদ্দিন এর স্কুলের ছাত্রীদের সাথে এমন আচরণের বিষয়টি অবশেষে অভিভাবক মহলেও ছড়িয়ে পড়লে, অভিভাবক মহেলও নানা আলোচনার ঝড় উঠে। এ ব্যাপারে স্কুলের দশম, নবম ও ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক খন্দকার মিছবা উদ্দিনের স্বভাব ও আচরণ শিক্ষার্থীদের প্রতি সন্তোষজনক নয়, এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিছবা উদ্দিনের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমি ক্লাসে গিয়ে ছাত্রীদেরকে স্কুলের পোষাক গায়ে দিয়ে আনার জন্য অনেকদিন বলেছি।
ওইদিনও তারা বোরকা পড়ে স্কুলে আসায় আমার সন্দেহ হলে সত্যিই কি তারা স্কুলে পোষাক গায়ে দিয়ে এসেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ছাত্রীদেরকে বোরকা উপরে উঠাতে বলি। অন্য কোন উদ্দেশ্যে নয়, কারণ কোন স্কুলের ছাত্রী যাতে স্কুল থেকে বের হয়ে বোরকা খুলে কারও সাথে যেতে না পারে এজন্য। (দৈনিক হবিগঞ্জ সমাচার)