শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার কার্যসহকারী নুরুল ইসলাম;
৫ বছর অনুপস্থিত থেকেও চাকরতে বহাল।
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার কার্যসহকারী নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে টানা ৫ বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মবহির্ভূতভাবে পুনরায় কর্মস্থলে যোগদান করে বকেয়া বেতন-ভাতা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে। সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা এম এফ আহমেদ অলির নিকটাত্মীয় হওয়ায় অনৈতিকভাবে চাকুরীতে পুনর্বহাল ও বেতন-ভাতা উত্তোলনের মত গুরুতর অপরাধ করেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি।
জানা যায়, ২০০৪ সালে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় কার্যসহকারী হিসেবে যোগদান করেন নুরুল ইসলাম। যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে এমএফ আহমেদ অলি মেয়র নির্বাচিত হলে তার নিকটাত্মীয় ও ডান হাত হিসেবে পরিচিতি লাভ করে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েন। ২০১৫ সালের মো: ছালেক মিয়া মেয়র নির্বাচিত হলে নুরুল ইসলামের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলে জবাবদিহিতা ও শাস্তির ভয়ে কর্মস্থলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়ে মুদির দোকান পরিচালনা শুরু করেন তিনি। এ সময়ে তাকে উপস্থিত হতে একাধিকবার নোটিশ দিলেও তিনি উপস্থিত হননি। পরবর্তীতে তাকে পৌরসভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু ২০২০ সালের নির্বাচনে তার আত্মীয় এম এফ আহমেদ অলি আবারও মেয়র নির্বাচিত হলে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কোন ধরনের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ৬১ মাস পর আবারও চাকুরীতে যোগদান করেন তিনি। এরপর নিজের ক্ষমতা বলে এবং তৎকালীন মেয়রের সহযোগিতায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে বকেয়া বেতন ভাতা উত্তোলন করে নেন। এরপর থেকেই একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে পৌরসভায় নিজস্ব বলয় তৈরি করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর পৌরসভার মেয়রদেরকে অপসারণ করা হলেও নুরুল ইসলামের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় আধিপত্য ধরে রেখেছেন সাবেক মেয়র এম এফ আহমেদ অলি। তার কথার বাহিরে গেলেই কর্মকর্তাদেরকে মারধোর সহ বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তের পৌরসভার এক কর্মকর্তা বলেন, অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তার স্থায়ীভাবে বরখাস্ত হওয়ার কথা কিন্তু সে কিভাবে পুনরায় চাকরি করছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। এছাড়াও সে সাবেক মেয়রের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে কথা বললে মেয়র এর পক্ষ থেকে হুমকি-ধামকি আসে।
‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’-তে সরকারি কর্মকর্তার-কর্মচারীদের বিভিন্ন অপরাধের জন্য লঘু এবং গুরুদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তিরস্কার পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা, দায়িত্বে অবহেলার কারণে সরকারের আর্থিক ক্ষতির সম্পূর্ণ অংশ বা অংশবিশেষ আদায়, বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিত করা হচ্ছে লঘুদণ্ড।
অন্যদিকে গুরুদণ্ডের মধ্যে রয়েছে- নিম্নপদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিত করা, বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান, চাকরি থেকে অপসারণ ও চাকরি থেকে স্থায়ী বরখাস্ত করা।
৫ বছর অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে কার্যসহকারী নুরুল ইসলাম বলেন, “২০১৬ সালে সাবেক মেয়র মোঃ ছালেক মিয়া আমাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলা দিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করে রেখেছিল। সব মামলা খালাস পেয়ে আমি আবার বহাল হই। আমি বকেয়া বেতন প্রায় তিন বছরের পাওনা আছি। আমি প্রতিহিংসার শিকার।”
চাকুরী বিধি সম্পূর্ণ লংঘন করেও তিনি কিভাবে এখন পর্যন্ত চাকুরীতে বহাল আছেন তা নিয়ে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সচেতন মহলে। দ্রুত তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্থায়ী ভাবে চাকুরিচ্যুতির দাবি জানিয়েছেন তারা।