হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় গড়ে উঠা কর্মকর্তা-কর্মচারী সিন্ডিকেটে চলছে হরিলুট। অভিযোগ রয়েছে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট নিয়মিতভাবে পৌরসভার বিভিন্ন খাতের রাজস্ব লোপাট করে আসছে। প্রাণ-আরএফএল শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন করে অন্তত দুই কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে এই সিন্ডিকেট।
পৌরসভার একাধিক সূত্র জানায়, পৌর কর, হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, যানবাহনের লাইসেন্স, ভবনের নকশা অনুমোদন সহ বিভিন্ন খাতের ফি আদায়ে ব্যাপক অনিয়ম চলছে। নথিপত্রে কম দেখিয়ে আদায় করে নেওয়া হয় মোটা অংকের টাকা। এসব কার্যক্রমে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আমিনের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন কর নির্ধারক সুজিত কুমার দত্ত, লাইসেন্স পরিদর্শক সুশীল কুমার বসাক, কর আদায়কারী দেবাশীষ দেব ও সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল আলম জিসান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত দুই অর্থ বছরে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে মাত্র ২০ লক্ষ টাকা পৌর কর আদায় করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী যা ২ কোটি টাকা হওয়ার কথা। পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আমিনের মাধ্যমে ভাগবাটোয়ারা হয় কয়েক লাখ টাকা। এছাড়াও কর নির্ধারক সুজিত কুমার উৎকোচের বিনিময়ে পৌর কর কমিয়ে দেন অন্যতায় মাত্রাতিরিক্ত কর ধার্য করে থাকেন। তার এই কাজে কর আদায়কারী দেবাশীষ দেব সহযোগী হিসেবে কাজ করেন অন্যদিকে লাইসেন্স পরিদর্শক সুশীল কুমার বসাক বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স দিতে মোটা অংকের ঘুষ আদায় করেন। লাইসেন্সবিহীন দোকানগুলো থেকে মাসোয়ারা আদায়ের মতো অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে পৌরসভার এক তৃতীয়াংশ দোকানও ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আসেনি সুশীল বসাকের জন্য।
এছাড়াও পৌরসভার অভ্যন্তরে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনের জন্য মোটা অংকের ঘুষ দিতে হয় সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল আলম জিসানকে। চাহিদা মোতাবেক ঘুষ না দিলে নানান অজুহাতে আটকে রাখা হয় নকশার অনুমোদন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মচারী জানান, “অনেকেই নিয়ম মেনে কাজ করতে চান, কিন্তু উপরের (সচিব) নির্দেশ ছাড়া কিছু করা যায় না। রাজস্ব আদায় ও জমার হিসাব ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করা হয়। যারা আপত্তি করেন, তাদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা হতে হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত পৌর পর পর সহ সকল রাজস্ব আদায়ের পরেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লুটপাটের কারণে পৌরসভার সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। রাস্তা সংস্কার, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্ট্রিটলাইট—সবখানেই দেখা দিচ্ছে তহবিল সংকট, অথচ রাজস্ব আদায় বন্ধ নেই। বিদ্যুৎ বিল, ভবন ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন বাবদ অন্তত ৫০ লক্ষ টাকা বকেয়া থাকলেও লুটপাট করে পকেট ভারি করছেন অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এই সিন্ডিকেটের কারণে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নাগরিক সেবাও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে পৌরবাসীর দাবী, কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে, যাতে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা আবারও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পথে ফিরতে পারে।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আমীন বলেন আমার আল্লাহ জানেন শায়েস্তাগন্জ পৌরসভার একটি পয়সাও আমার পকেটে যায়নি। সর্বোপরি প্রশাসক স্যার, পৌরপরিষদ এর নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করি। ওদের অত্যাচারে আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। আমার বদলী পর্যন্ত একটু সমদিন পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ। কালো বিড়ালের খপ্পরে শায়েস্তাগন্জ পৌরসভা।