এ যেন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। এক সময় বাবা আব্দুল হান্নান ছিলেন ডুবাইয়ে দেশে এসে পরিবারের হাল ধরতে নবীগঞ্জ শহরের আনমনু রোডে পান সিগারেট বিক্রি করতেন আব্দুল হান্নান । সেই আয়ে চলত সংসার। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে সামান্য মুহরি থেকে তার ছেলে
আব্দুর রকিব শিপন তিনি শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে, কী এমন জাদুর কাঠি বা আলাদিনের চেরাগ পেয়েছেন আব্দুর রকিব শিপন , যার বদৌলতে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি শত কোটি টাকার মালিক বনেছেন।
এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হয় শিপনের কাছে। তিনি বাংলা মিরর কে বলেন, আমি অতীতে কি করেছি সেটা আপনার জানার বিষয় নয়। আবারও প্রশ্ন করা হয়, আপনি সাবেক মেয়র ছাবির আহমেদের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে কয়েক বছরে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলা ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ, ভূমি দখল, বালুমহাল,নিয়োগ বাণিজ্য করে অবৈধভাবে শত কোটির মালিক হয়েছেন। নবীগঞ্জের পৌর শহরে অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ কিনেছেন। এসব সম্পদের বৈধতা কি? এর জবাবে তিনি বলেন, আমার ব্যবসা রয়েছে আপনি আমার আয়কর ফাইল চেক করে দেখেন, আমিও একজন ব্যবসায়ি । আমি কখনো পান বিক্রেতা ছেলে ছিলাম না, আমার বাবা পান দোকান ছিলনা , এটা ভিত্তিহীন কথা।
এদিকে বাংলা মিররের অনুসন্ধান বলছে,
আব্দুর রকিব শিপনের পৈতৃক বাড়ি পরিবারের উৎপত্তিস্থল সিলেট জেলার মগলাবাজার গ্রামে তার পিতা আব্দুল হান্নান শশুর বাড়িতে থাকতেন ভাড়া বাসায়, বর্তমান ঠিকানা, আনমনু গ্রামে নানার বাড়ী থেকে’ই বেড়ে উঠা আব্দুর রকিব শিপনের ।
পান সিগারেট বিক্রি করেই । সংসার চালাতেন আব্দুল হান্নান ।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নবীগঞ্জ পৌরসভায়
আনমনু রাস্তার মুখে তার ২ তলা একটি ভবন রয়েছে , ৩ তলা নির্মাণাধীন ভবন একটি। গ্রামের ভেতর ৫০ লক্ষ টাকা মূলের ভিটা একটি। এছাড়াও নবীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নামে বেনামে আছে তার প্রচুর সম্পত্তি।
নবীগঞ্জ শহরে রয়েছে একাধিক আলিশান বাড়ি ও বহুতল ভবন। বিশেষ করে, পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের আনমনু গ্রামের প্রবেশ এলাকায় রয়েছে আনুমানিক ১০ কোটির টাকার ভবন এবং বাসার নিচে রয়েছে তার অবৈধ ব্যবসার আড়ালে মুহরি অফিস বাড়ি। আব্দুর রকিব শিপন সরকারি ভূমি জায়গায় দখল করে পৌরসভার আনাচেকানাচে ৪-৫ কোটি টাকার জমি।
এ ছাড়া রয়েছে পৌরসভা সহ উপজেলার জেলার বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে শত বিঘা ফসলি জমি। আব্দুর রকিব শিপন ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাবেক নবীগঞ্জ পৌর মেয়র ছাবির আহমেদ চৌধুরীকে ব্যবসায়িক পার্টনার হিসাবে নবীগঞ্জ এলাকায় সবার কাছে বেশ পরিচিত। অল্প সময়ের ব্যবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ, ভূমিদস্যুতা, সরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় মেয়রের একক ক্ষমতার আধিপত্য বিস্তার করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
আব্দুর রকিব শিপনের এক ঘনিষ্ঠজন ব্যক্তি বাংলা মিরর কে বলেন, শুধু নবীগঞ্জ নয়, সিলেট ও অনুসন্ধান করলেও মিলবে শিপনের প্লট ও ফ্ল্যাটসহ নানা সম্পদের ফিরিস্তি।
সামান্য মহরি থেকে সাবেক মেয়র ছাবির এর হাত ধরে । মুহরি কাজে মেয়রের সঙ্গে পরিচয় হয় শিপনে ছাবিরের আশীর্বাদে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাইলে সাবেক মেয়র ছাবির আহমেদ চৌধুরী মোবাইলে কল দিলেও তিনি ধরেননি।