রাজধানী ঢাকায় আজ শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন’ (Network for People’s Action—NPA)।
গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং জনগণের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠা এই প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধনী আয়োজনে তাদের লক্ষ্য, মূলনীতি ও খসড়া ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে নতুন এই রাজনৈতিক প্রয়াসের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার দিকনির্দেশনাও তুলে ধরেন প্ল্যাটফর্মটির উদ্যোক্তারা।
প্রচলিত দলগুলোর রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকল্প হিসেবে নিজেদের অবস্থান দাবি করে প্ল্যাটফর্মটির নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপরিবর্তন ও জনগণের মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুধু অতীতের অর্জন রক্ষার বিষয় নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ নির্মাণের অপরিহার্যতা। সেই পথচলায় এনপিএ একটি সার্বজনীন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখতে চায়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে জনগণের প্রকৃত অধিকার ও সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি নতুন ধরনের প্রগতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনগণকেন্দ্রিক রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত খসড়া ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট, সমাজে প্রকট হয়ে ওঠা অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাষ্ট্রকাঠামোতে নাগরিক ক্ষমতায়নের সীমাবদ্ধতা এবং জনগণের ন্যূনতম অধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থতার বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
একই সঙ্গে জনগণের সংগ্রামের দীর্ঘ ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
আয়োজনে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এনপিএ ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, পেশা ও সামাজিক গোষ্ঠীর মতামত নিয়ে ঘোষণাপত্রটি চূড়ান্ত করবে এবং একটি বিস্তৃত গণ-আন্দোলন গড়ে তুলে বাংলাদেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।