২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে উদ্বেগজনক অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। ViolenceTracker.org-এর প্রকাশিত মাসিক সহিংসতা প্রতিবেদনে দেখা যায়, এক মাসে সারা দেশে অন্তত ৪৭০টি সহিংস ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে নিহত হয়েছেন ১৬১ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ১,০১০ জন।
ViolenceTracker.org-এর স্বয়ংক্রিয় মনিটরিং সিস্টেম জানুয়ারি মাসে দেশের শীর্ষ পাঁচটি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত মোট ২৯,৯৫১টি সংবাদ বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ২২৮টি ঘটনা একাধিক সংবাদমাধ্যমে এবং ২৪২টি ঘটনা একক সোর্সে পাওয়া গেছে।
অপরাধমূলক সহিংসতায় প্রাণহানি বেশি, রাজনৈতিক সহিংসতায় আহত সর্বাধিক
প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘটনার সংখ্যার দিক থেকে ‘অপরাধমূলক সহিংসতা’ শীর্ষে থাকলেও ‘রাজনৈতিক সহিংসতা’য় আহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
জানুয়ারিতে অপরাধমূলক সহিংসতায় ১১৪ জন নিহত হলেও রাজনৈতিক সহিংসতায় আহত হয়েছেন অন্তত ৬০৯ জন, যা জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া গণপিটুনি বা ‘মব জাস্টিস’-এর ৩৫টি ঘটনায় ১৪ জন নিহত হওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ঢাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, সীমান্ত জেলায় প্রাণহানি বেশি
৬৪ জেলার মধ্যে জানুয়ারি মাসে ঢাকায় সর্বাধিক ৫১টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীতে এসব ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও ৪৪ জন আহত হন।
ঘটনার সংখ্যায় ঢাকা এগিয়ে থাকলেও সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজার ও কুমিল্লায় প্রাণহানির হার তুলনামূলকভাবে বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ১০ জেলার মধ্যে রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, পটুয়াখালী, যশোর ও রাজশাহী।
বিশেষভাবে ফরিদপুরে মাত্র ১৪টি ঘটনায় ১১২ জন আহত হওয়াকে ‘উচ্চ মাত্রার সংঘাতের ইঙ্গিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নির্বাচনী উত্তেজনায় রাজনৈতিক সহিংসতা চরমে
জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা, পোস্টার-ব্যানার ছেঁড়া, প্রচারণায় হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ ও দলীয় কোন্দলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ১৭৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ৬০৯ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি, জামায়াত, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষই এসব ঘটনার মূল কারণ।
গণমাধ্যম বিশ্লেষণ
ViolenceTracker.org এই প্রতিবেদন তৈরিতে প্রথম আলো, আজকের পত্রিকা, ঢাকা পোস্ট, যুগান্তর ও সমকাল—এই পাঁচটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদ বিশ্লেষণ করেছে। এর মধ্যে যুগান্তর ও প্রথম আলো থেকে সবচেয়ে বেশি সহিংস ঘটনার তথ্য শনাক্ত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সংঘাতের তুলনায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্রাণহানি বেশি হলেও রাজনৈতিক সহিংসতায় বিপুলসংখ্যক মানুষের আহত হওয়া এবং ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায় ধারাবাহিক সংঘর্ষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
মব জাস্টিস ও বিচ্ছিন্ন ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগামী মাসগুলোতে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সহিংসতার পূর্ণাঙ্গ ইন্টারেক্টিভ ডাটা ও বিশ্লেষণ দেখতে:
ViolenceTracker.org/analytics