"উইন্টার ইজ কামিং, গেট রেডি ফর চেক মেট "

  • বায়েজিদ খান
  • ০৬,ডিসেম্বর,২০২২ ০৩:৪৬ AM

দাবার গুটি সাজিয়ে বসেছেন ভ্লাদিমির পুতিন। একের পর এক চাল দিয়ে যাচ্ছেন পশ্চিমা বিশ্বর বিপরীতে। সোভিয়েত বিখ্যাত দাবাড়ু মিখাইল তাল এর মাস্টার স্ট্রোক "কুইন সেক্রিফাইস" এর মতো চলমান যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করেও ইতিমধ্যে ইউক্রেনের ১৫ শতাংশ এলাকা নিয়েছেন রাশিয়ার দখলে আর এখন চালাচ্ছেন সর্বগ্রাসী আক্রমণ। এর মধ্যে আর কিছুদিন পরেই আসছে শীতকাল, এসময়ে জ্বালানি সংকট যে ইউরোপকে ভোগাবে তা ভালমতই জানেন কেজিবির সাবেক এই ঝানু খেলোয়াড় আর তখনই হবে পুতিনের শেষ কামড়। মাঝেমধ্যে হয়তোবা মস্কোতে বসে ভদকা খেতে খেতে নিজেই হেসে বলেন "উইন্টার ইজ কামিং মাই ফ্রেন্ড, গেট রেডি ফর চেক মেট"।

পশ্চিমা মিডিয়া পুতিন কে কখনো যুদ্ধ অপরাধী আবার কখনো পাগল বা উম্মাদ বলে উল্লেখ করেছে। পশ্চিমা মিডিয়া এসব শব্দ ইসরাইলের ক্ষেত্রে কখনোই ব্যবহার করে না। ইসরাইলের মত পুতিন অবশ্যই যুদ্ধ অপরাধী হতে পারে। তা নিয়ে কোন সংশয় নেই। কারন যুদ্ধবাজরা যুদ্ধ জেতার জন্য সব কিছুই করে। এ ক্ষেত্রে একুশ শতকে ইরাক ,আফগানস্তান এবং সিরিয়ায়
যারা সামরিক আগ্রাশন চালিয়েছে, তাদের বা সেসব দেশের নাম 
বিশেষ করে আমেরিকাকে সবার আগে যুক্ত হবে। 

দুনিয়ার অনেক দেশেই এখন সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পরেছে। যেমন ইউরোপ ইউক্রেন ইউক্রেন অস্ত্র দিচ্ছে ,আমেরিকা অস্ত্র দিচ্ছে। ইউরোপের অনেক দেশ,ইউক্রেনের অভিবাসীকে আশ্র‍য় দিয়েছে,যার মাঝে তুরস্কও আছে। ভারত ,চীন,ঊত্তর কোরীয়া,বেলারুশ ইরান এবং আফ্রিকার কিছু দেশ পরোক্ষভাবে পুতিনের পক্ষে আছে। আমেরিকা ও চীন এ নিয়ে 
অনেকটাই মুখোমুখি। তাদের মাঝে ১ দশক ধরে বানিজ্য যুদ্ধ চলমান।ইতিমধ্য দক্ষিন চীন সাগবে তাইওয়ানকে ঘীরে পাল্টাপাল্টি মহড়া পুরো অঞ্চল কে আরো উত্তপ্ত করেছে। চীন আমেরিকার বিনাশ চায় না এটা স্পষ্ট ,চীন চায় আমেরিকার আধিপত্য কমুক। আমেরিকার বিনাশ হলে সবচেয়ে ক্ষতি হবে চীনের। চীন এত বড় বাজার কই পাবে। রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রতা। শীতল যুদ্ধ থেকে ভারত আর রাশিয়া অনেক কাছাকাছি। আবার এই দশকে চীনের আধিপত্য কমানোর আমেরিকা আর ভারতের মাঝে যে বন্ধন গড়ে ঊঠেছিলো তা এখন
শেষ হওয়ার  পথে। ভারত রাশিয়া তেল কিনেছে আর আমেরিকা ইতিমধ্যে তার প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানের সাথে সামরিক পুনরায় করছে আমেরিকা ,ভারতের কিছু হিন্দু সংগঠনকে কে আমারিকায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাকিস্তানের এফ ১৬ যুদ্ধ বিমানকে আধুনিকায়নের জন্য টাকা দিচ্ছে আমারিকা এমনকি 
জম্মু কাশ্মীরে কে আজাদ কাশ্মীর হিসাবে চিহ্নিত করেছে। যা নরেদ্র মোদীর জন্য যা বিরাট এক চ্যালেঞ্জ বা কূটনীতিক পরাজয় বলা যায়। ইরান ইতিমধ্যেই রাশিয়াকে ১৩০ ড্রোন দিয়েছে বলে মিফিয়ায় আসছে। আর তুরস্ক দুই দিকেই খেলছে। 

তা হলে এ যুদ্ধের শেষ কোথায় ?  এক দিকে গনতন্তের মুখোশ পরা পশ্চিমা সাম্রাজ্য বাদী গোষ্ঠী। আরেক দিকে রাশিয়ান টাইপের ডিক্টেটর  গোষ্ঠী ।দুনিয়া শীতল যুদ্ধের মত দুই ভাগে বিভক্ত। 
পুতিন তাহলেএখন কি করবেন?যুদ্ধ ক্ষেত্র রাশিয়া এখন তেমন কিছুই পাইনি। কিছু এলাকা দখল করেছে কিন্তু তাও যুদ্ধ চলছে। 


বরং হারিয়েছে অনেক কিছু ,যুদ্ধে হারিয়েছে অনেক সেনা আর অস্ত্র ।অনেক সেনার লাশ এসেছে রাশিয়ায় ,এসেছে অনেক আহত সেনা। বাধ্য হয়ে পুতিনের সেনা বাড়ানো ঘোষনা দিতে হয়েছে ,নিতে হচ্ছে চেচেন যোদ্ধাদের সাহায্য।পুতিন আসলেই উম্মাদ না ,সে ঠান্ডা  মাথার , যুদ্ধ ক্ষেত্রের ব্যথতা আড়াল করার জন্যই ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করে বিল পাশ করেছেন এটা দুনিয়া এবং নিজের দেশের জনগনকে দেখানোর জন্য একটি রাজনীতির অংশ। গ্যাস নিয়ে ইউরোপকে ভয় দেখানো কিংবা পারমানবিক বোমার ভয় দেখনো পরোটাই ইউরোপ কে আলোচনার টেবিলে আনার জন্য কূটনীতিক চাল ছাড়া আর কিছুই ন্য।আমেরিকান নেতৃত্ব থাকা ইউরোপ কি পুতিনের আগ্রাসন মেনে নিয়ে আলোচনায় আসবে। না এ যুদ্ধ দীঘ মেয়াদী হবে । তাহলে কি পুতিনের সিংহাসন টিকবে? এর উত্তর ভবিষ্যতে পাওয়া যাবে।

সম্পর্কিত খবর

ইউক্রেনঃ এ্যা সারপ্রাইজ ফর রাশিয়া
  • ০৩,ডিসেম্বর,২০২২ ০৮:৪৭ PM
জাতিসংঘের পুতুল নাচের ইতিকথা
  • ২৮,নভেম্বর,২০২২ ০৭:৫২ AM