অর্থনৈতিক উন্নয়নের পোস্টার বয় থেকে পিঠ বাঁচানোর লড়াই

  • বায়েজিদ খান
  • ২৬,সেপ্টেম্বর,২০২২ ০৪:১৪ PM

ইন্টারন্যাশল মিডিয়ায় উদীয়মান ইকোনমির পোষ্টার বয় ছিলো বাংলাদেশ, কিছুদিন আগেও। ভারত আর পাকিস্তানের মিডিয়ায় রীতিমত উদাহরন হিসাবে নিয়ে আসা হত বাংলাদেশকে। তা নিয়ে আমাদের অহংকার ও কম ছিলো না। সরকারের মন্ত্রীরা রীতিমত বড়লোকি ভাব নিয়ে কথা বলতেন। 

যাকে বলা যায় দেমাগ ,জিডিপির দেমাগ।বড়লকি দেখানোর জন্য দেউলিয়া শ্রীলংকা কে লোন ও দেয়া হলো। অথচ বাংলাদেশের অজস্র মানুষ রাস্তার পাশে ঘুমায় ,তারা না বোঝে জিডিপি ,না বোঝে রাজনীতি। 

তারা বর্ষা আর শীতে  খোদার কাছে সাহায্য চায়। রাস্ট্র তাদের কেউ না। অনেক উদ্যাক্তা একটা ছোট লোনের জন্য তার আইডিয়া বা দক্ষতা কিছুই কাজে লাগাতে পারে না। বুদ্ধিমানরা তাই সরকারি চাকরির পিছনে যাওয়াই ভালো মনে করে।রাজনীতি একটা দেশের 
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। নেতাদের সঠিক সিদ্ধান্তই একটা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায় ,আমরা যে ১৯৭১ আজাদি পেয়েছিলাম তার পিছনেও ছিলো বঙ্গবন্ধুর মত একজন নেতার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব।সেখানে গত দশক ধরে নেতৃত্ব সংকট। সরকার প্রধান ছাড়া আর কেউ নাই সিদ্ধান্ত দেয়ার মত। রাজনৈতিক নেতাদের জায়গা দখল করে নিয়েছে আমলারা আর বিজনেস লবি।ব্যবসায়ীয়া সংসদে বিশেষ হারে। দেশ অনেকটাই রাজনীতি শূন্য।টেকনাফে এক রাজনীতিক নেতাকে মাদক ব্যবসায়ী বলে গুলি করলো র‍্যাব ,দুই রাজনৈতিক দলই চুপ ছিলো। একটি দেশে বিরোধী দল অনেক গুরুত্বপূর্ণ ,তা আমাদের নাই বললেই চলে ,তাদের দলের প্রধান থাকেন লন্ডনে ,যেন কোন কোম্পানির সিইও। স্কাইপে দল চালান ,যা দুনিয়ায় বিরল। নেপোটিজমে ভরা এ দুই রাজনৈতিক দল শুদ্ধ  রাজনীতি  করার অবস্থায় আর নাই। 

যদি রাজনৈতিক  দলের মধ্যে গনতন্ত্র না থাকে,সে দেশে আপনি গনতন্ত্র কিভাবে আশা করেন।আর দেশে রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে বিভক্তি থাকলে কিভাবে আমরা একটি শক্তিশালী ইকোনমি আশা করতে পারি। 

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশর অর্থনীতি নিয়ে সংঙ্কার কথা বলা হচ্ছে তা কতটুকু। এটা ঠিক যে, শ্রীলঙ্কার মতো বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে অতখানি ঝুঁকির পর্যায়ে যায়নি৷ বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিত তুলনায় বৈদেশিক ঋণের হার এখন মাত্র ২৬ শতাংশ যেখানে এটি ৫০ শতাংশের বেশি হলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়৷ তবে বিভিন্ন বড় বা মেগা অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিদেশি ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে৷ তাতে করে তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বিদেশি ঋণ-জিডিপি অনুপাত ঝুঁকিপূর্ণ স্তরে উপনীত হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু হবে না৷ এর সঙ্গে উচ্চহারে আমদানি ব্যয় মেটানোর চাপ যুক্ত হয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে অল্প সময়ের মধ্যেই নীচের দিকে নামিয়ে আনতে পারে বলে আশঙ্কা আছে৷ তাতে করে টাকার বিপরীতে ডলারের দর আরো বেড়ে যাবে৷ গত তিন-চার মাসে ডলারের বিপরীতে টাকার দ্রুত দরপতন তো এটাই প্রমান করে। 

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১০ মাসে বিদেশের সাথে বানিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩২ কোটি ডলার।
গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১৬৫ কোটি ডলার। আর ২০২০-২০২১ অর্থবছর শেষে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৪৫৮ কোটি ডলার। তার আগে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ৫৪৪ কোটি ডলার।
দেশের ইতিহাসে  এত বড় ঘাটতি আর কখনও হয়নি। 
কোনো দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝা যায় চলতি হিসাবের মাধ্যমে। আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এখানে উদ্বৃত্ত হলে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করতে ঋণ নিতে হয়।
এখন এই ঘাটতি বাড়ার মূল কারণ আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়া। তাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও দ্রুত কমছে। 

পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ এখন লোডশেডিংয়ের দিকে ফিরে গেছে, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার নানা উপায় খুজছ।
সরকার মনে করছে তেল আমদানি কমালে বিদেশী মুদ্রা খরচ কম
হবে ,বানিজ্য ঘাটতি কমবে। ডলারের রিজার্ভ বাড়বে। 
এসব পদক্ষেপ বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কমালেও কতটা সুফল বয়ে আনবে তা নিশ্চিত না কেউ। 

আসলে আমাদের কোন টেকসই বা দুনিয়ার বাজারে প্রতিযোগিতা করার কত কোন শিল্প নাই। যা আমারা বিক্রি করি তা শুধু আমাদের শ্রমিকদের ঘাম। পোশাক শিল্পের সব কাচামাল ,এমনকি কাপড় ও আসে বাইরে থেকে ,আমরা শুধু শ্রমিকের মজুরি পাই। 
রেমিট্যান্স যা আসে তাও শ্রমিকের ঘাম। আমরা যা টের পাচ্ছি এখন,করোনায় পোশাক খাতে খারাপ অবস্থা,আর করোনায় প্রবাসী শ্রমিকদের চাকরি যাওয়ায় ,ডলারে টান পড়েছে। মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে খারাপভাবে। মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। খাদ্য আমরা উৎপাদন করি তা দিয়ে হয়ে যায় যে বলা হয় ,তা ভূল প্রমানিত হয় যখন
ভারত রপ্তানি বন্ধ করে। কাচা মরিচ আর পিয়াজ সাম্প্রতিক সময়ের উদাহরন। 

তাহলে করোনীয় কি?  উদ্যাক্তা তৈরি করা ,দুনিয়ায় প্রতিযোগিতা করা যায় এমন প্রডাক্ট তৈরি করা। এছাড়া কোন উপায় নাই। এছাড়া আপনি কিভাবে স্থায়ী ভাবে ১০ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি পোষাবেন?  আপনি লোন নিয়ে দেশ চালাতে পারবেন ঠিক ই কিন্তু তাতে লোনের বোঝা আরো বাড়বে। দেশ আরও খারাপ পরিনতির দিকে যাবে। 
এদেশে কোন শিল্প নাই বললেই চলে,যারা শিল্পপতি আছে অধিকাংশ বেনিয়া। বিদেশী পন্য এনে এদেশে বিক্রি করে ,ব্যাংকের টাকা লুটপাট করে।আমদানির নামে বিদেশে টাকা পাচার করে। আর এদের সহায়তা করে এদেশের কিছু এলিট সরকারী কমকর্তারা। এদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। উদাক্তা আর গবেষকদের জন্য সব দরজা খুলে দিতে হবে। আর তার জন্য রাষ্ট্রের সব জায়গায় প্রয়োজন জবাবদিহি এবং আইনের শাসন।

সম্পর্কিত খবর