কমলাপুরে অধিকার প্রকল্পের উদ্যোগে সেলাই মেশিন বিতরন

  • বাংলা মিরর ডেস্ক
  • ২৭,সেপ্টেম্বর,২০২২ ১০:৪৫ PM

রাজধানীর কমলাপুর এলাকায় ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশন পরিচালিত অধিকার – স্ট্রিট এন্ড ওয়ার্কিং চিলড্রেন আউটরিচ প্রকল্পের উদ্যোগে পথশিশু ও কর্মজীবী শিশুসহ তাদের অভিভাবকদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। ৩০ মে, ২০২২ (সোমবার) কমলাপুর অধিকার প্রকল্পের বেইজ অফিসে কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিশুদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশন এর শিক্ষা সেক্টরের জয়েন্ট ডিরেক্টর মো. মনিরুজ্জামান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী মো. জুবের আলম খান রবিন, সমাজসেবী মো. জাকির আলম খান রিবন, অধিকার প্রকল্পের সিএমসি সভাপতি মো. খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. লুফতর রহমান, শিশুতরী সংস্থার সমন্বয়ক মিলন হাসান, অধিকার প্রকল্প কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিশু ও অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ গ্রহণ পরবর্তী সময়ে করণীয় সম্পর্কে অবহিত করা হয়। বক্তারা তাদের বক্তব্যে প্রশিক্ষণার্থীদের সুন্দর এবং পরিশ্রমী জীবন গড়ার পরামর্শ দেন। সমাজসেবী মো. জুবের আলম খান তার বক্তব্যে বলেন, “পথ ও কর্মজীবী শিশুদের লেখাপড়া চালিয়ে যাবার জন্য এটি একটি সুন্দর উদ্যোগ। আমাদের কমিউনিটির সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে এমন মহৎ কাজের সাথে।”

 ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশনের শিক্ষা সেক্টরের জয়েন্ট ডিরেক্টর মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “ এটি আপনাদের জন্য একটি  দারুণ সুযোগ নিজের জীবনকে পাল্টে ফেলার জন্য। একটি দালান তৈরি করতে যেমন প্রথম একটি  ইট দিয়ে গাঁথুনি দিতে হয়, মনে করবেন এটি আপনার ভবিষ্যত সুন্দর করার ইটের সেই গাঁথুনি। এখান থেকেই পরিশ্রম করলে আপনি অনেক বড়  হবেন। আর অবশ্যই লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হবে। কেননা এর কোন বিকল্প নেই।”

এরপর প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের হাতে সেলাই মেশিন হস্তান্তর করা হয়। কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত অধিকার প্রকল্পভুক্ত শিশু তহুরা আক্তার বলে, “ প্রিবারিক অভাবের কারণে আমার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমি কাজে ঢুকে গিয়েছিলাম। আমার অনেক কষ্টে দিন কেটেছে। এখানে আসার পর আমি এখন নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছি। অধিকার প্রকল্পের উদ্যোগে আমি সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণ নিয়েছি, এখন সেলাই মেশিন পাচ্ছি। আমার লেখাপড়া চালিয়ে নেবার জন্য আমি বদ্ধ পরিকর।”

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আরেক শিশু সাগরিকা সেলাই মেশিন হাতে পেয়ে অনেক খুশি নিয়ে জানায়, “ আমার কী যে আনন্দ হচ্ছে আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো  না। ”

অনুষ্ঠান শেষে শিশু এবং তাদের অভিভাবকরা যেকোন মূল্যে তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যাবেন বলে অঙ্গিকার করেন।

সম্পর্কিত খবর

কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি