চমেকে ফের সক্রিয় ডা. ইকবালের সিন্ডিকেট

  • বাংলা মিরর ডেস্ক
  • ২৩,মে,২০২২ ০৭:৩৬ AM

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে আবারো সক্রিয় হয়েছে আলোচিত বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ও নগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মোঃ ফয়সল ইকবাল চৌধুরীর সিন্ডিকেট। 

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগ ও বদলি অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ডা. ফয়সল ইকবাল বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ আসে দুদকে। শুধু ২০১৯-২০ অর্থবছরেই ওই হাসপাতালে প্রায় ৪২ কোটি টাকার টেন্ডার তিনি একাই নিয়ন্ত্রণ করেছেন। 

এ ছাড়া তিনি চমেক হাসপাতালের নিয়োগ থেকে বদলি, কোটি কোটি টাকার খাবার সরবরাহ, আউটসোর্সিং ব্যবসা, এমনকি ঠিকাদারিসহ সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে ডা. ইকবালের বিরুদ্ধে। 

এসব অভিযোগের তদন্ত শুরু করেন মো. শরীফ উদ্দিন তিনি চট্টগ্রামে  দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপসহকারী পরিচালক ছিলেন। এরপরই ডা. ফয়সাল ইকবালের  বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার সুপারিশ করেন মো. শরীফ উদ্দিন। কিন্তু সুপারিশ আমলে না নিয়ে পুনরায় তদন্তের জন্য পাঠায় দুদক।

এর পরপরই ১৬ জুন তাকে চট্টগ্রাম থেকে বদলি করা হয় পটুয়াখালীতে। সেখান থেকে ছুটিতে চট্টগ্রামে যান জানুয়ারির শেষ দিকে। এর ১৬ দিন পর ১৬ ফেব্রুয়ারি শরীফকে চাকরিচ্যুত করেছে দুদক। 

গত ৩০.৬.২১ ইং তারিখে ডা. ফয়সাল ইকবালের বিরুদ্ধে বিস্তর রিপোর্ট পেশ করেছিলেন উপ সহকারী পরিচালক মো. শরীফউদ্দিন।১৫/৯/২১ তারিখ এ রিপোর্ট ঢাকায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে প্রেরিত হয়। সেই থেকে শরিফ উদ্দিনের চাকুরিচ্যূত হওয়া পর্য্যন্ত এ রিপোর্ট নিয়ে তেমন কোন দৃশ্যমান কার্যক্রম চোখে পড়েনি। অতি সম্প্রতি এ রিপোর্ট পুনঃতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম ফেরত পাঠানো হয়। 

এর আগে চিকিৎসক নেতা ডা. মোহাম্মদ ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন । 

অনুসন্ধানে ফয়সাল ইকবালের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, নিয়োগ ও বদলী বাণিজ্য, ক্লিনিক ব্যবসা, কমিশন ব্যবসা, করোনাকালীন দুর্নীতিসহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সত্যতা পায় দুদক। 

করোনাকালীন সময়ে পিপিই দুর্নীতি, কোভিড হাসপাতাল হিসেবে চট্টগ্রামের হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালকে প্রস্তুতির নামে শিল্পপতিদের কাছ থেকে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও ইমপেরিয়াল হাসপাতাল চালুর জন্য ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়টিও অনুসন্ধান করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। 

করোনাভাইরাসে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে চিকিৎসাক্ষেত্রে নৈরাজ্য তৈরির জন্য বরাবরই সামনে আসছিল বিতর্কিত চিকিৎসক নেতা ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীর নাম। 

এর আগে একই অভিযোগ উঠে আসে পুলিশের এক গোপন প্রতিবেদনেও। পুরো প্রতিবেদনটিই বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ও স্বাচিপ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীকে নিয়ে। বিশেষ ওই প্রতিবেদনটি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে পাঠানো হয়। 

সম্প্রতি দুদক পুনঃতদন্তে আসার পর থেকে আবার মামলার অভিযুক্ত ডা. ইকবাল সহ অন্যান্যরা প্রকাশ্যে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল দাপিয়ে বেড়িয়ে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে বারবার চেষ্টা করেও ডা. ইকবাল ও দুদুকের কেউ মোবাইল কল রিসিভ করেন নি।

সম্পর্কিত খবর

কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি