চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা কেন ৩৫ করতে হবে

  • বায়েজিদ খান
  • ০৪,ডিসেম্বর,২০২২ ০১:০৪ PM

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর না হওয়া পর্যন্ত শনিবার থেকে রাজধানীর শাহবাগে টানা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ।চাকরির বয়স নিয়ে আন্দোলন প্রায়ই পত্রিকায় চোখে পড়ে।কিন্তু এ নিয়ে সরকার বা সুশীল সমাজের কোন মাথা ব্যাথা আছে বলে মনে হয়না।

দুই বেলা ডাল ভাত আর একটু খোলা বাতাসে বেচে থাকার জন্য এইটুকু চাওয়া এই ছেলে-মেয়েদের। কিন্তু সরকার বা সমাজের কোন স্তর থেকে ইতিবাচক কোন সাড়া দেখতে পাই নি। সরকার উদ্যাক্তা হওয়ার জন্য বার বার উৎসাহিত করছে কিন্তু সিস্টেমের কোন চেহারা পাল্টাচ্ছে না।৩০ বছরে ছেলে মেয়েরা যখন চাকরি পাচ্ছে ৩৫ পেলে সমস্যা কি। সরকার যে ৬০ বছর বয়সেও চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দিচ্ছে না , তাহলে সেটা কেন?

করোনার  কারণে প্রায় ২ বছর  লস হয়েছে শিক্ষার্থীদের। আরো কত মাস পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা বলা যাচ্ছে না।

অধিকন্তু,
১ .১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত সরকারি চাকরির প্রবেশের বয়স সীমা ছিল ২৫ বছর কারণ তখন অনার্স কোর্স ছিল ৩ বছর মেয়াদী ডিগ্রি ছিল ২ বছর মেয়াদী।

২.১৯৭৩ সালে সরকারি চাকরির প্রবেশের বয়স সীমা করা হল ২৫ থেকে ২৭ বছর।

৩.১৯৯১ সালে সরকার দেখল যে বাংলাদেশের জনগণের গড় আয়ু ৪৫ বছর থেকে বেড়ে হল ৫০ বছর তখন ২৭ বছর থেকে বাড়িয়ে করা হল ৩০ বছর।

৪.২০০১ সালে সরকার ৩ বছর মেয়াদী অনার্স করল ৪ বছর এবং ডিগ্রি ২ বছর মেয়াদী কোর্স করল ৩ বছরের।

৫.২০১১ সালে সরকার অবসরের বয়স সীমা ৫৭ থেকে বাড়িয়ে করল ৫৯ বছর।

৬.১৯৯১ সালের পর আমাদের গড় আয়ু বেড়ে ৫০ থেকে ৭৪ বছর হয় মানে ২৪ বছর  গড় আয়ু বাড়ে।
কিন্তু চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি পায়নি।

৪০ শতাংশ বেকারের দেশে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের নামে চাকরিরর মেয়াদ বাড়বে কিন্তু ৩০ বছরের পর আবেদন করা যাবে না ,এটা পুরোটই হিপোক্রেসি ।যারা আন্দোলন করছে ,তারা আর কিই বা করতে পারতো। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাই শিখিয়েছ,পড়ালেখা শেষ করে চাকরির পরীক্ষায় বসতে হবে। আমরা সেই দক্ষ জনবল গড়ার মত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে পারি নি,যেখানে সহজেই উদ্যাক্তা  হওয়ার জন্য ছেলে মেয়েরা পড়ালেখা শেষ করে নেমে পড়েবে ,চ্যালেঞ্জ নিবে ,দেশ বা ব্যাংক তাদের পাশে দাড়াবে। আমাদের রাজনৈতিক নেতা বা সিভিলি সোসাইটির এইবিষয় নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই।

কারন তাদের অধিকাংশের ছেলে মেয়ে দেশের বাইরে পড়াশুনা করে। এমনকি দেশের সুপ্রীম কোর্টও এ ব্যাপারে নিশ্চুপ। যেসব চাকরি প্রার্থীরা অধিকারের জন্য রাস্তায় লড়ছে তারা সফল হোক। এটা তাদের অধিকার। আর এদেশের ইতিহাস বলে ন্যায্য অধিকারের আন্দোলনে এদেশের মানুষ সব সময় সফল হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি