বরিশালে বিবাহিতদের দিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি

  • স্টাফ রিপোর্টার:
  • ২৮,সেপ্টেম্বর,২০২২ ১২:৩৪ PM

বরিশালে মহানগর ছাত্রলীগের ৩২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার রাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। 
তবে সদ্যঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক এবং দুজন যুগ্ম আহ্বায়কসহ কমটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। জানা গেছে,আহ্বায়ক এবং দুজন যুগ্ম আহ্বায়ক তারা তিনজনই বিবাহিত। 
এই কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে রইজ আহম্মেদ মান্নাকে। এছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে মাইনুল হাসান ও আরিফুর রহমান শাকিলকে।
কমিটির আহ্বায়ক রইজ আহম্মেদ মান্না বাস মালিক গ্রুপের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও বরিশাল বিভাগীয় আঞ্চলিক সড়ক পরিবহন মালিক ফেডারেশনের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বরিশাল বিভাগীয় আঞ্চলিক সড়কপরিবহন মালিক ও শ্রমিক ঐক্য ফেডরেশনের আইন বিষয়ক সম্পাদক । পরিবহন নেতা রইজকে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
ছাত্রলীগ নেতা রেজাউর রহমান নিয়ন বলেন, সাংগাঠনিক নিয়মের বাইরে এই কমিটি হয়েছে।অছাত্র আছে, বিবাহিত, দুই সন্তানের বাবা, সন্তানের বয়স ১০ বছর এদেরকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।অনেকের বয়সসীমা ৪০-৪৫ বছর। শ্রমিক লীগের নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।কমিটিতে আহ্বায়ক যুগ্ম আহ্বায়কসহ অধিকাংশ বিবাহিত। ৪০ বছর বয়সী লোকজন যদি ছাত্রলীগ করে তাহলে ছাত্ররা কী করবে?
যাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে সেই মান্না দুই সন্তানের জনক। তার বড় সন্তানের বয়স প্রায় ১০ বছর। যুগ্ম আহ্বায়ক মাইনুল ইসলাম ও আরিফুর রহমান শাকিলও বিবাহিত। বরিশালে জমকালো আয়োজনে তাদের বিয়ে হয়েছে। ছাত্রত্ব ও বয়স নেই তিনজনেরই। এ ছাড়াও যাদের সদস্য করা হয়েছে তাদের মধ্যে অনেকের ব্যাকগ্রাউন্ড বিএনপি।’
মান্না এক তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী দাবি করে নিয়ন বলেন, ‘এসব লোককে কমিটিতে এনে ছাত্রলীগকে কলুষিত করা হয়েছে।’

এদিকে কমিটি ঘো্ষণার পরপরই  শ্রমিক নেতা, বিবাহিত, অছাত্রদের নিয়ে গঠিত কমিটি বাতিল করে ছাত্রদের নিয়ে নতুন করে কমিটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন পদবঞ্চিত ছাত্রলীগ নেতারা। মিছিলে সদ্য ঘোষিত কমিটির আহ্বায়কের সন্তানসহ ছবি, দুই যুগ্ম আহ্বায়কের সস্ত্রীক বিয়ের ছবি দিয়ে তৈরি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়।

সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- ছাত্রলীগ নেতা মেহদি হাসান, তানভীর আহমেদ, প্রিন্স সরদার, আব্দুল আলিম, রেজাউল রহমান নিওন, ইমরান হাওলাদার, আবু তালহা প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, সম্প্রতি বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রকে উপেক্ষা করা হয়েছে। কমিটিতে যাদের আনা হয়েছে তাদের মধ্যে আহ্বায়ক মো. রইজ আহম্মেদ মান্না, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাইনুল ইসলামসহ বেশিরভাগেরই বয়স ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে বেধে দেওয়া বয়সের থেকে বেশি। আবার কমিটিতে এমনও অনেকে রয়েছেন, যারা কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র নয়।
বক্তারা বলেন, গঠনতন্ত্রে রয়েছে বিবাহিত, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের কমিটিতে আসার কোনো সুযোগ নেই। অথচ কমিটির আহ্বায়ক মো. রইজ আহম্মেদ মান্না একাধিক সন্তানের পিতা ও জেলা বাস মালিক গ্রুপের একজন পদধারী নেতা। আর জেলা বাস মালিক গ্রুপের সদস্য হতে হলেও তাকে বাসের মালিক হতে হয়। অপরদিকে যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাইনুল ইসলাম ও আরিফুর রহমান শাকিলও বিবাহিত। এছাড়া কমিটিতে থাকা সদস্য পদের বেশ কয়েকজনের পরিবার বিএনপির আদর্শে আদর্শিত হলেও তারা পদ পেয়েছেন ছাত্রলীগের কমিটিতে।
বক্তারা আরও বলেন, যাদের ব্যাকগ্রাউন্ড বিএনপি তারা বরিশালে ছাত্রলীগের রাজনীতি করবে এটা আমরা মানিনা। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে কোনো বিবাহিত, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, মাদকবিক্রেতা, সন্ত্রাসী থাকতে পারবে না। অথচ ঘোষিত কমিটিতে এর সবকিছুই রয়েছে।
এ সময় নেতাকর্মীরা গঠনতন্ত্র পরিপন্থী সদ্য গঠিত বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে আহ্বায়কের বাচ্চাসহ ছবি, যুগ্ম আহ্বায়কদের স্ত্রীসহ ছবি দিয়ে বানানো এবং বিভিন্ন লেখা দিয়ে তৈরি প্লাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে বের করেন নেতারা।

এ বিষয়ে মহানগর ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক রইস আহমেদ মান্নার সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সদ্য ঘোষিত এই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মাইনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
তৃণমূলের দাবি বাস্তবায়ন হয়েছে।এটা তাদের আশা ছিল। কে কি বললো ওইটা বিষয় না, বিষয় হলো যে সংগঠনের মূল কাজটা করা।এতোদিন নেতৃত্বশূন্য ছিল, এখন নেতৃত্ব আসছে। আমরা ইনশাআল্লাহ অল্প কয়েকদিনের মধ্যে একটা নতুন নেতৃত্ব তৈরি করে দিবো। 
তিনিসহ কমিটিতে বিবাহিতদের স্থান দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে মাইনুল আসলাম বলেন, এ বিষয় নিয়ে কিছু বলতে চাই না। এগুলা প্রপোগান্ডা ছড়াচ্ছে।এডিটিং করে এগুলো দিচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে তিন সদস্যবিশিষ্ট বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে সাংগঠনিক সম্পাদক তৌসিক আহম্মেদ রাহাত চাকরির সুবাদে ছাত্ররাজনীতি থেকে বিদায় নেয়। এরপর ২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সাধারণ সম্পাদক অসীম দেওয়ানকে বহিষ্কার ও ২০২১ সালের ২৫ মে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের দায়ে সভাপতি জসীম উদ্দিনকে অব‌্যাহতি দিয়ে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

সম্পর্কিত খবর

বরিশালে আজও ৩২ মৃত্যু
  • ১১,সেপ্টেম্বর,২০২২ ০৪:০৪ AM
নির্বাচনের খিচুড়ি গেল এতিমখানায়
  • ২৭,সেপ্টেম্বর,২০২২ ১২:৫০ AM
ছাত্রলীগকে দোষারোপের রাজনীতি!
  • ২৬,সেপ্টেম্বর,২০২২ ১০:৫৬ PM
করোনায় বরিশাল বিভাগে মৃত্যু ১৮
  • ২৬,সেপ্টেম্বর,২০২২ ০৬:০৭ AM