সেকুলারিজম ও মোল্লাতন্ত্রঃ ভবিষ্যত কোন পথে?

  • বায়েজিদ খান
  • ২৩,মে,২০২২ ১১:৫৯ PM

খ্রিস্টিয় ষোড়শ শতকে সেকুলারিজম বা সেকুলার রাস্ট্রের ধারণা আসে মার্টিন লুথারের ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।সেটি নিছক ধর্ম সংস্কার আন্দোলন ছিল না, রাজনীতি অর্থনীতি তথা সামগ্রিক সমাজ কাঠামো সংস্কারের আন্দোলনও ছিল। 

সেকারনেই দেখা যায়, মার্টিন লুথারের সেই আন্দোলনে সমাজের বনিক-বুর্জোয়া থেকে কৃষক পর্যান্ত সমাজের নানা স্তরের লোকের অংশগ্রহন ছিল। 

অত্যাচারী চার্চ(রোমান ক্যাথলিক)বিরোধী রক্তক্ষয়ী সেই আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে যে রাস্ট্র গঠিত হয়েছিল তাতে ইহজাগতিকতার সাথে থিওলজি/রোমানক্যাথলিক ধর্মেরও নিদিস্ট স্থান ছিল। 

মার্টিন লুথারের সেই আন্দোলনের ফলশ্রুতিতেই একসময় রেঁনেসা ও পরে এনলাইটম্যান্টের মতো আন্দোলন সূত্রপাত হয় যেটি পরবর্তিতে ইওরোপের ইতিহাসের ধরাই পাল্টে দেয় এবং সেই সাথে বিশ্বেরও।রেঁনেসা মানুষের চেতনার ও সাধনার পাল্লাটাকে পাল্টেদেয়।মানবিকতাকেও মহিমান্বিত করে।তার সংগে যুক্ত হয় জিজ্ঞাসা, যুক্তিবাদ,বিজ্ঞান-মনস্কতা।বুর্খহার্ড রেঁনেসার কতগুলি প্রেরনাসঞ্চারী বৈশিস্ট্য চিহ্নিত করেছেন- ব্যাক্তির বিকাশ তথা প্রাপ্তি স্বীকারের সূচনা,বিশ্ব ও মানুষের আবিস্কার এবং নৈতিক ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা।রেঁনেসার ফলে এ চেতনা জাগে যে,স্বর্গ নিরপেক্ষ রূপে মর্তের এবং দিব্যতা নিরপেক্ষ রূপে মানবিকতার বিশেষ মূল্য,বিশেষ অর্থ,বিশেষ সত্য আছে। 

এর আগে ইউরোপে রেনেসাঁ শুরু হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপলের পতন। 

১৪৫৩ সালে অটোমান তুর্কি সুলতান দ্বিতীয় মুহম্মদ এই শহরটি দখল করলে এখানকার পণ্ডিতেরা বা বিজ্ঞানীরা  ইতালিতে গিয়ে পাড়ি জমায় ।সঙ্গে তারা নিয়ে আসেন গ্রিক -সাহিত্যের মূল্যবান বই। এসকল পণ্ডিতেরা ইতালির বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পেশায় যোগদান করেন এবং সাফল্যের সাথে তারা এসব কাজ পরিচালনা করেন ।তাদের ইতালিতে আগমনের ফলে প্রাচীন গ্রিক ও রোমান যুগের শিল্প সাহিত্য, দর্শন ,ইতিহাস, গণিত, বিজ্ঞান, প্রভৃতি বিষয়ে জ্ঞানের আলোকবর্তিকা জ্বলে উঠে । 

জেগে উঠে জ্ঞানের প্রতি উৎসাহ-উদ্দীপনা,বাড়ে গবেষনা  ।মানুষ জ্ঞানের জন্য বসে থাকে ,সৃষ্টি হয় চিন্তাজগতের আলোড়ন যার ফলে ইতালিতে প্রথম রেনেসাঁ সূত্রপাত হয় এবং তা পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পরে । 

ফলে ইউরোপের রাজনীতি পোপের হাত থেকে মুক্ত হয় ,সমাজের যাজকদের ক্ষমতা কমে যায় ,শুরু হয় ধর্মনিরপেক্ষ 
শিক্ষা ব্যবস্থা ।আর ইউরোপ উন্নতি ও সভ্যতার শিখরে ওঠে । 

আমাদের দেশের অবস্থা সেই ইউরোপের মধ্যযুগের মত ।পোপের বা খ্রিস্টান যাজকদের অবস্থান নিয়েছে এই সময়ের পীরেরা ।তারা একই তাস খেলে, ধর্ম নামের তাস । তাদের কাছ থেকেই আমরা মালাউন ,নাসারা ইত্যাদি শব্দ শিখেছি । 

আমাদের নবী তার সঙ্গীদের আবেসীনিয়ায় আশ্র‍য় নিতে বলেছিলেন ,বলেছিলেন ওখানে একজন ন্যায়পরায়ণ খ্রিষ্টান শাসক আছে ।শেষ নবীর কাছ থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার কিছুই শিখেনি এই পীরেরা । 

নিজদের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য নতুন ,নতুন হাজারো মাদ্রাসা স্থাপন হচ্ছে ,যার সাথে আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের সাথে কোন রিলেশন নেই ।রাস্ট্র এই দেশে পীরেদের তুস্টি করন করে ,কারন তাদের বড় সং্খ্যায় মুরিদ আছে ,তা যে দলেই ক্ষমতায় থাকুক না ক্যান । পীরেদের কাজ সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য পরিনত করা ।
তারপর সমাজে বিভক্তি ক্রিয়েট করা । মাদ্রাসার মাধ্যমে নিস্পাপ শিশুদের ব্রেন ওয়াশ করা । 

যে ইউরোপে পোপ আর যাজকরা করেছিলো , যখন ইউরোপের ঘুম ভাঙ্গে তখন অটোমানরা প্রায় ইউরোপ দখল করে নিছে ।আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক পীরেরা ইসলামের নামে পাকিস্তানের পক্ষে নিছে ।যা ইসলামের কলংক । 

ইসলাম সারা দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত ।পবিত্র কোরআন এই একজন মুসলিমের জন্য যথেষ্ট ,যেখানে মানুষের কথা লেখা আছে,শান্তির কথা লেখা আছে ।যার ভুল ব্যবহার করে এই একুশ শতকে পীরেরা বিভিন্ন ব্রান্ডের কম্পানি খুলে বসেছে যার আয় ও অনেক । 


তাদের প্রত্যকের বিদেশে বাড়ি ,গাড়ি আছে ,আমার নবীর কোন সম্পদ ছিলো না । তারা শুধু তাদের মুরিদদের অন্ধকারে নিয়া গেছে শুধু তা নয়, দেশকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে প্রতিদিন । 

সরকার চাইলেই পারে তাদের সম্পদের হিসাব জনগন কে  দেখাতে ।চাইলেই পারে তাদের ইউটিউবের হিংসা ছড়ানো বন্ধ করতে ।একুশ শতকের বাংলাদেশ অবশ্যই সরকারের সাথে থাকবে ।

সম্পর্কিত খবর

কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি