৬২’র শিক্ষানীতি ও বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা

  • গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
  • ২৭,সেপ্টেম্বর,২০২২ ০২:৪৩ PM

একটি জাতি গঠনের মুল উপাদান হল শিক্ষা। শিক্ষা ছাড়া কখনো কোনো জাতি উন্নতি করতে পারে না । বাঙ্গালী জাতিকে দাসে পরিণত করতে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান সকার, এসএম শরীফের নেতৃত্বে যে নীতি গ্রহণ করেছিল তা এদেশের ছাত্র সমাজ ভেস্তে দেয়। পরবর্তীতে ১৭ সেপ্টেম্বর দিনটি “মহান শিক্ষা দিবস” হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

এ দিবস ঘিরে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা কি ভাবছে তা তুলে ধরেছেন বাংলা মিরর'এর গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ইউনুস রিয়াজ…………

কেমন ছিলা ৬২’র শিক্ষা নীতি?

প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো: ইমরান হোসাইন বলেন, শরীফ শিক্ষা কমিশন সত্যিকার অর্থে শিক্ষার নামে একটি প্রহসনীয় ব্যবস্থা। এখানে শিক্ষাকে ধনিক শ্রেণীর মাঝে সীমাবদ্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে যেটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। শিক্ষা হবে সবার জন্য উন্মুক্ত একটি জায়গা যেখানে ধনী ও গরিব কোন ভেদাভেদ থাকবে না। এখানে কর্মমুখী শিক্ষার কথা বলা হয়নি যেখানে কর্মমুখী শিক্ষা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ চলবে তাদের নিজস্ব গতিতে সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ স্বায়ত্তশাসন অবশ্যই প্রয়োজন। এছাড়া রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ এর কথা বলা হয়েছে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ সাধারণত রাজনৈতিক মুক্ত চর্চার স্থান এখান থেকে মানুষ তার রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষকদের ক্ষেত্রে দৈনিক ১৫ কর্মঘন্টার কথা বলা হইয়েছিল যা অমানবিক। শিক্ষকদের এই কর্মকে কোন ঘন্টা দ্বারা আবদ্ধ করার কোন সুযোগ নেই। একজন শিক্ষক সর্বক্ষণিক শিক্ষাদান ও গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এছাড়া ছাত্র-শিক্ষকদের কার্যকলাপের উপর যে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখার কথা বলা হয়েছিল এটা সাধারনত আমাদের স্বাধীনতাকে খর্ব করার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং শরীফ শিক্ষা কমিশন সর্বোপরি ব্যর্থ।


আমাদের শিক্ষা ব্যবস্তার বেহাল দশা:


বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাহমান চৌধুরী বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার গোরায় সমস্যা। অনেক কিছু পরিমার্জন করার আছে। শিক্ষার হাতেখড়ি হয় প্রাইমারি পর্যায়ে, সেখানে বইয়ের বোঝা না বাড়িয়ে শুধু যেটুকু জানলে হয় তা শেখানোই যথেষ্ট।পড়াশোনা হয়ে যাচ্ছে পরীক্ষা কেন্দ্রীক তাই মুখস্ত বিদ্যার দিকে ঝুকছে শিক্ষার্থীরা। এখান থেকে বেরিয়ে এসে পরীক্ষা ভিতি দুর করতে হবে। প্রয়োজনে প্রশ্নের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে হবে যেন হাতে পর্যাপ্ত বিকল্প প্রশ্ন থাকে পরীক্ষায় উত্তর করার জন্য।

তিনি আরও বলেন- উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতি পরীক্ষার খাতায় বেধে না রেখে শ্রেণী কক্ষে তাদের জানার পরিধি বিবেচনায় আনতে হবে। পড়াশোনা করতে হবে জানার জন্য পরীক্ষায় পাশ করার জন্য নয়। একটা শিক্ষার্থী উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করার পর তার সেই জ্ঞান কাজে লাগানোর মতো যোগ্য করে তুলতে হবে, তাদের গবেষনামুখী করে গড়ে তুলতে হবে তবেই শিক্ষার মুল উদ্দেশ্য সাধন হবে। এছাড়াও বর্তমানে অতিরিক্ত মান হীন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মান কমিয়ে দিচ্ছে, বাড়াচ্ছে শিক্ষিত বেকার ।
 

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা শিক্ষকদের থেকেই আসে:
 

ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, শিক্ষকরা মাতা-পিতার থেকেও বড় কারণ পিতামাতা শুধু আমাদের জন্ম দেয়, কিন্তু একজন সফল মানুষের পেছনে শিক্ষকের ভূমিকা থাকে অপরিসীম । শিক্ষক যে শুধু আামাদের লেখাপড়া শিখায় , তা নয়। সঠিক-ভুলের ব্যাখ্যা দিয়েই ভাল মানুষ হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করে, জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের পাশে থাকেন। তারা জ্ঞান ও প্রজ্ঞার উৎস। তাদের ক্রমাগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদেরকে শিক্ষিত করে তোলেন। তাদের অনুপ্রেরণা জন্যই আমরা জীবনে সফলতা অর্জন করতে পারি। তারা আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে লড়াই করতে হয় এবং ব্যর্থ হলে আবার কিভাবে দাঁড়াতে হয়। শিক্ষকরা আমাদের সার্বিক শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তোলে এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে আমাদের পথ দেখায়।

 

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা যেন সার্টিফিকেট অর্জন:


প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবা সুলতানা বলেন, শিক্ষা দিবসের একটাই চাওয়া শিক্ষাকে বাণিজ্য করবেন না। আমাদের ৪ বছরের অর্জন শুধু একটা সার্টিফিকেট আমরা সবাই এর পিছনে ছুটি । পরীক্ষায় কিভাবে ভাল করা যায় সেটা নিয়ে পড়ে থাকি , পরীক্ষা গেলে সব ভুলে যাই দিন থেকে অর্জনের খাতায় শুন্য। আমার অজান্তেই পড়াশোনা শুধু পরীক্ষা কেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে । এর থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে আমরা ভাল ফল নিয়ে বের হব ঠিকই কিন্তু আসল শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে যাব।

আমাদের শিক্ষকরা আরো কিভাবে আমাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে পারি সে বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়ে আমাদের সঠিক পথে রাখবে আসা করি।

সর্বোপরি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সবাইকে একসাথে নিয়ে কাজ করতে হবে , শিক্ষা ব্যবস্থার কিছু পরিমার্জন করে  সুন্দর ও সুষ্ঠ পরিবেশ প্রদান করতে হবে। শিক্ষা বাঁচলে জাতি বাঁচবে, জাতি বাঁচলে দেশ বাঁচবে।

সম্পর্কিত খবর

কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি