হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌরসভার ওসমানী রোড ও আশপাশের বিভিন্ন মার্কেটে কম্পিউটার ব্যবসার আড়ালে অবাধে অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসা চলছে—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত অস্বাভাবিক লেনদেন করা হচ্ছে এবং এসব লেনদেনের ওপর ভিত্তি করে কমিশন বণ্টন করা হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের অভিযোগ, নিষিদ্ধ অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার কারণে এলাকার তরুণ সমাজ দিন দিন বিপথগামী হয়ে পড়ছে। সারাদেশে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলমান থাকলেও নবীগঞ্জে কম্পিউটার ব্যবসার আড়ালে এই অবৈধ কার্যক্রম নতুন করে বিস্তার লাভ করেছে, যা জনমনে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে নবীগঞ্জ বাজারের কম্পিউটার ব্যবসায়ী নয়নমণি সরকারের নাম। তিনি নবীগঞ্জ বাজার এলাকায় কম্পিউটার ও বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, ‘ক্যাসিনো সম্রাট নয়নমণি সরকার’—এই নামটি এখন নবীগঞ্জ শহরের মানুষের মুখে মুখে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, শুধু কম্পিউটার নয়, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যবসার আড়ালেও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তি সক্রিয় রয়েছে। তারা এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ক্যাসিনোকাণ্ডে বারবার উচ্চারিত হওয়ায় নয়নমণি সরকার এখন এলাকাজুড়ে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এত অল্প সময়ে তিনি কীভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন এবং তার আয়ের প্রকৃত উৎস কী।
অভিযোগ রয়েছে, নয়নমণি সরকারের নামে নিবন্ধিত একাধিক সিম নম্বর ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার অবৈধ লেনদেন পরিচালিত হয়েছে। এসব লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য ও প্রমাণ এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নয়নমণি সরকারের এক প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নবীগঞ্জ বাজারের এস এ প্লাজা মার্কেটের ভেতরে ‘নয়নমণি কম্পিউটার অ্যান্ড ট্রাভেলস’ নামে তার একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি বলেন, “যদি তিনি ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না থাকতেন, তাহলে এত অল্প সময়ে কীভাবে তিনতলা বাড়ি নির্মাণ সম্ভব হতো?” তার মতে, এসব ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে নবীগঞ্জ শহরে আরও অনেক ‘অনলাইন ক্যাসিনো সম্রাট’ তৈরি হবে।
এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে নয়নমণি সরকার বলেন, “আমার বিষয়ে যেসব কথা শোনা যাচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। কিছু লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোনায়েম মিয়া বলেন, “অনলাইন জুয়ার এজেন্টদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান না হলে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।