Connect with us

জাতীয়

জুলাই কন্যা সুরভীকে কারাগারে নির্যাতন করা হয়েছে

Published

on

কারাগারে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আলোচিত জুলাই কন্যা তাহরিমা জান্নাত সুরভী। কারামুক্তির পর তিনি দাবি করেন, ১১ দিন কারাবন্দি থাকার সময় তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে কারামুক্তির পর জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন সুরভী।

তিনি বলেন, কারাগারে ১১ দিন ছিলাম। আমার ওপর যে পরিমাণ টর্চার হয়েছে, তা বলে বোঝানো যাবে না। আমার পিঠ ও মাথা ফুলে গেছে, আম্মুকে দেখিয়েছি। ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ১২ জনের মধ্যে ১১ জনই আওয়ামী লীগের। যদি ভিডিও করে রাখতে পারতাম, তাহলে প্রমাণ দেখাতে পারতাম।

আদালতের কার্যক্রম প্রসঙ্গে সুরভী জানান, শুনানির সময় বিচারক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওমর ফারুকের কাছে জানতে চান— এজাহার ছাড়া এক নম্বর আসামির বিরুদ্ধে আর কোনো প্রমাণ আছে কি না। তদন্ত কর্মকর্তা কোনো অতিরিক্ত প্রমাণ দেখাতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি। এরপরও সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সুরভী বলেন, আমি ভেবেছিলাম আমার জামিন হবে না। ১১ দিন কাস্টডিতে ছিলাম, কেউ আমার খোঁজ নেয়নি। ঘটনার আগের দিনই হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছিলাম, ঠিকমতো হাঁটতেও পারছিলাম না। পরে রিভিশন শুনানিতে জামিন পাই। এজন্য আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।

এদিকে সুরভীর আইনজীবী ও সাংবাদিক সূত্রের বরাতে জুলাইযোদ্ধা তারেক রেজা অভিযোগ করেন, মামলার বাদী সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে একটি ছবি ব্যবহার করে নিজেকে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং সেই প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন।

তারেক রেজার ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্জয় একসময় সুরভীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং কক্সবাজার ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান। সুরভী তা প্রত্যাখ্যান করে ফেসবুকে প্রতিবাদ জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দুর্জয় প্রতিশোধপরায়ণ হন বলে অভিযোগ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন কোনো অফিসিয়াল অ্যাসাইনমেন্ট ছাড়াই দুর্জয় গাজীপুরে যান। সেখানে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে সুরভী তাকে দেখে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন। পরবর্তীতে এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংঘবদ্ধ মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে সুরভীর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

এরই মধ্যে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ কর্তৃপক্ষ দুর্জয়কে চাকরিচ্যুত করেছে। তবে জানা গেছে, চলতি মাসেই তিনি ‘কালবেলা’ পত্রিকায় যোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানের কারণে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই সুরভীকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে করা হয়রানিমূলক পদক্ষেপ।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে টঙ্গীর বাসায় বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ভিড় দেখা গেলেও সুরভী কারো সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। বাসায় শুধু তার মা ও ছোট বোনকে দেখা গেছে।

অন্যদিকে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. ওমর ফারুককে শোকজ করা হয়েছে। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Exit mobile version