Connect with us

সম্পাদকীয়

ঠোঁট কাটা সম্পাদকীয়

Published

on

দেশ স্বাধীন করে জনগণের কোনো লাভ হয় নি। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম মানুষের হাতের নাগালের বাইরে আরেকবার চলে গেলো। ঝিঙে প্রতি কেজি ১০০ টাকা ছুয়েছে। ফার্মের মুরগীর ডিম প্রতি হালি পঞ্চান্ন টাকা, হাসের ডিম পচাত্তর টাকা। পিয়াজের কেজি ১১০-১২০ টাকা, ঢেড়শ ৭০/- টাকা

মানুষ বাচানোর কোনো ব্যবস্থা নাই, আছে শুধু মারার ফাদ প্রতি পদে।এসিআই কোম্পানির এক লিটার সেভলনের দাম ছিলো ২৮০/-, পাচ  লিটারের ক্যান ছিলো ৭৫০/- টাকা। আর দেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হবার পরে এক লিটারের দাম ৩৫০/- টাকা, ৫ লিটারের দাম ১২০০/- টাকা।

এই স্বাধীনতা বুর্জোয়া সমাজ ব্যবস্থাকে প্রমোট করেছে। আরো নতুন নতুন বুর্জোয়া শ্রেণির জন্ম দিয়েছে। গরীবকে আরো গরীব করে রাখার স্বাধীনতাকে অবাধ ও উন্মুক্ত করে দিয়েছে। শোষণের পথকে সুগম করেছে। প্রান্তিক শ্রেণির  মানুষের ক্রয় ক্ষমতাকে সাধ্যাতীত পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সরকারকে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে গেলে বাজার ব্যবস্থার উপর পূর্ণ কর্তৃত্ব আরোপ করে আভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি রেশনিং ব্যবস্থা সর্বসাধারণের জন্য প্রবর্তন করতে হবে।

নতুবা দ্বিতীয়বার অর্জিত স্বাধীনতা ব্যর্থ হবেই। তবে কি জাতিকে নতুন বোতলে মোড়ক লাগিয়ে আগের পুরনো মদই গেলানো হচ্ছে?

এ যেনো সার্কাস চলছে। সদ্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের লোকজন গ্রেফতার এড়াতে বিএনপি নেতাদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার রমরমা ব্যবসায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপির লোকজন কেউ কেউ আবার দখলবাজিতে মন দিয়েছেন। বালুদস্যুতা, জলমহাল দস্যুতা, সিএনজি স্ট্যাণ্ডের দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠছেন। দেশটা যেনো কারো বাপের তালুকেই পরিণত হচ্ছে ফের।


সম্প্রতি দেখা গেছে বিএনপি নেতারা ব্যাংক ডাকাত এস আলমের গাড়িতে চড়ে কক্সবাজারের হাওয়া খাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ গহণা জগতের ঠকবাজ বীরশ্রেষ্ঠ ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড’র মালিক দিলীপ আগরওয়ালার সাথে গোপণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। এখন বিএনপি নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে কে কার আগে কতো টাকায় বিক্রি হবেন। তাহলে এই দল গণতন্ত্র কিভাবে পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখে? এই দলটি এভাবেই গণ-অনাস্থা কুড়িয়ে রাজনীতির মাঠে গিনিপিগ হিসেবে অভিসিক্ত হবে খুব শীঘ্রই।


একদল গত পনেরো বছরে এতো খেয়েছে যে আর বাচার সাধ নাই। তাই বোর্ডার পাড়ি দিয়ে বিএসএফের গুলিতে আত্মাহুতি দিচ্ছে তাদের নেতাকর্মীগণ। আর আরেকদল বিগত পনেরো বছরে এতোই ক্ষুধার্ত যে, তারা এখন দেশের মাটি পর্যন্ত গিলে ফেলতে চাইছে। আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে অর্থপিপাসু আর ক্ষমতালিপ্সু হয়ে উঠাকে রাজনৈতিক দানব কিংবা ফ্রাঙ্কেন্সটাইনের রূপ ধারণের সাথে তুলনা করলে অত্যুক্তি হবে বলে আমরা মনে করি না।

সদ্য সাবেক পতিত স্বৈরাচারের আমলে বনভূমি দস্যুতার স্বীকার হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ সংরক্ষিত বন লাওয়াছড়ার ভূমি দখল করে আওয়ামী শ্রেষ্ঠ ভূমিদস্যুর তকমা কুড়িয়েছেন। তিনি নাকি আবার ডিক্টরেট ডিগ্রিও অর্জন করেছেন। এ ধরনের নেতাদের বেশিরভাগই টাকার বিনিময়ে ডক্টরেট ডিগ্রি ক্রয় করেছেন। আমি নিজেও ভারতের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  ডক্টরেট ডিগ্রি দুই লাখ টাকায় কেনার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু জাতি এবং নিজের সাথে এতো বড়ো প্রতারণাকে প্রশ্রয় দিই নি। দেশের একমাত্র ক্রান্তীয় বনভূমি লাউয়াছড়া মুক্তি পাবে কি সাবেক কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদের হাত থেকে? একজন শিক্ষক যদি পামর, লোভী আর খাতক হন তাহলে এ জাতির অমানিশা কাটবে কি করে? তবে কি যেই লঙ্কায় যায় সেই রাক্ষস হয়ে যায়?
সিলেটের খনি থেকে নির্বিচারে পাথর উত্তোলন করে পরিবেশ ও প্রতিবেশের বারোটা বাজানো হয়েছে। আর এখন যেটুকু অবশিষ্ট আছে সেটুকু উপবাসী রাজনৈতিক দলের গোগ্রাসে পরিণত হবার দামামা বাজছে।
সিলেটের কোম্পানিগঞ্জের শারফিন টিলা এখন ইতিহাসের ছেড়া পাতা। বেশ উচু টিলাটি এখন অথৈ জলরাশির ভাণ্ডার।
আমরা বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য সোচ্চার হয়েছিলাম, শত আবু সাঈদেরা জীবন বিসর্জন দিয়েছে। অনেক পুত্রকন্যাদের রক্ত ঝরেছে। অনেকেই আহত হয়ে এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন, যন্ত্রণাকাতর হয়ে শয্যাশায়ী। তাদের ত্যাগকে কি করে আমরা ম্লান হতে দিতে পারি?

আওয়ামীলীগের শাসনামলে আমরা ব্যাংক ডাকাতি, গণহত্যা, ইয়াবাবদির দাপট,  পাপিয়াদের পাপ সাম্রাজ্য, বড় বড় নেতাদের নিপুণসহ অনেক বারোভাতারিদের পুষতে দেখেছি ঠিক তেমনি বিএনপির আমলে আমরা বোমারু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বাবর, মালয়েশিয়ায় ছয় হাজার কোটি টাকা পাচারকারী ব্যক্তিকে চিনেছি, সারের দাবীতে মানুষ হত্যাসহ অনেক কিছুই প্রত্যক্ষ করেছি। কানসাটে মিটারচার্জ বাতিলের আন্দোলনে শহিদের রক্তে মাটি লাল হতে দেখেছি। আর এখন বিএনপির নেতাদের দেখছি গ্রেফতার বাণিজ্যের কারণে তাদের ব্যাংক স্থিতি ফুলেফেঁপে উঠছে।  এটাও কিয়ামতের আলামত। বিএনপি নেতাদের ব্যাংক  আগষ্ট মাসের এক তারিখ হতে এ পর্যন্ত যতো লেনদেন হয়েছে তার হিসাব বিবরণী দুর্নীতি দমন কমিশন তলব করুক।


বিএনপি আর আওয়ামীলীগ মিলেমিশে দেশটার বারোটা বাজিয়েছে। তারা জনকল্যাণমুখী রাজনীতি থেকে যোজন যোজন দূরে সরে গেছে। এই দুটি দলের  যারা নিজেদের কাণ্ডারী ভাবেন তারা বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপনের রসদ কোথায় পেলেন? কারো বাপ ভাঙ্গা স্যুটকেস আর ছেড়া গেঞ্জি রেখে গেছে আর কারো বাপ মরার সময় কাফনের কাপড়ও জুটে নি। কিন্তু তাদের উত্তরাধিকারীগণ এতো এতো এতো বিত্তবৈভবের মালিক হলেন কিভাবে? তারা আলাদিনের দৈত্যের চেরাগের মালিকানা পেয়েছেন? এসবের উত্তর খুজতে আলিবাবা ও চল্লিশ চোরের কাহিনী আবার পড়বো ভাবছি। ভাঙ্গা স্যুটকেস আর ছেড়া গেঞ্জি এবং পুরাতন শাড়ি কেটে বানানো কাফনের এতো মর্তুবা যদি জাতি জানতো তাহলে তাদের বাপের কাছে খালি এসব জিনিসই সম্পদ ও সম্পত্তি হিসেবে চাইতো!
এরা কেউ কেউ স্যুটেড ব্যুটেড হয়ে থাকে আর কেউ কেউ শরীরে উল্কি একে  সারাক্ষণ মদ্যপ অবস্থায় পোষা কুকুর নিয়ে পড়ে থাকে। মদালস চোখে মিডিয়াতে এসে হুঙ্কার ছেড়ে চিরবৈরী বিএনপির সাথে আতাতের ঘোষণা দেয়া তথ্যবাবা বলে দেশ তার কাছে কোনো ম্যাটার করে না, তার কাছে তার পরিবার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। দেশ গোল্লায় গেলেও এদের কিছুই যায় আসে না। কারণ দেশ ও দেশের মানুষকে চুষে চিবিয়ে আখের ছোবড়ার মতো বানিয়ে ফেলেছে। তারা লুট করে একেকজন আজদহা সাপের আকৃতি ধারণ করেছে। জনগণ দিনকে দিন খর্বাকায় হয়ে যাচ্ছে। এই খর্বাকৃতির জনগণ বুঝেও হাততালি দেয়, না বুঝেও হাততালি দেয়। কিন্তু এর হেতু তাদের অজ্ঞাত। জিজ্ঞেস করলে বলবে সবাই হাততালি দিয়েছে তাই আমরাও দিয়েছি।


পাদটীকা:- বৈষম্যবিলোপ আন্দোলনকে আমরা অকুণ্ঠিত সমর্থন দিয়েছি সম্মান নিয়ে বাচার জন্য। পিতৃতুল্য শিক্ষকদের লাঞ্চিত হতে দেখার জন্য আমরা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন দিই নি। শিক্ষকদেরকে লাঞ্চিত করার ঘটনা উদ্বেগজনক।  একটি জাতিকে মুর্খ রাখতে পারলে দাবিয়েও রাখা যায়, ইচ্ছেমতো চোখ রাঙানি যায়। বাজারদরে শিক্ষক লাঞ্চনাকাণ্ডের পিছনে সুগভীর ষড়যন্ত্রের নীলনকশা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। প্রতিবাদে সোচ্চার হোন। লাখো কণ্ঠে আওয়াজ উঠুক, বন্ধ করো এসব নোংরা খেলা, বন্ধ হোক সকল বেত্তমিজি। নতুবা মানুষ যে পন্থায় হাসিনাকে তাড়িয়েছে সেই একই পন্থায় তাদেরকেও তাড়াবে যারা শিক্ষকদের নিগৃহীত হতে ঘৃতাগ্নি দিচ্ছে। সাধু সাবধান।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বত্ব © ২০২৬ বাংলা মিরর | সম্পাদক : মোঃ খায়রুল ইসলাম সাব্বির