নবীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের জন্য আতঙ্কের প্রতীক হয়ে উঠেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম। অবৈধ বালু উত্তোলন, অনুমতিবিহীন মাটি কাটার মাধ্যমে কৃষিজমির টপসয়েল ধ্বংস, জমির শ্রেণি পরিবর্তন, নিবন্ধনবিহীন করাতকল, অতিরিক্ত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি এবং ভেজাল খাদ্যবিরোধী অভিযানে তিনি হবিগঞ্জ জেলার মধ্যে সর্বাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলায় যোগদানের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই তিনি ৭০টিরও বেশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন, যা চলতি সময়ে জেলায় সর্বোচ্চ। এসব অভিযানে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক দণ্ড প্রদান ও অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম গত বছরের ২৪ আগস্ট নবীগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি উর্বর কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন। অনুমতি ছাড়া ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে পুকুর খনন, কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এসব মোবাইল কোর্টে অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার নজির পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম বলেন, “কৃষিজমি ধ্বংস করে কেউ লাভবান হতে পারবে না। আইন ভাঙলে যেই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ মাটি কাটাসহ জমির শ্রেণি পরিবর্তনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে এসব অভিযান আরও জোরদার করা হবে।