Connect with us

আন্তর্জাতিক

ফিরবে কোথায় ফিলিস্তিনিরা?

Published

on

গাজায় ১৫ মাসের দীর্ঘ যুদ্ধ ধ্বংস ও বিপর্যয়ের এক করুণ চিত্র তৈরি করেছে। যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক প্রভাব পুরো উপত্যকাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ইসরাইলি হামলায় বিপুল হতাহতের পাশাপাশি, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজার অবকাঠামো। ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থাও। যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় কিছুটা স্বস্তি এলেও গাজা পুনর্গঠনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সাহায্য অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস গাজা ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলে নজিরবিহীন রকেট হামলা চালায়। এতে প্রায় ১২০০ ইসরাইলি নিহত হন। একইসঙ্গে ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এ হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল ওই দিন থেকেই গাজায় ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। 

প্রাথমিকভাবে, সংঘাত শুধু কয়েক সপ্তাহের জন্য চলতে পারে বলে ধারণা করা হলেও তা ১৫ মাস ধরে অব্যাহত থাকে।

গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ইসরাইলের নৃশংসতায় ৪৬ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। নিহতদের মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার শিশু। আহত ১ লাখ ১০ হাজার মানুষের একটি বড় অংশ এখন স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতার শিকার। 

এছাড়াও প্রায় ১০ হাজার মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হতাহতের পাশাপাশি ইসরাইলি হামলায় গাজার ৯০ শতাংশ বাড়িঘর ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মসজিদ, স্কুল, দোকানপাট এবং অফিসসহ বাদ যায়নি কিছুই। অঞ্চলটির ৮০ শতাংশ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। প্রায় ১৯ লাখ মানুষ এখন আশ্রয়শিবিরে রয়েছেন। যেখানে পর্যাপ্ত খাদ্য, পানির অভাবে জীবনযাপন করছেন তারা। এছাড়া তীব্র শীত ও অনাকাঙিক্ষত বৃষ্টি তাদের জীবন আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

অঞ্চলটির বেশিরভাগ হাসপাতাল ধ্বংস হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। নেই পর্যাপ্ত ওষুধ, চিকিৎসক এবং সরঞ্জামের ব্যবস্থা। হামলায় নিহত হওয়ার পাশাপাশি গাজার বাসিন্দারা নানা সংক্রামক রোগেও ভুগছেন। ২০২৪ সালে প্রায় ১২ লাখ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ এবং ৫ লাখের অধিক ডায়রিয়ায় আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড করা হয়। 

জোরদার ইসরাইলের, নিহত ৭৩

যুদ্ধের কারণে গাজাবাসী আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তার ওপরই নির্ভলশীল। কিন্তু ইসরাইলি বাধার কারণে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে গড়ে প্রতিদিন মাত্র ২৪টি ট্রাক গাজায় সাহায্য নিয়ে প্রবেশ করেছে। এর ফলে প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ চরম খাদ্য সংকটের পাশাপাশি মানবিক বিপর্যয়ে পড়ছে। 

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনলেও গাজা পুনর্গঠনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সাহায্য অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

কীভাবে বাস্তবায়ন হবে যুদ্ধবিরতি? 

গাজার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। প্রথম ধাপে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পাশাপাশি বন্দি বিনিময়ের কথা রয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের কার্যক্রম নিয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়া হলেও বাইডেন জানান, পরবর্তী পর্যায়ে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ হবে গাজায়।

আগামী ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে চুক্তিটি। প্রথম ধাপে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে ছয় সপ্তাহ। এ সময় গাজায় হামলা-সংঘাত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। যুদ্ধবিরতি শুরুর দিন ৩ জন জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। এরপর ৬ সপ্তাহে পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেয়া হবে আরও ৩৩ জনকে। এদের মধ্যে নারী, বয়স্ক এবং শারীরিকভাবে অসুস্থদের প্রাধান্য দেয়া হবে। 

এছাড়া গাজার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা ঘরে ফেরার অনুমতি পাবেন। পাশাপাশি প্রতিদিন ৬০০টি পর্যন্ত ত্রাণবাহী ট্রাক উপত্যকাটিতে প্রবেশ করতে পারবে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। 

যুদ্ধবিরতির সাতদিনের মধ্যে খোলা হবে রাফাহ সীমান্ত। আহত ফিলিস্তিনিরা চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যেতে পারবেন। এছাড়া মিশর-গাজার মধ্যকার ফিলাডেলফি করিডোর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর ৫০ দিনের মধ্যে পুরোপুরি সরে যাওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপ কবে থেকে শুরু হবে সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বিরতির প্রথম স্তর শেষ হওয়ার আগেই। এ চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ফিলিস্তিনি নেতার বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, বিরতির ১৬তম দিন থেকে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে বাইডেনের দাবি, বিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ হবে গাজায়।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জাতীয়7 days ago

সদর হাসপাতালে নার্সের বদলে আয়ার ইনজেকশন পুশ,জন্মের ২৪ ঘণ্টার মাথায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

নার্সের পরিবর্তে আয়া দিয়ে ইনজেকশন পুশ করানোর অভিযোগে জন্ম নেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় ফুটফুটে এক নবজাতক পুত্রসন্তানের মৃত্যু হয়েছে...

আন্তর্জাতিক7 days ago

শিশু যৌন নিপীড়ন: মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিল এফবিআই

মালয়শিয়ায় আটকের পর এক বাংলাদেশিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে মার্কিন ফেডারেল ব্যুরু অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। জোবাইদুল আমিন (২৮) নামের ওই বাংলাদেশির...

জাতীয়1 week ago

বাহুবল–নবীগঞ্জ সার্কেলের এএসপি জহিরুল ইসলামের বদলি

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল–নবীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জহিরুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের এক আদেশে তাঁকে...

জাতীয়1 week ago

সিলেটে মাজার প্রাঙ্গনে রাজনৈতিক শ্লোগান দেশে বিদেশে আলোচন-সমালোচনার ঝড়

৩৬০ অন্যতম হযরত শাহ জালাল (র.) মাজার জিয়ারত করতে এসে একটি নব্য রাজনৈতিক দলের সদস্যরা পবিত্র নগরী সিলেটে মাজার প্রাঙ্গনে...

জাতীয়1 week ago

জকিগঞ্জে সরকারি সড়কের ইট লুট, যুব জামায়াতের সেক্রেটারিসহ গ্রেপ্তার ৬

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কোটি টাকার ইট রাতের আঁধারে তুলে লুট-পাট করে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সাথে জড়িত...

জাতীয়2 weeks ago

সিলেটে কিশোর গ্যাং ‘বুলেট মামুন গ্রুপের’ তিন সদস্য আটক

সিলেটে অভিযান চালিয়ে ‘বুলেট মামুন গ্রুপ’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার অভিযান চালিয়ে শাহপরান...

জাতীয়2 weeks ago

মসজিদের টাকা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় মসজিদের তহবিলের হিসাব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ...

জাতীয়2 weeks ago

দুর্নীতিমুক্ত সেবার আহ্বান, হবিগঞ্জে, এম,পি জি কে গউছ।

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।। হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছ কর্মকর্তাদের শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত থেকে জনগণকে সেবা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।...

জাতীয়2 weeks ago

জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ: ছাত্রী হোস্টেলে বালতি ভর্তি কনডম, হল সুপারসহ দু’জনকে অব্যাহতি

ছাত্রী হোস্টেলে বালতি ভর্তি কনডম পাওয়ার ঘটনায় আন্দোলনের মুখে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের হল সুপার ও ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয়...

জাতীয়3 weeks ago

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু কবে

সরকার প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে ১৩টি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করবে। আগামী ১০...

স্বত্ব © ২০২৬ বাংলা মিরর | সম্পাদক : মোঃ খায়রুল ইসলাম সাব্বির