Connect with us

আইন - আদালত

বানিয়াচংয়ে হত্যা মামলায় সাংবাদিকের নাম

Published

on

গত ৫ আগস্ট বানিয়াচঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ১৬০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত রেল সেতু ডুবে যাওয়ার উপক্রম আরো ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে বানিয়াচং থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর এই মামলা শায়েস্তাগঞ্জে রেল সেতু ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় দায়ের করেন পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া হাসান মিয়ার বাবা ছানু মিয়া। মামলায় হবিগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান, অ্যাডভোকেট ময়েজ উদ্দিন শরীফ রুয়েলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে মামলায় দৈনিক সমকাল পত্রিকার বানিয়াচং প্রতিনিধি ও দৈনিক আমার হবিগঞ্জ

৬ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। বানিয়াচং- আজমিরীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন সে মামলার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজাহার ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট দুপুরে ছাত্র-জনতার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উপজেলার এল আর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে জড়ো হন কয়েক শ লোক। পরে তাঁরা একটি মিছিল নিয়ে বড় বাজার হয়ে থানার সামনে দিয়ে রওনা হন।

পথে ঈদগাহ এলাকায় তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা- কাটাকাটি হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন, হাসপাতালে আরও ছয়জনসহ মোট নয়জন নিহত হন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ গ্রামের মসজিদে মাইকে ঘোষণা দিয়ে খানার সামনে জড়ো হন।

একপর্যায়ে কয়েক হাজার মানুষ থানা ঘেরাও করেন। শুরু হয় ইটপাটকেল নিক্ষেপ। একপর্যায়ে খানা ভবনে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় খানার ভেতরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-সহ পুলিশের ১৫ থেকে ১৬ সদস্য আটকা পড়েন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ১০ মেথাকে ১৫ জন নেতা-কর্মী আটকা পড়েন। বিক্ষোভকারীদের বাওয়ায় খানায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।

থানা ঘেরাওয়ের খবর পেয়ে বেলা তিনটার দিকে জেলা সদর থেকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছায়। কিন্তু কোনোভাবেই সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিল না। এভাবে সময় গড়িয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতা থানা ঘেরাও করে রাখেন। এরপর মধ্যরাতে বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছসহ দলটির বেশ কিছু নেতা ঘটনাস্থলে গিয়ে লোকজনকে বোঝানোর চেষ্টা করেন।

কিন্তু লোকজন শুনছিলেন না। পরে ক্ষুদ্ধা লোকজন রাত একটার দিকে সেনাবাহিনীকে প্রস্তাব দেন, আওয়ামী লীগ নেতা ও বানিয়াচং উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়ন নয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হায়দারুজ্জামান খান ও খানার এসআই সন্তোষ দাশ চৌধুরীকে তাঁদের হাতে ছেড়ে দিতে। কিন্তু সেনাবাহিনী রাজি হয়নি। পরে সেনাবাহিনী জানায়, খানার ভেতরে ওই আওয়ামী লীগ নেতা নেই। পরে জেলা বিএনপি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে লোকজন শান্ত হন।

ওই দিন রাত ২টার দিকে খানার দ্বিতীয় তলায় অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্য ও নেতাদের উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাঁদের দের সেনাবাহিনীর গাড়িতে ওঠানোর সময় এসআই সন্তোষ দাশ চৌধুরীকে উপস্থিত লোকজন ছিনিয়ে নিয়ে সবার সামনে পিটিয়ে হত্যা করেন।

পরে লাশ নিয়ে বানিয়াচং বড় বাজার শহীদ মিনারের মাঠে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ভোররাতে লাশ থানার সামনে এনে ফেলে রাখা হয়। পর দিন সকাল ১০টার দিকে ক্ষুদ্ধ লোকজন লাশ থানার সামনে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখেন। দিনভর হাজারো মানুষ লাশ দেখতে থানা প্রাঙ্গণে ভিড় করেন।

এদিকে গাছে লাশ খোলানোর খোলানে খবর পেয়ে ৬ আগস্ট বেলা ২টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। লাশের ময়নাতদন্ত হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে সম্পন্ন হয়।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বত্ব © ২০২৬ বাংলা মিরর | সম্পাদক : মোঃ খায়রুল ইসলাম সাব্বির