Connect with us

আইন - আদালত

হবিগঞ্জে ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা

Published

on

হবিগঞ্জ শহরের তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় ছাত্রজনতার ওপর হামলার ঘটনায় আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত সোমবার হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উমেদনগর মোড়লহাটির বাসিন্দা, মৃত আতর আলীর পুত্র আল আমিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামী যারা

মামলায় মোট ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন—সাবেক এমপি আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলমগীর হোসেন চৌধুরী, হবিগঞ্জ সদর ৬ নং রাজিউড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদরুল করিম দুলাল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিবুর রহমান মাহি এবং ডাঃ পিন্টু আচার্য্য। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)-কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনার শুরু

সূত্র জানায়, সম্প্রতি হবিগঞ্জের তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় জুলাই আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্রজনতার ওপর হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, এ হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
এই হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠন হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতামত

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হামলাটি পরিকল্পিত ছিল এবং ছাত্রদের উপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি জানাচ্ছিলাম, কিন্তু কিছু বহিরাগত এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়।”

আসামিদের প্রতিক্রিয়া


মামলার অন্যতম আসামি চেয়ারম্যান বদরুল করিম দুলাল ও অন্যান্য অভিযুক্তরা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

পুলিশ যা বলছে

পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত শুরু করা হবে এবং নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি দেখা হবে। পিবিআই-এর এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক নিরপেক্ষ তদন্ত চালাবো এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই মামলার ঘটনায় হবিগঞ্জের রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন এবং রাজনৈতিক নেতারা একে ভিন্ন ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছেন। কেউ একে ন্যায়বিচারের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলছেন, আবার কেউ অভিযোগ করছেন যে, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা।

স্বত্ব © ২০২৬ বাংলা মিরর | সম্পাদক : মোঃ খায়রুল ইসলাম সাব্বির