হবিগঞ্জের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আবু জাহির ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২২ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন জেলার সিনিয়র স্পেশাল জজ জেসমিন আরা বেগম। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. এরশাদ মিয়া এ আবেদন করেন।
মো. এরশাদ মিয়া বলেন, অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আবু জাহির ও তার পরিবারের সদস্যদের নামের সম্পদ আয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। সম্পদ কেনাবেচার পাঁয়তারা চলছে বিধায় আদালতে ক্রোকের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। বিচারক তা মঞ্জুর করেছেন।
দুদকের অভিযোগ বলা হয়, আবু জাহির ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১০ কোটি ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৪ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজ মিলেছে। এর মধ্যে বাড়ি, গাড়ি ও জায়গা রয়েছে। এসব সম্পদ মো. আবু জাহির, স্ত্রী সাবেক জেলা পরিষদ চোরম্যান আলেয়া আক্তার, ছেলে ইফাত জামিল, মেয়ে আরিফা আক্তার মুক্তি ও ছোটভাই বদরুল আলমের নামে।
এতে আরও বলা হয়, ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি ও উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে জাহির এসব সম্পদ গড়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের দফায় দফায় সংঘর্ষের সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন গুলিবর্ষণ করে। এতে আন্দোলনকারী অনেকে আহত হন। একপর্যায়ে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে তারা আত্মরক্ষার্থে পালিয়ে যায়। পরে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা আবু জাহিরের বাসা ঘেরাও করে প্রধান গেটে ঢোকার চেষ্টা করলে বাসার বারান্দা থেকে আবু জাহিরের লোকজন গুলি চালালে কয়েকজন আহত হন। একপর্যায়ে বাসায় প্রবেশ করতে না পেরে তার লিজ নেয়া মসজিদের গ্যারেজ ও আশপাশের কয়েকটি দোকানে আগুন দেন বিক্ষুব্ধরা।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া অধিকাংশ হত্যা মামলায় আবু জাহিরকে প্রধান আসামি করা হয়।