হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার সর্বত্র জুড়ে চলছে টোলের নামে চাঁদাবাজি। এসব চাঁদাবাজদের প্রত্যক্ষ সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌরসভার প্রশাসক পল্লব হোম দাস। শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার নির্ধারিত কোন গাড়ির স্ট্যান্ড না থাকা সত্ত্বেও নিয়ম বহির্ভূতভাবে টোল আদায়ের জন্য দেওয়া হয়েছে ইজারা। সেই সুযোগে কতিপয় ব্যাক্তি ইজারার কাগজ দেখিয়ে শুরু করেছেন চাঁদাবাজি। শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় যাত্রীবাহি কিংবা পণ্যবাহী যেকোনো ধরনের গাড়ি প্রবেশ করলেই দিতে হয় চাঁদা। চাঁদা না দিলেই মারধর ও হয়রানির শিকার হতে হয় চালকদেরকে।
এ বিষয়ে ইউএনওর কাছে নালিশ করলে তিনি উল্টো সেনাবাহিনী এবং পুলিশ দিয়ে অভিযোগকারীদের হেনস্তার হুমকিও দেন।
জানা যায়, গত ২৯ জুলাই ও ২৯ আগস্ট দুই দফায় এক বিএনপি নেতার কাছে পৌরসভার স্ট্যান্ড ইজারা দেওয়া হয়। ওই ব্যক্তি ইজারা নিয়েই তার লোকজন কে দিয়ে সড়ক, রেল পার্কিং এবং রেলওয়ের জমিতে অবস্থিত বিভিন্ন স্ট্যান্ডে শুরু করেন চাঁদাবাজি। গত সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রেলওয়ের জমিতে অবস্থিত দেউন্দী-শায়েস্তাগঞ্জ সড়কের স্ট্যান্ডের প্রতিটি গাড়ি থেকে ১৫ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়।
চালকরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে হেনস্তা করে স্ট্যান্ড থেকে বের করে দেওয়া হয়। তারা বাধ্য হয়ে বিশ্বরোড এলাকায় গিয়ে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে তাদের একটি প্রতিনিধি দল শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে গিয়ে নালিশ করলে তিনি উল্টো তাদেরকে সেনাবাহিনী-পুলিশ দিয়ে হেনস্তার হুমকি দেন।
এ বিষয়ে একাধিক চালক জানান, গত এক মাস আগে হঠাৎ করে ইউএনও পল্লব হোম দাস তাদের উপর ১৫ টাকা করে টোল চাপিয়ে দেন। এ সময় তারা প্রতিবাদ জানালে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাদেরকে এক মাস পরে এটা বাতিল করে দেওয়া হবে বলে জানান।
কিন্তু পরবর্তীতে আবারও ইজারা দিয়ে টোলের নামে শুরু হয় চাঁদাবাজি। তারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে স্ট্যান্ড থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি তাদেরকে সেনাবাহিনী এবং পুলিশ দিয়ে হেনস্তার হুমকিও দেন ইউএনও।
শাহিন মিয়া নামে এক চালক বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করা হলে আমরা এটা দমন করি। কিন্তু বর্তমানে ইউএনও কিছু বিএনপি নেতাকে নিয়ে আবার সেটি চালু করেছেন। ইউএনও আওয়ামী লীগের লোক এটা আমরা সবাই জানি। তিনি চাচ্ছেন দেশে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে। যে কারণে আমরা তার কাছে গেলে তিনি আমাদেরকে সেনাবাহিনী-পুলিশ দিয়ে হয়রানি হুমকি দিয়েছেন।
এবিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক পল্লব হোম দাস বলেন, পৌরসভায় এসে সঠিক তথ্য নিয়ে যাবার জন্য অনুরোধ করা হলো। ইজারা বাতিল করা হয়েছে।