হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। বন্দিদের মৌলিক অধিকার হরণ থেকে শুরু করে ঘুষ বাণিজ্য, নিম্নমানের খাবার সরবরাহ, কারাগারের ভেতরে মাদক প্রবেশসহ নানা অনিয়মের চিত্র বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘটনা খুবই সীমিত।
হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দিদের সিট বরাদ্দ, সাক্ষাৎ প্রক্রিয়া, ফোন ব্যবহার, এমনকি খাবার সরবরাহেও ঘুষ নেওয়া হয়। কারাগারের স্টাফদের অনেকে ব্যক্তিগতভাবে উপকৃত হওয়ার জন্য বন্দিদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কারাগারের ক্যান্টিনে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রি করা হয়, যা বন্দিদের পরিবারের জন্য বড় এক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১ কেজি ওজনের বয়লার মুরগি খেতে ১১ শত টাকা বন্দিদের গুনতে হয়। এছাড়া কাঁচা সবজি খুচরা বাজারে ৪০ টাকা হলেও কারাগারের ভিতর চিত্র বিভিন্ন ৪০ টাকা সবজির দাম ৪০০ টাকা।
এ ছাড়া বন্দিদের জন্য নির্ধারিত মানসম্মত খাবার পরিবর্তে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হয়, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। যে কারনে সেপ্টেম্বরে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. নেছার আলমকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়, যা কারাগারে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ।
বর্তমানে জেলা কারাগারে সুপার মোঃ মুজিবুর রহমান যোগদানের পরে খাবারে মধ্যে ডালের মান কিছুটা উন্নত হলেও মিলেনা তালিকা অনুযায়ী বন্দিদের খাবার। ডালের মান উন্নত হলেও দূর্নীতি বেড়েছে আগের থেকে বেশি।
এমনকি জেল সুপার মি. মুজিবুর যোগদানের দুই মাসের মাথায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জেলা কারাগারে আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ভুয়া জামিননামার মাধ্যমে মাদক মামলার চার আসামিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় কারা প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদ্য জেল থেকে মুক্তি পওয়া একজন জানান, জেলের খাবর মুখে নেয়ার মতো না ডাল কিছু টা ভালো হলেও, বাকি সব কিছুতে দূর্নীতি ক্যান্টিন থেকে ছোট একটি বাটি দিয়ে তরকারি কিনতে হলে ৮০ টাকার লাগে ২ পিস মাংস থাকে যা খুবই নিম্ন মানের । যাদের পরিবার সচ্ছল তারা শুধু কিনে খাওয়ার ক্ষমতা আছে। এমনকি হসপিটালে বরাদ্দ বন্দিদের ঔষধ বাহিরে বিক্রি করে দেয়া হয় শুধু গ্যাসের এবং কৃমির ঔষধ দেয়া হয় যা খুব নিম্নমানের। কারা হাসপাতালের বেড ভাড়া দেয়া হয় আওয়ামী রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের কারাগারে কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে বেড খালি থাকে না, মাদকের বিষয়ে জনতে চাইলে তিনি বলেন, টাকা খরচ করলে গাঁজা পাওয়া যায় কয়েদিদের দিয়ে বিক্রি করা সুবেদাররা এবং কিছু মাদকাসক্ত কনস্টেবলরা জেলে এক পুরিন্দা গাঁজা ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে সুপার মুজিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান আমি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসাবে সবসময় ভালোই বলবো, আমিতো বলবো এসবের কিছুই ঘটেনাই কিন্তু আমি এই দিকে যাইমো না, আমার কথা হইলো আপনারা ভালো কইরা যাচাই বাচাই করেন, কইরা যদি মনে করেন সত্যতা পান আমার কিছু বলার নাই। আর যদি সত্যতা না পান সেই বিচার আপনাদের। আমি বলবে যে আপনার একটু যাচাই বাঁচাই কইরা নেন।