Connect with us

জাতীয়

নবীগঞ্জে কিস্তির টাকা দিতে না পারায় বসত ঘরে তালা

Published

on

নবীগঞ্জে ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধে সাময়িক অক্ষমতায় পড়ায় এক বৃদ্ধা মায়ের বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্র্যাক প্রগতি অফিসের এক ফিল্ড অফিসারের বিরুদ্ধে। ৩ দিন পর পুলিশি হস্তক্ষেপে অবশেষে ঘরে ফিরতে পেরেছেন ওই অসহায় নারী। ঘটনাটি ঘটেছে নবীগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব তিমিরপুর গ্রামে।

অভিযোগকারী পরিবারের সদস্য অরবিন্দু আচার্য্য জানান, তিনি ব্র্যাক প্রগতি বাজার মার্কেট অফিস, নবীগঞ্জ শাখা (মালিক টাওয়ার, শেরপুর অফিস) থেকে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তারিখে ২ লক্ষ টাকার ঋণ গ্রহণ করেন। নিয়মমাফিক মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের কিস্তি তিনি পরিশোধ করেন। তবে জীবিকার তাগিদে চলতি জুন মাসে তিনি বাড়ি না থাকায় কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এরই জেরে গত ২৪ জুন (মঙ্গলবার) সকালে ব্র্যাকের ফিল্ড অফিসার সুরঞ্জিত পুরকায়স্থ কিস্তি আদায়ের জন্য অরবিন্দুর বাড়িতে যান। কিন্তু বাড়িতে তিনি অনুপস্থিত থাকায় তার বৃদ্ধা মা জানান, অরবিন্দু বাড়িতে নেই। পরদিন ২৫ জুন (বুধবার) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে আবারও সুরঞ্জিত পুরকায়স্থ সেখানে গিয়ে বৃদ্ধা মাকে অনুপস্থিত পেয়ে কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা আইনি পদক্ষেপ ছাড়াই বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে চলে যান।

পরে সকাল ১১টার দিকে বৃদ্ধা মা বাড়িতে ফিরে এসে তালাবদ্ধ ঘর দেখতে পান। প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানতে পারেন, ব্র্যাক অফিসার সুরঞ্জিত কিস্তি না পাওয়ায় এ তালা দিয়েছেন। বিষয়টি তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে নবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্তে থানার এএসআই হিল্লুল তালুকদার সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন। এরপর ২৭ জুন (শুক্রবার) পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তালা খুলে বৃদ্ধা নারীকে ঘরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধা মা এবং তার পরিবার ব্র্যাকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের অনেকেই বলেন, একটি এনজিও কর্মী কীভাবে একজন অসহায় নারীর ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিতে পারে—এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন ও আইনবহির্ভূত কাজ। ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকিও দিয়েছেন এলাকাবাসী।

Exit mobile version