Connect with us

রাজনীতি

যুবলীগ নেতা কাশেম ঘুরছেন প্রকাশ্যে

Published

on

বছর দশেক আগেও ভাড়ায় চালাতেন অন্যের মাইক্রোবাস। একসময় নুন আনতে যার পান্তা ফুরানো অবস্থা ছিল তিনি এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক। শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার মহলুলসুনাম এলাকায় প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করেছেন  বহুতল ভবন।

একই এলাকায় রয়েছে ৫ ও ২২ শতাংশের দুটি প্লট যার বর্তমান মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা এছাড়াও ফরিদপুর মৌজায় কিনেছেন ৩০ শতাংশের একটি জমি। এসব ছাড়াও নামে বেনামে রয়েছে অন্তত ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি। আর এর সবকিছুই তিনি করেছেন সাবেক এক সচিব ও জেলা আওয়ামীলীগের একাধিক নেতার ঘনিষ্ঠজন পরিচয়ে বিগত ৭ বছরে। 

মাইক্রোবাসের ড্রাইভার থেকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে ওঠা ওই ব্যক্তির নাম কাসেম মিয়া। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আদ্যপাশা গ্রামের মৃত আব্দুল হেকিমের ছেলে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৩-৪ সালের দিকে রমিজ টিটি নামে একব্যক্তির মাইক্রোবাসে হেলপারি দিয়ে শুরু হয় তার কর্মজীবন। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিনের মাইক্রোবাস চালান। এ সময় পরিচয় হয় সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায়ের সঙ্গে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে মাইক্রোবাস চালানো বাদ দিয়ে শুরু করেন ঠিকাদারি। জেলা আওয়ামীলীগের এক নেতা ও সাবেক সচিবের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব বিস্তার করে ভাগিয়ে নিতে থাকেন একেরপর এক কাজ।

ঠিকঠাক মত কাজ না করেও দলীয় ক্ষমতা ও সাবেক সচিবের প্রভাব দেখিয়ে উত্তোলন করেন বিল। আওয়ামী লীগ নেতা ও বিভিন্ন দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের মনোরঞ্জনের জন্য নিয়মিত নারী ও মাদক সাপ্লাইয়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, কাশেম বিভিন্ন দপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা এবং জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়মিত নারী ও মাদক সাপ্লাই দিয়ে তাদের মনোরঞ্জন করতেন। সেই সুবাদে সখ্যতা গড়ে তুলে ভাগিয়ে নিতেন বড় বড় কাজ, হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। এছাড়াও সাবেক সচিব অশোক মাধব রায়ের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে উত্তোলন করে নিতেন বিল।


হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগের সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত যুবলীগনেতা কাশেম এলজিইডি, শিক্ষা প্রকৌশলসহ বিভিন্ন দপ্তরের কাজ বাগিয়ে নিতে ব্যবহার করতেন সেলিমের প্রভাব। কোন কর্মকর্তা তার কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুললে সাবেক সচিবের কাছের লোক পরিচয় দিয়ে বদলি সহ শাস্তির হুমকি দিতেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে জাফলং এলাকার একাধিক পাথর ব্যবসায়ীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।


সবশেষ, গত ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট শায়েস্তাগঞ্জে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেও এখনো রয়েছেন অধরা।

প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোয় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে। বর্তমানেও আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন ও বিভিন্ন নাশকতমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত করছেন গোপন বৈঠক।  প্রায়ই হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গঙ্গানগর এলাকার ফারুক মিয়ার বাড়িতে গোপন মিটিং এ অংশ নেন কাশেম, সাইফুলসহ কতিপয় যুবলীগ নেতা। সেখানে পলাতক আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের সাথে ভিডিও কলে বিভিন্ন পরিকল্পনা করেন তারা।


দ্রুত সময়ের মধ্যে  তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

স্বত্ব © ২০২৬ বাংলা মিরর | সম্পাদক : মোঃ খায়রুল ইসলাম সাব্বির