Connect with us

জাতীয়

লাখাইয়ে তীব্র লোডশেডিং, ভোগান্তিতে ৪০ হাজার গ্রাহক

Published

on

লাখাই উপজেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। গত কয়দিনে লাখাইয়ে প্রচন্ড গরমে মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে লোডশেডিং। এতে করে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে উপজেলার প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহকগণ। গত কয়েকদিন লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় থাকলেও ইদানিং সকাল থেকে শুরু হয় বিদ্যুতের ভেলকিবাজি। চলে শেষ রাত পর্যন্ত। বিদ্যুতের এমন ভেলকিবাজিতে সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।সেই সাথে অতিরিক্ত তাপদাহের কারণে বয়োবৃদ্ধ এবং শিশুরাভুগছেন বিভিন্ন অসুখে। এছাড়াও বিদ্যুতের এই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের ফলে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ নির্ভর উৎপাদনমুখী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ডে। এছাড়াও সেবা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের। এদিকে উপজেলা জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ জানায়, উপজেলা জুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ৮ থেকে ৯ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রীড থেকে মিলছে ২ থেকে ৩ মেঘাওয়াট। ফলে অস্বাভাবিক লোডশেডিং হচ্ছে। 

শু়ভ নামে একজন জানান, সকাল ১২টায় বিদ্যুৎ গিয়েছিল দুপুর ২টায় বিদ্যুৎ আসছে। তেঘরিয়া বাজারের ব্যাবসায়ী কামরুল জানান, দোকান খোলারপর বিদ্যুৎ আসা যাওয়ার মধ্যেই থাকে, এতে ব্যাবসায় বিঘ্ন ঘটছে। লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া এক রুগীর স্বজন বলেন, আমার শিশু ভাতিজা ডাইরিয়া রুগে আক্রান্ত প্রচন্ড তাপদাহ ও গরম পড়ার কারনে, ২দিন যাবত হাসপাতালে ভর্তি, বিদ্যুৎ রাতে দিনে কমপক্ষে ৮/১০ বার আশা যাওয়া করে, একঘন্টা দিলে ২ঘন্টা থাকে না। বিদ্যুৎ নিয়মিত না থাকায় রুগী সুস্থ হবে দুরের কথা আরও অসুস্থ হচ্ছ। আমি নিজেই অসুস্থবোধ করছি। রায়হান নামে একজন বলেন, রাতে যখন ঘুমাতে যাই তখনই বিদ্যুৎ চলে যায়।

এই বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা বাণিজ্যসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে ফ্রীজে থাকা মাছ মাংসসহ ইত্যাদি নষ্টেয় পরিণত হচ্ছে। বামৈ উচ্চবিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, অসহনীয় গরমে ক্লাস করাতে সমস্যা হচ্ছে, গরমের জন্য শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম, বাংলাদেশে এত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থাকা সত্যেও এই অসহনীয় হারে লোডশেডিং হচ্ছে বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখজনক। 

এ ব্যাপারে লাখাই জোনাল অফিসের ডিজিএম আসাদুজ্জামান অনুজ জানান, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবেলায় লোড বরাদ্দ বৃদ্ধিকরণে  হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ হতে পত্র প্রদান করা হয়েছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধির।  আশা করছি খুব দ্রুত এর সমাধান হবে। 

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Exit mobile version