Connect with us

দূর্নীতি

কর্মচারী সিন্ডিকেটে জিম্মি নাগরিক সেবা

Published

on

ছবি | কর্মচারী সিন্ডিকেট

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় বছরের পর বছর একই কর্মস্থলে চাকরি করার সুবাদে গড়ে উঠেছে এক বেপরোয়া কর্মচারী সিন্ডিকেট।

নাগরিক সেবা দেয়ার বদলে তারা নাগরিক হয়রানি, খেয়ালখুশি মতো অফিস করা, দায়িত্বে অবহেলা, ঘুস বাণিজ্যসহ নানান অনিয়মে ব্যস্ত। এসব কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠলেও কার্যত কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।


জানা যায়, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা ২০১৩ সালে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। বর্তমানে এখানে ১৫ জন স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া বাকিরা সবাই বছরের পর বছর ধরে একটানা চাকরি করছেন একই কর্মস্থলে। এর মাঝে কেউ কেউ পৌরসভা গঠনের শুরু থেকেই কর্মরত রয়েছেন। বাকিরা যোগদানের পর থেকেই রয়েছেন এখানে। অথচ সরকারি বিধি অনুযায়ী, ৩ বছরের বেশি সময় একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগ নেই কোনো কর্মচারীর।


স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সময়ে নির্বাচিত মেয়রদেরকে ম্যানেজ করেই দীর্ঘদিন ধরে রয়ে গেছেন তারা। পৌরসভার প্রধান সহকারী আতাউর রহমান, কার্য সহকারী নুরুল ইসলাম, টিকাদান সহকারী কামাল উদ্দিন ও জিয়া উদ্দিনের মাধ্যমে পরিচালিত সিন্ডিকেটের বাহিরে কোন কর্মচারী অবস্থান নিলে তাকে নানাভাবে হেনস্থা করা হয়। তাদের চাহিদা মত সুবিধা না দিলে ভোগান্তি পোহাতে হয় সেবাগ্রহিতাদের। এমনকি বাহির থেকে আসা কর্মকর্তাদেরকে জিম্মি করে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে চক্রটি। কোন কর্মকর্তা তাদের অনৈতিক প্রস্তাবে অনীহা প্রকাশ করলে তাকে হেনস্তা সহ মারধরের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়।


অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রধান সহকারী আতাউর রহমান যোগদানের পর থেকেই আছেন এখানে। শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি হলেও পৌরসভার অর্থ নয়-ছয় করে তৈরি করেছেন বিলাসবহুল বাড়ি। কার্য-সহকারী নুরুল ইসলাম আরও এক ধাপ এগিয়ে, তিনি একাধারে পাঁচ বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও উত্তোলন করেছেন বেতন-ভাতা। সাবেক মেয়রের আত্মীয় হওয়ার সুবাদে নিয়ন্ত্রণ করছেন পুরো সিন্ডিকেট। হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। টিকাদান সুপারভাইজার কামাল উদ্দিন এর বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ, জন্মনিবন্ধন ইস্যু ও সংশোধনের ক্ষেত্রে ঘুষ বাণিজ্য, নাগরিক হয়রানি তার নিত্য নৈমিত্তিক কাজ। তার বিরুদ্ধে একাধিক বার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে এখনো রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে। অনিয়ম করে করেছেন বিশাল সম্পত্তি, কিনেছেন ২টি সিএনজিও। এছাড়াও যুবলীগ নেতা জিয়া উদ্দিন মাস্টার রোলে চাকরি করলেও সচিবের আস্থাভাজন হওয়ায় ভোগ করছেন বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা।


বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বড় আকারের বদলি কার্যক্রম চললেও পৌরসভাগুলো সেই প্রক্রিয়ার  বাইরে থেকে গেছে। এর ফলে সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার একাধিক কর্মচারী জানান, কার্যসহকারী নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে পৌরসভার কার্যক্রম। প্রশাসক এবং সচিব তাদের কাছে অসহায়।
অন্য আরেকজন বলেন, “এখানে দীর্ঘদিন ধরে যারা কর্মরত, তারা নিজেদের মধ্যে একটা সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। তারা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো অফিস করেন। মানুষকে সেবা দেওয়ার কোন মানসিকতাই তাদের মধ্যে নেই।”

৫ বছর অনুপস্থিত থেকেও চাকরি বহাল!


শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা নুরুল আমীন বাংলা মিররকে বলেন, এই পৌরসভার ২৮ বছরের অনিয়ম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কতিপয় কর্মচারীগনের জন্য বর্তমান পৌরপরিষদ ও আমি চক্ষুশুল হয়ে উঠেছি। সর্বোপরি তাদের অনিয়মের জন্য বদলী হওয়ার আবেদন করে চেষ্টা করে যাচ্ছি। পৌরসভার উন্নয়নের স্বার্থে ৫/৬জন কর্মচারীকে দ্রুত বদলীর উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

পৌরসভার নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা আনতে এবং জনভোগান্তি কমাতে কর্মচারীদের নিয়মিত বদলি ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন শায়েস্তাগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজ।

স্বত্ব © ২০২৬ বাংলা মিরর | সম্পাদক : মোঃ খায়রুল ইসলাম সাব্বির