মজার বিষয় হলো কি জানেন? একজন মানুষ যখন বিপদে পড়ে তখন আশেপাশের মানুষ বলে ওই দেখ সে তার পাপের ফল পাচ্ছে! আর সে যখন নিজেই বিপদে পড়ে! তখন বলে আমি আল্লাহর পরীক্ষার সম্মুখীন। আল্লাহ আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে!
একজন সৎ মানুষ সৎ থাকতে হলে তাকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়।তার কর্মস্থলে,তার ব্যক্তি জীবনে, সামাজিক জীবনে। সব জায়গায় তাকে বিভিন্নভাবে সেই পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। তাছাড়া, একজন সৎ মানুষ হতে গেলে তার আশেপাশে অনেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে চায় এবং তাকে অসৎ বানানোর জন্য সব ধরনের কৌশল অবলম্বন করে। যেমন ধরুন একজন মানুষ অফিসে জব করে। সে সৎ নীতিবান, কিন্তু তার চারদিকে দুর্নীতিবাজ এবং ঘুষখোর অফিসারে ভরা এবং সবাই তাকে ঘিরে ধরবে। কারণ তার জন্য অন্যেরা অসৎ কাজ করতে পারতেছে না। এরকম আমি অনেক দেখেছি। আমি নিজেও এরকম বাস্তব জীবনের সাক্ষী। আপনি যদি নাও চান আপনাকে জোর করবে, বাধ্য করবে অথবা শেষ পর্যন্ত আপনাকে চুপ থাকতে বলবে। বলবে এত সৎ দেখাইও না তো! তুমি খাও না খাও তোমার ব্যাপার।তবে চুপ থাকো। এই হচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতি।
সমাজে দেখবেন মানুষ যতটা তাদের মূল্যবান সময় ব্যয় করে শুধুমাত্র অন্যের সমালোচনা করে। তার শতভাগের এক ভাগও যদি সে নিজের কাজে ব্যয় করতো তাহলে তার আরো অনেক উন্নতি হতো।কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ সময় নষ্ট করে অন্যের সমালোচনা করে।এতে তার নিজের বড় ক্ষতি হচ্ছে সেটা কখনো বুঝতে পারছে না। একটা মানুষ যদি শুধু অন্যের সমালোচনা করে সবসময় পরনিন্দা করে গীবত করে। মনে রাখবেন সে আপনার অবর্তমানে আপনার বিরুদ্ধেও একই কাজ করে সো তাকে বিশ্বাস করার কোন অর্থ হয় না। তাই এসব মানুষ থেকে সব সময় দূরে থাকাই উত্তম।কারণ এসব মানুষ সমাজের একটা ব্যাধি স্বরূপ। সেই তো উত্তম যে মানুষ আত্মসমালোচনা করতে পারে।নিজের ভুল বুঝতে পারে।
দেখতে পাওয়া যায় গ্রামের ছোট্ট চায়ের দোকানে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা পরের সমালোচনা।বিভিন্ন মানুষকে নিয়ে আজেবাজে মন্তব্যে ব্যস্ত থাকে এক শ্রেণীর মানুষ। তাদের এই মূল্যবান সময় ব্যয় করছে।আপসোস যদি তারা ঐ সময়টাতে ভালো কাজ করত।তাহলে তাদের জীবন কতই পরিবর্তন হতো। কিন্তু তারাএমন একটা অসুস্থ পরিবেশে তারা সৃষ্টি করছে তাদের অজান্তে।
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এসব মানুষ কাছ থেকে শেখার বিন্দুমাত্র কিছু নেই।কারণ তাদের জীবনটাই কেটে যায় পরনিন্দা পরচর্চায়। তারা এতই পিছনে পড়ে যায় যে তারা আর উঠে দাঁড়াতে পারে না। ছোট্ট জীবন, ক্ষণস্থায়ী এই জীবনে মানুষ কত কিছু না করে। আমরা সবাই জানি যে আমরা মারা যাব। তারপরও অন্যায় অপরাধ দুর্নীতি! কেউ একবিন্দুও ছাড় দেয় না।
মজার বিষয় হলো কি জানেন একজন মানুষ যখন বিপদে পড়ে তখন আশেপাশের মানুষ বলে ওই দেখ সে তার পাপের ফল পাচ্ছে! আর সে যখন নিজেই বিপদে পড়ে! তখন বলে আমি আল্লাহর পরীক্ষার সম্মুখীন। আল্লাহ আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে ।এই হচ্ছে তফাৎ ! আমাদের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এতই নিচে নেমে যাচ্ছে দিনদিন যে কেউ কখনই অন্যের ভালো শয্যই করতে পারছে না।অথচ যেখানে উচিত ছিল।একজন মানুষ যখন ভালো কাজ করে ভালোর জন্যে, তখন আশেপাশের সবাই তাকে উৎসাহ দেয়া।যেন আরো দশ জন মানুষ ভালো কাজ করে কিন্তু আমাদের হলো উল্টোটা! যে একজন মানুষ ভালো কাজ করতে গেলে আরো পাঁচজন মানুষ তাকে টেনে নিচে নামাবে এবং তার দোষ খোঁজার চেষ্টা করবে। তাকে নানাভাবে অপমান অপদস্থ করার চেষ্টা করবে। এসব মানুষরা যেভাবে কারো সম্মানের পাত্র হতে পারে না এবং তারা সমাজের জন্য কখনো ভালো কিছু বয়ে আনতে পারে না। তাদের জীবন জীবিকা এবং তাদের জীবনে তারা কখনো কারো জন্য কোন ভালো কিছু করার সেই সমর্থ্য রাখেনা এবং তারাই বেশিরভাগই সমালোচনায় লিপ্ত থাকে। তাদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং সমাজের ব্যাধি থেকে দূরে থেকে সমাজকে এসব মানুষ থেকে মুক্ত রাখা উচিত।
এরকম মানুষের সংখ্যা আমাদের সমাজে নিহাত কম নয়। যারা সব সময় অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায় পরনিন্দা করে, সমালোচনা করে অথচ নিজের মধ্যে দুনিয়ার দোষ ! মানেই হচ্ছে ওরকম আরকি! যেমন চালুন যেমন সুঁইকে বলে তোর পাছায় ছিদ্র কেন? সো এরকম অনেক কারণ আছে যার কারণে আমাদের সমাজ পিছিয়ে পড়ছে। দিন দিন উপরের দিকে উঠার জন্য বড় বাধা! কারণ একটা সন্তান একটা শিশু ওরা বড়দের কাছ থেকে বা তার সিনিয়র মানুষদের কাছ থেকে শিখবে কিন্তু তারা যখন ওদের কাছ থেকেই শেখার পরিবর্তে বাধার সম্মুখীন হয় তখন সমাজে এর অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি হয়…..