Connect with us

জাতীয়

লাখাইয়ে রুপচাঁদা বলে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ  পিরানহা 

Published

on

লাখাই উপজেলার মোড়াকরি মাছবাজারসহ বিভিন্ন হাট বাজারগুলোতে সামুদ্রিক রূপচাঁদা মাছ বলে প্রকাশ্যে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে নিষিদ্ধ ও বিষাক্ত পিরানহা। গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছে রুপচাঁদা মাছ বলে বিক্রি হচ্ছে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এ পিরানহা। অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল আর ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দাম থাকার কারণে কিছু পরিবার না জেনে পিরানহায় ক্রয়ে ঝুঁকছে। গতকাল বুধবার সকালে মোড়াকরি মাছ বাজারে পিরানহা মাছ বিক্রির ঘটনাঘটেছে। কিছুদিন পর পর এ বাজারে পিরানহা বিক্রি হয় বলে জানাগেছে। স্থানীয়রা বলেন এ্যালমুনিয়াম বোল ও প্লাস্টবকের ক্যারেটে

 সাজানো এই মাছ খুচরা কেজি ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খবর পেয়ে এ প্রতিবেদক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলে এ নিষিদ্ধ পিরানহা 

মাছ বিক্রেতদের উপস্থিত পাননি। একটি অসাধু চক্র এই মাছ মোড়াকরি মাছবাজারসহ অন্যান্য হাট-বাজারগুলোতে এনে থাকে। এ ছাড়া সামুদ্রিক রুপচাঁদা বলে গ্রামে গ্রামে নিয়ে ফেরি করে বিক্রি করে গুটি কয়েক অসাধু মাছ ব্যবসায়ী।

 জানা যায়, মাংসখেকো পিরানহা সাধারণত দুই প্রকার। ব্ল্যাক বেলি পিরানহা (কালো পেটওয়ালা) ও রেড বেলি পিরানহা (লাল পেটওয়ালা)।এ মাছের প্রধান আবাসস্থল মূলত দক্ষিণ আমেরিকা, ব্রাজিলসহ কয়েকটা দেশ। সম্প্রতি দেশে বিভিন্ন পুকুরে স্বল্পপরিসরে আর গোপনে এই মাছ চাষ হয়, মূলত এই পিরানহাগুলোই গ্রাম গঞ্জে

 বিক্রি হয়ে থাকে। এটি হিংস্র এবং রাক্ষুসে মাছ। মানুষখেকো মাছ হিসেবে পরিচিত ধারালো দাঁত আর প্রায় মানুষের মতো জিহ্বা থাকার কারণে সে তার শরীরের ১০ গুণ বেশি শক্তিতে কামড় দিতে সক্ষম। সুত্রে বলছে, ৩০টি মাছ একটি হরিণকে খেতে সময় নেয় মাত্র ১ ঘণ্টা। এ মাছের এমন কিছু বিষক্রিয়া আছে যা আমাদের পাকস্থলি বিনষ্ট করার প্রধান হাতিয়ার। এক বোতল অ্যালকোহলের চাইতেও এ মাছের ৫০ গ্রাম ওজনের একটি অংশ বেশি ক্ষতিকর। পিরানহা মাছের চর্বি আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে। এ মাছে থাকা ফসফেট আমাদের মূত্র প্রদাহ সৃষ্টি করে, নববিবাহিত নারীর বন্ধ্যত্ব সৃষ্টির অন্যতম কারণ। প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যালসিয়াম ও রক্ত বের করে দেয়। পিরানহা মাছ খেলে মানসিক সমস্যাসহ মানুষের দেহে নানান রোগের সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ সরকার এ মাছকে ২০০৮ সালে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

পিরানহা মাছ বিক্রির ঘটনাটি লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা সুলতানার ব্যাবাহৃত অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে ক্ষুদেবার্তায় জানানে হয়েছে। 

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্বত্ব © ২০২৬ বাংলা মিরর | সম্পাদক : মোঃ খায়রুল ইসলাম সাব্বির